নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জে বিএনপি’র আন্দোলন সংগ্রামকে স্তব্ধ করে দিতেই হকার ইস্যুতে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে জড়ানো হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিএনপি’র তৃণমূল। গৃহবন্দি নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র একমাত্র প্রতিবাদী মুখ খোরশেদকে আটকে দিতে পারলে নারায়ণগঞ্জে বিএনপি’র আন্দোলন মুখ থুবরে পরবে-এ লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে খোরশেদকে সেদিনের সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িয়ে নিস্তেজ করে দেয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে দাবী বিএনপি’র নেতাকর্মীদের। কিন্তু রাজপথের লড়াকু এই সৈনিককে কোন বাঁধাই আটকে রাখতে পারবে না বলে বিশ্বাস তাদের।

তৃণমূল সূত্রে প্রকাশ, দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি’র নেতাকর্মীরা নিজেদের অনেকটাই গৃহবন্দি করে ফেলেন। সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও সরকারী দলের হামলা মামলার শিকার হয়ে বেশীরভাগ নেতাকর্মীই আন্দোলন সংগ্রাম থেকে হাত পা গুটিয়ে নেন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ হামলা মামলাকে উপেক্ষা করে নারায়ণগঞ্জের রাজপথে প্রতিবাদের ঝড় তুলে নতুন প্রজন্মের কাছে আন্দোলন সংগ্রামের আইকনে পরিনত হন। যে কোন দলীয় কিংবা জাতীয় কর্মসূচিতে বিশাল কর্মী বাহিনী নিয়ে রাজপথে তার বিরণ অব্যহত রাখেন। এর ফলে একের পর এক রাজনৈতিক হয়রানীমূলক মামলার শিকার হন খোরশেদ। এমনকি তৃতীয় দফায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে ঢাকা থেকে শপথ গ্রহনের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই নারায়ণগঞ্জের রাপথে বিক্ষোভকালে গ্রেফতার হন তিনি। কিন্তু কোনভাবেই খোরশেদকে থামানো যাচ্ছিলো না। নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র অনেক বাঘা বাঘা নেতা এ সময়ে বিড়ালের মতো গর্তে ঢুকে গেলেও খোরশেদ রাজপথের দখল ছাড়েননি এক মুহুর্তের জন্য। আর তাই সরকারী দলের মাথা ব্যাথার কারন হয়ে উঠেন এই যুবদল নেতা। আর এ কারনেই তার বিরুদ্ধে শুরু হয়ে যায় ষড়যন্ত্র। এই ষড়যন্ত্রের কারনেই হকার ইস্যুতে খোরশেদকে জড়িয়ে নারায়ণগঞ্জের রাপথ বিএনপিমুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য তৃণমূলের।

এ বিষয়ে জনৈক যুবদল কর্মী নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে বলেন, একজন সিটি মেয়রের সাথে কাউন্সিলর থাকতেই পারে। তাছাড়া বিবি রোডে সবচেয়ে বেশী হকার বসে ১৩ নং ওয়ার্ডে। আর এই ১৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হলেন মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। স্বাভাবিকভাবেই হকার উচ্ছেদে তিনি সিটি মেয়রের পাশে থাকতেই পারেন। কিন্তু এই স্বাভাবিক ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক বানিয়ে প্রচার করে আওয়ামীলীগ খোরশেদকে রাজপথ থেকে সরিয়ে দিতে চাইছে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের রাজপথের আইকন খোরশেদকে কোন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমেই ঠেকানো যাবে না।

অপর এক কর্মী ক্ষোভের সঙ্গে নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে বলেন, সিটি মেয়রের সাথে কাউন্সিলর খোরশেদ থাকার বিষয়টি বারবার হাইলাইট করা হচ্ছে, অথচ তার সাথে আওয়ামীলীগের কাউন্সিলর কবীর হোসেনও ছিলো। কিন্তু কোথাও কবীরের বিষয়ে কোন কিছু বলা হয় না, সব দোষ চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে খোরশেদের ঘাড়ে। এ থেকেই বুঝা যায় সরকারী দল এক চোখা নীতিতে নিজেদেরকে আড়াল করে বিএনপি’র শক্তি কমিয়ে দিতে এই কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here