নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: সরকারী মহিলা কলেজে শিক্ষার্থীদের মোবাইল আটক রেখে ফেরত না দিয়ে পরীক্ষার্থীদের বহিষ্কার করা হুমকি দিলেন অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক মোঃ শফিকুল ইসলাম।
শনিবার (১৪ জুলাই) বিকেল সোয়া ৬ টায় সরকারী মহিলা কলেজে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের এ বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়।

এসময় পরীক্ষার্থীরা স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের বিষয়টি জানালে তারা কলেজে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি শিক্ষকদের কাছে জানতে চাইলে ওই শিক্ষক গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে অসদাচরন করে কলেজ থেকে চলে যেতে হুমকি প্রদান করেন। শুধু গণমাধ্যম কর্মীদের সাথেই নয় উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সাথেও একই আচরন করে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা আরো বেশী বিক্ষুব্দ হয়ে উঠে।


ঐসময় সেখানে উপস্থিত শীতলক্ষ্যা ফাঁড়ির ইনচার্জ শাহাদাত হোসেন তাকে বলেন, পরিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন গুলো দিয়ে দিন। নয়তো তারা আরো বেশী বিশৃঙ্খলা বা ভাংচুর করে তাহলে এর দায় দ্বায়িত্ব কে নিবে। একথার প্রেক্ষিতে শিক্ষক শফিকুল ইসলাম শীতলক্ষ্যা ফাঁড়ির ইনচার্জ শাহাদাত হোসেনকে বলেন, আপনি কে ? অথচ তখন তিনি শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দ্বায়িত্ব পালন করছিলেন।

ওই শিক্ষক আরো বলেন, শিক্ষার্থীরা ভাংচুর করলো না কি করলো সেটা আমি নই আপনাদের দেখার বিষয়। প্রয়োজনে তারা এখনতো দূরের কথা ৩দিন এমনকি ৩ মাস পর মোবাইল ফেরত পাবে।

এসময় বিএসএস এর শেষ বর্ষের কয়েকজন পরিক্ষার্থী এ প্রতিনিধিকে জানায়, পরীক্ষার হলে প্রবেশের পূর্বেই আমাদের মোবাইল গুলো সংরক্ষন করার কথা থাকলেও শিক্ষকরা তা করেনি। পরবর্তীতে ক্লাস রুমে পরিক্ষা শুরু হওয়ার পূর্বে শিক্ষকরা মোবাইল গুলো আমাদের কাছ থেকে নিয়ে নেয় এবং বলেন পরিক্ষা শেষে যারা যার মোবাইল ফেরত দেয়া হবে। কিন্তু পরিক্ষা শেষে মোবাইল আনতে গেলে প্রভাষক শফিকুল ইসলাম বলেন, মোবাইল নিবে না বহিষ্কার হবে। এমনই কথায় পরিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় মোবাইল গুলো ফেরত পায় শিক্ষার্থীরা। উপরোক্ত ঘটনার সময় অনেক পরিক্ষার্থী জানায়, কারো মোবাইল, ব্যানিটি ব্যাগ, ব্যাগে রাখা নগদ টাকা, চেক বই হারিয়ে যায়। যা আর ফেরত পায়নি পরিক্ষার্থীরা। এব্যাপারে পরিক্ষার্থীরা অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এর জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করে ওই শিক্ষকের অপসারন দাবী করে। অন্যথায় ওই শিক্ষক দ্বারা পরিক্ষায় অনুত্তীর্ণ হওয়ার আশংকা করছে পরিক্ষার্থীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here