এর মধ্যে একটি বাড়ি থেকে পুলিশের দিকে গুলি ও গ্রেনেড ছোড়ার খবর পাওয়া গেছে।

র‌্যাবের শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের অধিনায়ক এএসপি মাইনুদ্দীন জানান, একটি বাড়ি মৌলভীবাজার পৌরসভার বড়হাট এলাকায়। অন্যটি সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের সরকার বাজারের কাছে ফতেহপুর গ্রামে।

জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বুধবার ভোরে স্থানীয় পুলিশ ওই বাড়ি দুটি ঘিরে ফেলে জানিয়ে মাইনুদ্দীন বলেন, “র‌্যাব সদস্যরা সেখানে গেছেন। ঢাকা থেকে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের একটি দলও এসেছে।”

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের ওই দলের সঙ্গে আছেন উপ কমিশনার মহিবুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, সীতাকুণ্ড ও সিলেটে জঙ্গি আস্তানার খোঁজ মেলার পর তদন্তে মৌলভীবাজারের এই দুই বাড়ির তথ্য পাওয়া যায়।

“বড়হাটের ওই বাড়ির সন্ধান পাওয়া যায় গতকাল রাতে। পরে ভোরের দিকে সরকার বাজারের বাড়িটির খোঁজ পাওয়া যায়।”

মহিবুল ইসলাম বলেন, “সরকার বাজারের ওই বাসায় যাওয়ার পর ভেতর থেকে গ্রেনেড ও গুলি ছোড়া হয়। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে।”

পুলিশের বিশেষায়িত এই ইউনিটের কর্মকর্তা বলেন, তারা দুটো বাসা ঘিরে রেখেছেন এবং ভেতরের সন্দেহভাজন জঙ্গিদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছেন।

“তারা এখনও কোনো কথা বলেনি। আমরা অপারেশনাল স্ট্র্যাটেজি অনুযায়ী তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করব।”

অভিযানের অংশ হিসেবে বড়হাট ও আশপাশের এলাকার গ্যাস এবং সরকার বাজার এলাকার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বাড়ি দুটির মালিক সাইফুর সাব্বির  ও আতব্বর মিয়া নামের দুই ব্যক্তি। তারা একই পরিবারের সদস্য এবং দুজনেই লন্ডন প্রবাসী। দুই বাড়ির দূরত্ব ১৮ কিলোমিটারের মত।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়িতে আতিয়া মহল নামের এক বাড়ি ঘিরে গত ২৩ মার্চ গভীর রাতে একইভাবে অভিযান শুরু করেছিল পুলিশ। পরে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডোরা শনিবার সকালে শুরু করে চূড়ান্ত অভিযান- ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’।

ওই অভিযান শেষে আতিয়া মহলের ভেতরে এক নারীসহ চার জঙ্গির লাশ পাওয়া যায়। এর মধ্যেই ওই বাড়ির এক কিলোমিটারের ভেতরে জোড়া বিস্ফোরণে নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ছয়জন।

মঙ্গলবার রাতে সেনাবাহিনী অভিযান সমাপ্ত ঘোষণার পর ১২ ঘণ্টা পার না হতেই পাশের জেলা মৌলভীবাজারে নতুন অভিযান শুরু হল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here