নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার গ্রেফতারী পরোয়ানার বিরুদ্ধে গ্রেফতার ভয় উপেক্ষা করেই নারায়ণগঞ্জে যুবদল নেতাকর্মীরা রাজপথে নামলেও গ্রেফতার ভয়ে অভিভাবক সংগঠন হিসেবে বিএনপির কর্মসূচী ছিল ঘরের ভিতর। তন্মধ্যে মহানগর বিএনপি অস্থায়ী কার্যালয়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় কর্মসূচী পালন করলেও জেলা বিএনপি কেন্দ্রের দোহাই দিয়ে এবার কর্মসূচীই পালন করেনি।

আর নেতাকর্মীদের রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়ে খোদ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারাই গ্রেফতার ভয়ে ঘরের ভিতর কর্মসূচী পালন করায় তৃণমূলে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, কাজী মনিরুজ্জামান, অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, এড. আবুল কালাম, এটিএম কামালসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতৃত্বে যারা আছেন, তারা এখন আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপদে থাকতে তৃণমূলকে রাজপথে নামিয়ে নিজেদের ফাঁয়দা লুটার চেষ্টা করছেন। যেই কারনে খোদ দলীয় চেয়ারপার্সনের জন্য বিক্ষোভ করতে ভয়ে রাজপথে নামতে সম্মত হননি মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দরা। আর জেলা বিএনপি তো একবার পুলিশের ধাওয়া খেয়ে এখন রাজপথকেই ভুলে যেতে বসেছেন।

জানাগেছে, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে শনিবার (১৪ অক্টোবর) নগরীতে সকালে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিকেলে নগরীর দেওভোগ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ডিআইটি আসার পথে পুলিশী বাঁধার সম্মুখীন হয় জেলা যুবদল নেতাকর্মীরা। এসময় পুলিশের লাঠিচার্জে জেলা যুবদল সভাপতি মোশারফ হোসেনসহ ১০ জন আহত হন।

অথচ, মামলা হামলা উপেক্ষা করেই রাজপথে আন্দোলনে শরিক হওয়ার জন্য জ্ঞানী উপদেশ দানকারী জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দরা কয়েকদিন পূর্বে একই কর্মসূচী পালন শেষে পুলিশী ধাওয়া খেয়ে এদিন আর গ্রেফতার ভয়ে রাজপথে নামেন নি।

এপ্রসঙ্গে অজুহাত দেখিয়ে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ জানান, ‘কেন্দ্রে তাদের তলব করায় শনিবার তারা বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করতে পারেন নি।’

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, কয়েকদিন পূর্বে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার গ্রেফতারঅ পরোয়ানার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে পুলিশী ধাওয়া খেয়ে দ্রুত পালিয়ে যান জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদসহ অন্যান্য সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা। যার ফলে শনিবার আর কেন্দ্রীয় কর্মসূচী পালন করতে তারা রাজপথে নামার সাহস পাননি।

আর মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম ও সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি পদ প্রার্থী হওয়ায় এখন নতুন করে কোন মামলায় না জড়াতে গ্রেফতার ভয়ে শনিবার শহরের কালীরবাজারস্থ মহানগর বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন বলে জানাযায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here