নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ কিংবা শান্তিপূর্ণ ভাবে ক্ষনিকের জন্য রাজপথে দাঁড়িয়ে শুধুমাত্র ফটোসেশন করতে চাইলেও পুলিশের বাঁধার কারনে এখন সব কর্মসূচীই পন্ড হয়ে যাচ্ছে প্রায় এক যুগের কাছাকাছি ক্ষমতার বাইরে থাকা নারায়ণগঞ্জ বিএনপির।
গত ৫ ফেব্রুয়ারী বিএনপি চেয়ারপার্সনের সিলেট যাত্রাকালে পথিমধ্যে তাকে স্বাগত জানানো এবং ৮ ফেব্রুয়ারী ঘোষিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে গত ৩ ফেব্রুয়ারী থেকেই নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বাড়ী বাড়ী পুলিশের তল্লাশী এবং আটক অভিযান শুরু হওয়ার পরপরই একে একে আত্মগোপনে যেতে শুরু করেন শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।

কিন্তু আত্মগোপনে যেতে শুরু করলেও সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র, নাশকতার চেষ্টা, ককটেল বিস্ফোরন ঘটানোসহ জানমালের ক্ষতি সাধনের অপরাধে গত ৪ ফেব্রুয়ারী থেকে ১১ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন ৭ টি থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে পুলিশের দায়েরকৃত ১০ টি মামলায় ঠিকই আসামী হতে হয়েছে শীর্ষস্থানীয় থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত নেতাকর্মীদের।

তন্মধ্যে, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা স্বেচ্ছা সেবকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এড. আনোয়ার হোসেন প্রধান, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহেদ আহম্মেদসহ প্রায় ৮০ জন নেতাকর্মীকে নাশকতার মামলায় গ্রেফতার হয়ে যেতে হয়েছে কারাগারে।

আর মামলার আসামী হয়ে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর প্রায় সহ¯্রাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে থেকেই দলীয় নেত্রীর মুক্তির দাবীতে দিয়ে যাচ্ছেন নানা স্লোগান। কিন্তু যেসকল নেতাকর্মীরা মামলার আসামী হননি, তারাও গ্রেফতার আতংকে রাজপথের পরিবর্তে খালেদা জিয়ার সাজার বিরুদ্ধে বিকল্প উপায়ে জানিয়ে যাচ্ছেন প্রতিবাদ।

এক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির প্রতিবাদের একমাত্র ভরসার মাধ্যম হয়ে উঠেছে এখন ‘ফেসবুক’। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জনপ্রিয় এই সাইটের মাধ্যমে বিএনপির নেতাকর্মীরা তুলে ধরছেন নিজেদের অভিযোগ অভিব্যাক্তির কথা। বিএনপি চেয়ারপার্সনের মুক্তির দাবী জানিয়ে দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারন জনগণকেও সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে বিভিন্ন লেখা পোস্ট করে যাচ্ছেন দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।

তেমনি একজন, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মনিরুল ইসলাম তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে দলীয় নেতাকর্মীদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে পোস্ট করেন নিজের মনের ভাষা। তিনি লিখেন, ‘প্রিয় ভাইয়েরা, বিনয়ের সহিত অনুরোধ রইল, আমরা যার যার অবস্থান থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী আওয়াজ করি। মা (খালেদা জিয়া) আমার জেলে কেন??’

তিনি আরো মন্তব্য করেন, ‘সারা জাতি যখন অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়, তখন সত্যের প্রদীপ দিয়ে নয়, আলো ঝলমল সূর্য্যের দরকার হয়। তাই আসুন আমরা ব্যক্তিগত প্রদীপ গুলি একত্রিত করে সমিষ্টগত সূর্য্যে পরিনতি করি। নিজে আলোকিত হওয়ার বৃথা চেষ্টা না করে জগত আলোকিত করার চেষ্টা করি। তবে জোনাকীরও আলো আছে, কিন্তু সে যদি মনে করে তার আলো দিয়েই রাতের আঁধার ভেদ করবে, তা দূরাশা হয়ে রবে। তাই আসুন আমরা সকলে অন্ধকার ছেড়ে আলোকময় জগতে ফিরে আসি, একা নয় সমষ্টিগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মা (খালেদা জিয়া) কে বন্দীদশা থেকে মুক্ত করবো, ইনশাআল্লাহ। আজ এই হউক মোদের অঙ্গীকার।’

নারায়ণগঞ্জের তিনটি থানায় নাশকতার মামলার মোস্ট ওয়ান্টেড আসামী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিএনপির গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের নি:শর্ত মুক্তি দাবী করে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

ফতুল্লা মডেল থানায় পুলিশের সদ্য দায়েরকৃত নাশকতার মামলার আসামী নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে পোস্ট করেন, ‘ধৈর্য্য রাখুন, সময় প্রতারনা করেনা। ¯্রােতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকাটাই বড় চ্যালেঞ্জ, সবাই এটা পারেনা!’

তিনি আরো বলেন, ‘কঠিন একটা সময় পার করতেছি। এই সময়টা থাকবে না, সব ঠিক হয়ে যাবে। কারণ আমি বিশ্বাস করি মানুষের জীবনে সাগর-নদীর মতো জোয়ার-ভাটা আছে, কখনো ¯্রােত তোমার পক্ষে যাবে কখনো তোমার বিপরীত দিকে যাবে, এটাই নিয়ম ও বাস্তবতা। এটা মেনে নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

তিনি দদলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্তব্য করেন, ‘পালিয়ে কেউ বাঁচতে পারে না, আবার আত্মসমর্পণ বা আপোষ করেওনা। বাঁচতে হলে বিদ্রোহী ও সংগ্রাম করেই বাঁচতে হবে। হয় মুক্ত জীবন না হয় বীরের মরন।’

তাদের মত এখন বিএনপির অনেক নেতাকর্মীই মামলার ঝামেলা এড়াতে রাজপথের পরিবর্তে সামাজিক যোযোগ মাধ্যম ফেসবুককেই প্রতিবাদ জানানোর মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। আর তাই ফেসবুকই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির প্রতিবাদ জানানোর একমাত্র ভরসার মাধ্যম বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here