নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: শনিবার রাত পোহালেই রবিবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে মুসলমান সম্প্রদায়ের সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র মাহে রমজান। আর এই মাসটিকে ঘিরেই ভাল ব্যবসার আশায় বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে দোকান পরিপাটি ভাবে সজ্জিত করলেও দু:শ্চিন্তায় রয়েছেন নগরীর ফুটপাতের হকাররা।
কেননা, রোজা আসলেই প্রশাসনের উচ্ছেদের খড়গ নেমে আসে তাদের উপড়। ঋনগ্রস্থ হয়েও মালামাল ক্রয় করে ঠিকভাবে ব্যবসা করার সুযোগ পান না। তাই রোজা শুরুর প্রাক্কালেই ‘সহযোগিতা’ নাকি ‘উচ্ছেদ’- এই বিষয়ে প্রশাসনকে স্পষ্ট করার অনুরোধ জানিয়েছেন হকার নেতৃবৃন্দরা।

কারন, গত বছরের মত চলতি রোজায় যেন এবার ফুটপাতের হকারদের উচ্ছেদের শিকার হতে না হয় সেজন্য সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃংখলা কমিটির সভায় আগে থেকেই ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়াকে নির্দেশ দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান।

কিন্তু রমজান মাসে ফুটপাতে হকাররা বসার সুযোগ পাবেন কিনা নাকি তাদের অন্যত্র বসার সুযোগ করে দেয়া হবে এই ব্যাপারে এখনো কোন ধরনের দিকনির্দেশনা পাননি বলে জানান হকার নেতারা।

অপরদিকে, গত ১৮ মে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী অভিযোগ করে বলেছেন, ঈদের আগেই ফুটপাত হকার সমস্যার সমাধান করা হবে। হকারদের নিয়ে কাউকে রাজনীতি করতে দেয়া হবে না। প্রথম রোজায় উঠিয়ে দিয়ে ১৫ রোজায় টাকা নিয়ে বসিয়ে দেবে, তা হবে না।

আইভী বলেন, কেন হকারদের জন্য আমরা করবোনা অবশ্যই করবো।আমি প্রয়োজনে হকারদের জন্য একটি দুটি মাঠ দিয়ে দেব। সপ্তাহে একদিন দু’দিন হকাররা সেখানে বসবে।

কিন্তু রাত পোহালেই যে শুরু হচ্ছে রমজান মাস। আর পরিবার নিয়ে একটু আনন্দে ঈদ উদযাপনের লক্ষে এই গোটা মাস জুড়ে দিন-রাত বেচাকেনায় মত্ত থাকবেন হকাররা। অথচ এখনো অবধি ফুটপাতে হকাররা বসতে পারবেন কিনা নাকি গতবারের মত সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদের শিকার হয়ে ফের আন্দোলনের পথ বেছে নিবেন তা নিয়েও দু:শ্চিন্তায় রয়েছেন বলে জানান একাধিক হকার নেতা।

তাই তাদের দাবী মেয়র এমপি কিংবা ডিসি যেই হউক না কেন, অত্যন্ত রমজান মাসে যেন হকারদের পেটে লাথি দেয়া না হয়। তাই শনিবারের মধ্যেই ফুটপাতের হকারদের ব্যবসা পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদানের অনুরোধ জানিয়েছেন হকাররা। যেন কোথাও বসলে আর দৌঁড়াদৌঁড়ি করতে না হয়।

এদিকে, গত বছর রোজা শুরুর প্রাক্কালেও জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের যৌথ সমন্বয়ে শুরু হয় হকার উচ্ছেদ অভিযান। আর এতে করে শহরের ফুটপাত একেবারেই হকারশূন্য হয়ে ওঠে। এরই মধ্যে ফুটপাতে বসার দাবিতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিটি করপোরেশনের মেয়রের কাছেও আবেদন করেন হকাররা। এ নিয়ে শহরে নিয়মিত মিছিল মিটিংও হয়।

এ বিষয়ে সিটি করপোরেশন ও পুলিশ প্রশাসন যখন বেশ অনড় অবস্থানে তখন হকাররা ধর্ণা দিতে শুরু করেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের কাছে। তিনি ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য হলেও শহরের হকারদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেন। শুরুতে তিনি শহরের চাষাঢ়া বালুর মাঠে রাজউকের খালি জায়গায় বসার কথা বলেও হকাররা স্থান সংকুলান না হওয়ার অজুহাতে পিছু হটে। যেকোন ভাবে রোজার মাসে তারা শহরে বসার দাবি করেন।

পরবর্তীতে হকারদের সঙ্গে শামীম ওসমানের আলোচনা হয়। তখন শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি নিজেও ফুটপাত দখলের সমর্থন করি না, করবোও না। কিন্তু মানবিক বিষয়টি চিন্তা করে অন্তত ঈদের আগে কারো পেটে লাথি মারা উচিত হয়নি। তাই আমি গরিব হকারদের হয়ে সিটি করপোরেশনের কাছে এই অনুরোধ করছি। দুইদিন আমি সময় দিচ্ছি। না হলে আমি নিজেই ব্যবস্থা করবো।’ এমপি শামীম ওসমানের সেই ঘোষনার পর হকাররা আবারো দখল করে নেয় নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত। শুধুমাত্র রমজান মাসের জন্য বসতে বলা হলেও হকাররা আর সেই দখল আদৌ ছাড়েনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here