নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আর মাত্র ১৪ দিন পরেই শুরু হতে যাচ্ছে মুসলমান ধর্মালম্বীদের সিয়াম সাধনার মাস মাহে রমজান। কিন্তু এই রমজানকে ঘিরে বিশে^র অন্যান্য দেশে নিত্যপণ্যের দাম কমানো বা বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হলেও বাংলাদেশে দেখা মিলে এর উল্টো চিত্র। অধিক মুনাফার লোভে যেন দানব হয়ে উঠেন ব্যবসায়ীরা।
যার ফলে রমজান মাস সামনে রেখে এখনই সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে রমজান মাসে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় চিনি ও ছোলার ডালের দাম বেড়েছে গত কয়েকদিনে কেজি প্রতি ১০-১৫ টাকা করে। তাই রমজান মাসকে ঘিরে ব্যবসায়ীরা যেন আর নিত্যপণ্যের দাম বাড়াতে না পারে সেজন্য ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের সমন্বয়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাজার মনিটরিং টিম গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।

শুক্রবার (১২ মে) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে নগরীর পাইকারী ভোগ্যপণ্যের বাজার ডাইলপট্টী, নিতাইগঞ্জ ঘুরে দেখাগেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি ছোলা, চিনি ১০-১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

দ্বিগুবাবুর বাজার, কালীরবাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম প্রতি কেজিতে ৫-১০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। শসা, জিঙ্গা, ঢেঁড়স, টমোটো, বেগুন, করলা, দুন্ধুল, চিচিঙ্গার দাম কেজিতে বেড়েছে পাঁচ টাকা। শসা ৪০ টাকা, জিঙ্গা ৬০ টাকা, টমোটো ৪০, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, বেগুন ৫০-৫৫ টাকা, কাকরোল ৬০ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, কচুর লতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ১০০ টাকা, আলু ১৫ থেকে ২০ টাকা, পটল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, পেঁপে ২০ থেকে ৩০ টাকা, গাজর ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, মিষ্টিকুমড়া প্রতিটি ২০ টাকা, লাউ ৪০-৬০ টাকা, জালি কুমড়া ২৫ টাকা, লেবু হালিতে ৫ টাকা বেড়ে ২০ টাকা, কাঁচকলা ২০-৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে রসুনের দামও কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা বেড়েছে। দেশী রসুন গত সপ্তাহের মতো ১১০-১১৫ টাকায় বিক্রি হলেও ভারতীয় রসুনের দাম ১৫০ টাকা থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশী পেঁয়াজ পাইকারীতে ২২-২৪ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে নেয়া হচ্ছে ৩০ টাকা। পাইকারীতে ভারতীয় পিঁয়াজের দাম ১৫-১৬ টাকা হলেও খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকায়। তবে গত সপ্তাহের দামেই ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি আদা।

এছাড়া দেশী মসুর ডাল ১১০ টাকা, ভারতীয় মসুর ডাল ৭৫-৯০ টাকা, মুগ ডাল ১৩০ টাকা, মান ভেদে ছোলার দাম ৫-১০ টাকা বেড়ে ৮০-৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর খোলা চিনির পাইকারী মূল্য ৫৫-৫৭ টাকা হলেও খুচরা বাজারে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজি ও মুদিপণ্যের মতো এ সপ্তাহে প্রায় সব ধরনের চালের দামও বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে মান ভেদে চালের দাম বেড়েছে ৪-৭ টাকা। বাজারে চিনিগুড়া চাল ৭৫-৮০ টাকা, নাজিরশাইল ৫৪ টাকা, মিনিকেট ৫২ টাকা, বিআর-২৮ ৪৮ টাকা, মোটা চাল ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রমজানের গরম হাওয়া লেগেছে মাছের বাজারেও। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এ দাম আরও বাড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মাছ ব্যবসায়ীরা।

দেখাগেছে, প্রতি জোড়া মাঝারি ইলিশ ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, বড় ইলিশ ১৪০০ থেকে ১৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কোরাল মাছ কেজি প্রতি ৬০০ টাকা, বড় চিংড়ি ৬৫০ টাকা, ছোট চিংড়ি ৬০০ টাকা, চিংড়ি গুড়া ৪০০ টাকা, বড় তেলাপিয়া ১৫০ টাকা, ছোট তেলাপিয়া ১০০-১২০ টাকা, পাবদা ৫০০ টাকা, রুই ২৪০ টাকা, পাঙ্গাস ১৩০ টাকা, কাতলা ৩৫০ টাকা, আইর ৬০০ টাকা, টেংরা ৪৫০ টাকা, কই মাছ ২০০ টাকা, মাগুর মাছ ৮০০ টাকা, শিং মাছ ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গত সপ্তাহে ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া গরুর মাংসের দাম এবার আরও এক ধাপ বাড়ানো হয়েছে। শুক্রবার বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫৫০-৬০০ টাকা এবং খাসীর মাংসা ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া বয়লার মুরগীর দাম কেজিপ্রতি ৫-১০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি ১৬৫ টাকা এবং পাকিস্তানী মুরগী আকার ভেদে ১৩০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here