নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: বিএনপি থেকে আওয়ামীলীগে যোগ দিয়ে হঠাৎ দলটির কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য বনে যাওয়া কামাল মৃধার নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে নৌকার প্রার্থীতা ঘোষণার যাত্রাতেই মিথ্যার আশ্রয় নেয়ায়, তাকে নিয়ে এখন দলের মধ্যে চলছে তীব্র সমালোচনা।
আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয় কোন নেতাকে অবগত না করেই প্রার্থী ঘোষণা করে উক্ত আসনের আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানের বিষেদ্বাগার করায় তাকে রীতিমত বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

তাদের দাবী, একসময় বিএনপি করা কামাল মৃধা এখন নিজেকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে এন্টি শামীম ওসমানের রাজনীতি করার মনোভাব ব্যক্ত করায়, তাঁর দ্বারা আওয়ামীলীগের কোনদিনই মঙ্গল হবে না।

বাস্তবে কামাল মৃধার নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশা, ‘ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখার’ সামিল বলে মন্তব্য করেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

এপ্রসঙ্গে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ এম সাইফুল্লাহ বাদল একটি প্রবাদ বাক্যের সুরে বলেন, ‘কত হাতি গেল তল, মশায় বলে কতখানি হইয়ে জল’। ঠিক এমনটাই হয়েছে এখন কামাল মৃধার। সে অতীতে বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকলেও কবে আওয়ামীলীগের সদস্য হয়েছে সেটাই জানি না। এখন শামীম ওসমানের আসনে নৌকার প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের নৌকার যোগ্য একমাত্র প্রার্থী হচ্ছেন, আওয়ামীলীগের কান্ডারী পুরুষ ও উন্নয়ণের রূপকার আলহাজ¦ একেএম শামীম ওসমান। যিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ¯েœহভাজন ও বিশ^স্ত। তাই আগামীতেও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশাকে মূল্যায়ণে শামীম ওসমানকেই মনোনয়ন দিবেন শেখ হাসিনা। কিন্তু কোনক্রমেই দলছুট কামাল মৃধাকে নৌকার মাঝি হিসেবে মেনে নিবে না তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।’

ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হাজী এম শওকত আলী বলেছেন, ‘আমি নিজেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিতেই পারি। ঠিক তেমনি কামাল মৃধাও নিজেকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে এখন হাইলাটস্ হতে চাইছেন। অথচ, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তাকে ঠিক ভাবে চিনেও না।’

তিনি দাবী করে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের একমাত্র যোগ্য নৌকার মাঝি শামীম ওসমান। যার নেতৃত্বে ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জের উন্নয়ণ অব্যাহত রয়েছে। সেই লক্ষ্যে আগামীতেও জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকেই মনোনয়ন দিবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি। কিন্তু কামাল মৃধাকে কেউ নৌকার মাঝি হিসেবে মেনে নিতে পারবে না।’

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ মজিবুর রহমান বলেন, ‘যার কোন চরিত্রই নেই, সেই কামল মৃধা কিভাবে নৌকার মাঝি হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তা বোধগম্য নয়। কারন, তিনি দাবী করেছেন যে, আনোয়ার হোসেনের নিদের্শে নাকি তিনি পিঠ বাঁচাতে বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু আনোয়ার ভাই বলছেন, কামাল মৃধা মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন। আমি যদি আওয়ামীলীগ করি তাহলে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা নির্দেশ দিলেও তো আমি অন্য কোন দলে যোগ দিব না। আর কামাল মৃধা বিএনপি থেকে এখন আওয়ামীলীগের এসে নৌকার মাঝি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামীলীগ কোন সস্তা সংগঠন নয় যে, যে কেউ চাইলেই নিজেকে নৌকার মাঝি হিসেবে ঘোষণা করতে পারেন। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদন লাগবে। কামাল মৃধার নৌকার মাঝি হওয়ার যোগ্যতাই নেই। কারন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে নৌকার মাঝি হিসেবে শামীম ওসমানের বিকল্প শুধুই শামীম ওসমান। অন্য কেউ নেই।’

আর সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হাজী ইয়াসিন মিয়ার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) থেকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে নিজের নাম ঘোষণার লক্ষ্যে গত ২৮ এপ্রিল দুপুরে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন কামাল মৃধা।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবী করেন, আমি দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলাম কিন্তু আমি পালিয়ে যাইনি, আমাকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আমাকে দুই বার গুলি করা হয়েছে, স্ত্রী সন্তানের সামনে মেরে আমার পাজরের হাড় ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। আমি রাজনীতি করতে চাই কিন্তু জীবনের বিনিময়ে না। আমি বাঁচতে চাই। তাই তখন আমার পিতৃতুল্য রাজনৈতিক শিক্ষাগুরু আনোয়ার ভাইয়ের নির্দেশে বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলাম। আনোয়ার ভাই বলেছিলেন, বিএনপিতে গিয়ে আগে নিজেকে সেভ করো। আমি বিএনপিতে গিয়েছি কিন্তু আমার রক্তে মিশে আছে আওয়ামীলীগ আর তাই আবারো আওয়ামীলীগে ফিরে এসেছি। দীর্ঘদিন খাচায় আটকে রেখে বাঘকে যদি ছেড়ে দেওয়া হয় তাহলে বাঘতো খাবারের উপর ঝাঁপিয়ে পরবেই। আমিও আমার গন্তব্য আমার ঠিকানা পেয়ে গেছি। আর সে গন্তব্যে পৌছাতে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী হতে চাইছি। যারা খুনের রাজনীতির সাথে জড়িত তাদের মূল উৎপাটন করতে চাচ্ছি।

কামাল মৃধা আরো বলেন, আমি কোটিপতি হওয়ার জন্য রাজনীতি করি না। জনগনের সেবা করার জন্য নির্বাচন করতে আগ্রহী। মনোনয়ন দেবে নেত্রী, আর আমি যে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছি তা নেত্রীকে জানাতে চাই। নারায়ণগঞ্জ হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে ধনী জেলা। আর এ জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন। এখান থেকেই দেশের সবচেয়ে বেশী রাজস্ব আসে। এ আসনের ৬ লাখ ৬৭ হাজার ভোটারের কাছে যাবো, ২২৩টা কর্মী সভা করবো। নারায়ণগঞ্জের আওয়ামীলীগে আমার অবদান কম না। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের অফিস আমিই তৈরী করেছি। জায়গা দখল থেকে শুরু করে অফিস নির্মাণ পর্যন্ত সকল কিছুতে আমি ছিলাম।

তিনি আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জে একটি পরিবার রয়েছে যারা ভয় দেখিয়ে টাকা উপার্জন করে। যত ভয় তত টাকা। এ পরিবারের আরেকটি কাজ হলো কাউন্টার মামলা করা। কিছুদিন আগে সরকারী তোলারাম কলেজে একজন সাংবাদিককে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। সমগ্র কলেজের শিক্ষার্থীরা তা দেখেছে। আর এটা করা হয়েছে সবার মাঝে ভয় ছড়িয়ে দেয়ার জন্য। কিন্তু আমি এমপি হলে সেটা আর হতে দিব না।

আর কামাল মৃধার দাবীর প্রেক্ষিতে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শে রাজনীতি করি আমি। কখনোই কামাল মৃধাকে বিএনপিতে যোগ দেয়ার নির্দেশ দেই নাই। সে এখন পিঠ বাঁচাতে নিজেই মিথ্যাচার করছেন।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here