নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: সরকার বিরোধী আন্দোলনের পাশাপাশি ঝামেলাহীন ভাবে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার লক্ষ্যে এখন রাজনীতির কৌশল পাল্টাতে শুরু করেছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি।
মূলত নির্বাচনের আগমূহুর্তে নতুন করে আর কোন মামলায় না জড়াতেই এই কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা ও মহানগর বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা। যারা আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় এখন নিজি নিজ বলয়ে নেতাকর্মীদের ভীড়ানোসহ দলীয় যেকোন কর্মসূচী পালনে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করে আসছেন।

তারা এই প্রতিবেদককে জানান, ‘বিগত ২০১৪ সাল থেকে শুরু হয়ে অদ্যবধি সরকার বিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করতে গিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের পুলিশের ডান্ডার বাড়ি খাওয়ার পাশাপাশি একাধিক মামলার আসামী হয়ে বহুবার কারভোগ করতে হয়েছে।

আগামী নির্বাচনে যখন নির্দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়া সাপেক্ষে বিএনপি নির্বাচনে অংশ গ্রহণের সদ্বিচ্ছা প্রকাশ করেছে, তারপর থেকেই সম্প্রতি নতুন করে সরকার তার পেটোয়া পুলিশ বাহিনী দ্বারা বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে নতুন করে অযথাই মামলা দিয়ে হয়রানী করার চেষ্টা করছে। যা কিনা আগামী নির্বাচনের আগে মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপিকে নেতাকর্মী শূণ্য করার লক্ষ্যে সরকারের একটি হীন প্রচেষ্টা।’

তাই রাজপথে দলীয় কর্মসূচী পালনের ক্ষেত্রে পুলিশী ঝামেলা এড়াতে বেশীর ভাগ কর্মসূচীই দলীয় কার্যালয়ের ভিতর পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা, বলে জানান একাধিক নেতা।

যার ফলে সাম্প্রতিক সময়ে প্রায়শই কর্মসূচী জেলা বিএনপিকে সিদ্ধিরগঞ্জের অস্থায়ী কার্যালয়ে, আর মহানগর বিএনপিকে শহরের কালীরবাজারস্থ অস্থায়ী কার্যালয়েই পালন করতে দেখা যাচ্ছে।

যদিও মামলা হামলার ভয়কে উপেক্ষা করে সরকার বিরোধী আন্দোলনে নেতাকর্মীদের সবসময় রাজপথে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছেন, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম, সাধারন সম্পাদক এটিএম কামালসহ অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা, পক্ষান্তরে তারাই রাজপথের পরিবর্তে কার্যালয়ের ভিতর বসে নিরাপদে দলীয় কর্মসূচী পালনে নেতাকর্মীদের অভ্যস্ত করে তুলছেন বলে অভিযোগ করেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দ।

তবে এব্যাপারে জানতে মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম ও জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কালামের মুঠোফোনে সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি। আর মামুন মাহমুদের মুঠোফোন ব্যস্ত পাওয়া যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here