নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: সদর উপজেলার ফতুল্লার দেওভোগ এলাকায় শাহিদা আক্তার (৪৫) নামের এক গৃহবধূকে যৌতুকের দাবিতে তার পাষন্ড স্বামী বাঁশ ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হাত পাঁ ভেঙ্গে গুরুতর আহত করেছে। গৃহবধূ শাহিদা আক্তার শহরের খানপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার দুই হাত ও দুই পায়ে প্লাষ্টার করা হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত শাহিদা বেগম গত ৬ই সেপ্টেম্বর রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লিখিত অভিযোগে শাহিদা বেগম উল্লেখ করেন, তার স্বামী বিল্লাল হোসেন তাকে নিয়ে ফতুল্লার পশ্চিম দেওভোগ মাদ্রাসা শেষ মাথা এলাকার তাসলিম মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তার এক ছেলে তিন মেয়ে। তিন মেয়েই বিবাহিত। বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী বিল্লাল হোসেন তার নিকট ৫ লক্ষ টাকা যৌতুক হিসেবে দাবি করে আসছেন। তাকে যৌতুক চাইতে প্ররোচনা করছেন মৃত হাবিব উল্লার ছেলে তার ভাই ইউসুব আলী, হাবিবুল্লার স্ত্রী মোমেলা বেগম, ইউসুব আলীর মেয়ে কান্তা। তাদের যোগসাজসের প্রচোরনায় শাহিদার স্বামী বিল্লাল হোসেন প্রায়ই তার স্ত্রীকে মারধর করতো। তাছাড়া কিছুদিন যাবত সে পর নারীতে আসক্ত ছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ আগষ্ট তার স্বামী বিল্লাল হোসেন পূণরায় তার নিকট ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। না দিলে তাকে মারধর করেন।

কাহিদা বেগম আরো জানান, যৌতুক চাওয়ার বিষয়ে তার এক ছেলে ও তিন মেয়ে তাদের বাবাকে অনেক বুঝিয়েছেন। ছেলে মেয়েদের কোন কথা না শুনে সর্বশেষ গত ৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ৮টার দিকে একই বিষয়ের টাকা দাবি করেন বিল্লাল হোসেন। না দেওয়ায় ঘরের দরজা বন্ধ করে বিল্লাল সহ উক্ত আসামীরা শাহিদা বেগমকে বেধরকভাকে বাঁশ ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে তার হাত পা ভেঙ্গে দেয়। এ সময় তার জাঁ কান্তা ও শাশুড়ী মোমেলা শাহিদার মুখে একটি কাপড় গুজে দেয় যেন সে জোরে চিৎকার করতে না পারেন। পরে তার আতœীয় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে তাকে ভতির্ করায়।

এ ঘটনায় এর একদিন পর ৬ সেপ্টেম্বর রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় বাদী হয়ে শাহিদা বেগম একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) দেবব্রত দাসকে ঘটনাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঘটনার শিকার শাহিদা বেগম তার জীবনের নিরাপত্তা এবং তার ছেলে মেয়েদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের সাহায্য কামনা করেছেন।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here