নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের জনপ্রতিনিধিরা। সরকারের মন্ত্রী এমপি থেকে শুরু করে ওয়ার্ড কাউন্সিলর চেয়ারম্যান মেম্বার যে যেভাবে পারছেন করোনা যুদ্ধে সামিল হচ্ছেন। করোনার আক্রমন থেকে জনগনকে রক্ষার জন্যে সচেতনতা তৈরী করাসহ মাস্ক স্যানিটাইজার বিতরণ করছেন তারা। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জের অসহায় কর্মহীন জনগোষ্ঠির মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদানেও সহযোইগতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে কাজ সকলে যার যার অবস্থান থেকে করে গেলেও গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবার অবদানের কথা প্রচার হচ্ছে কম। কারন অনেকে প্রচারের চেয়ে নিভৃতেই কাজ করতে বেশী স্বাচ্ছন্দ বোধ করে থাকেন। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। তিনি যেখানেই যান ক্যামেরা তার সঙ্গে সঙ্গে যায়। করোনার তিন মাসের এমন একটা দিন নেই যেদিন তার কোন বিষয়ের খবর গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাপা হয়নি। আর তাই করোনা যুদ্ধের নেপথ্যে থেকে অনেকে কাজ করে গেলেও প্রচারনায় এগিয়ে রয়েছেন এই সিটি কাউন্সিলর।

সূত্রে প্রকাশ, করোনার প্রকোপ শুরুর পর থেকেই নারায়ণগঞ্জের পাঁচ এমপি যথাক্রমে একেএম সেলিম ওসমান, একেএম শামীম ওসমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, লিয়াকত হোসেন খোকা ও নজরুল ইসলাম বাবু তাদের নির্বাচনী এলাকায় দিনরাত কাজ করে চলেছেন। মহামারি থেকে জনগনকে সচেতন করা ও দুস্থ্য মানুষের মাঝে সহায়তা প্রদান করছেন তারা।

মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের গরীব অসহায় দুস্থ দিনমজুুর খেটে খাওয়া পরিবারের মাঝে ৫ লাখ ৩০ হাজার কেজি চাল বিতরণ করেছেন এ আসনের এমপি একেএম সেলিম ওসমান। একই সঙ্গে তিনি প্রতিটি পরিবারকে ২০ কেজি চালের সমপরিমান ৯০০ টাকা করে ২০ হাজার পরিবারের মাঝে বিকাশে ১ কোটি ৮০ লাখ প্রদান করেছেন। এমপি সেলিম ওসমানের মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে যে, নির্বাচনী এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ৩৩ হাজার ২’শ পরিবারের মাঝে ৫ লাখ ৩০ হাজার কেজি চাল ও ৩০ হাজার কেজি ডাল বিতরণ করেছেন। নির্বাচনী এলাকা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ২০ হাজার পরিবারের প্রত্যেককে ২০ কেজি চালের সমপরিমান ৯’শ টাকা করে প্রত্যেকের বিকাশ একাউন্টে প্রেরণ করেছেন যার পরিমান ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

এছাড়াও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকায় ৬’শ ৪০জন শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের সেচ্ছাসেবী প্রত্যেককে ৪ হাজার ৫’শ টাকা সম্মানী প্রদানের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়েছেন। ২০ লাখ টাকা ব্যয় করে নারায়ণগঞ্জের করোনা হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্স এবং ওয়ার্ডবয় দের থাকা ব্যবস্থা করেছেন। রোগীদের সেবা প্রদানে ৬টি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে দিয়েছেন। সেই সাথে মাসে ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রত্যেকের তিন বেলা খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী জুন মাস পর্যন্ত ব্যক্তিগত তহিবল থেকে ব্যয় বহন করবেন এমপি সেলিম ওসমান।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান তার নির্বাচনী এলাকার জনগনের জন্যে তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এক কোটি টাকা সহায়তা প্রদান করেন। এছাড়াও এমপি পত্নী সালমা ওসমান লিপি ও তাদের পুত্র অয়ন ওসমানের পক্ষ থেকে ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জের অসহায় মানুষের মাঝে সহযোগিতা এখনো অব্যহত রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী তার নির্বাচনী এলাকায় করোনার নমুনা পরীক্ষার জন্যে একটি পিসিআর ল্যাব তৈরী করে দিয়েছেন। এছাড়াও মন্ত্রী গাজী ও মন্ত্রীর স্ত্রী পৌর মেয়র হাসিনা গাজীর পক্ষ থেকে অসহায় দুস্থ্যদের খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে নিয়মিত।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা করোনা শুরুর পর থেকেই নিজে ঘরে ঘরে গিয়ে খাদ্য সহায়তা পৌছে দিচ্ছেন। তাছাড়া করোনা উপসর্গে নিহত মানুষের দাফন করার বিষয়েও তিনি একটি টিম গঠন করে দিয়েছেন যারা দিনরাত কাজ করছেন।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর নাজমুল আলম সজল, আবদুল করিম বাবু, সফিউদ্দিন প্রধান, বিভা হাসান, অয়েশা আকতার দিনাসহ সকলেরই করোনা প্রতিরোধে সাধ্য মতো কাজ করে যাচ্ছেন। কাজ করছেন ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদও। তবে সবার কাজের তেমন প্রচার না হলেও খোরশেদের প্রচার যন্ত্র সব সময় সক্রিয়।

এদিকে করোনার বিরুদ্ধে এই লড়াই শুধুমাত্র আল্লাহকে রাজি খুশি করার জন্যে এবং মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাড়ানোর অভিপ্রায়েই করে যাচ্ছেন বলে একাধীকবার জানিয়েছেন করোনা যোদ্ধা খোরশেদ, এর পেছনে কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা নির্বাচনের ইচ্ছা তার নেই। শুধুমাত্র সমাজসেবার উছিলায়ই তার এ মরনপণ লড়াই। তবে খোরশেদ যতই বলুক এর পেছনে কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই, তার পক্ষে একটি মহল উঠে পরে লেগেছে পরবর্তী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তাকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে নিয়মিত। সেই সাথে খোরশেদের প্রতিটি কার্যক্রমের ছবি ও ভিডিও যেভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে তাতে শুধুমাত্র সমাজসেবার উদ্দেশ্যে সবকিছু করার বিষয়টি ধোপে টিকছে না। কারন আল্লাহকে খুশি করতে হলে প্রচারের দিকে তাকানোর কথা না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here