নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: দলের এই চরম ক্রান্তিকালে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালের দেশত্যাগে সমালোচনার ঝড় বইছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে। সেই সাথে কামালের মতো সংগ্রামী নেতার এভাবে লেজ গুটিয়ে পলায়নের পেছনের কারন অনুসন্ধানেরও দাবী জানিয়েছে তারা। রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে যোগ্য সাহচর্য না পওয়ায় কামালের এ দেশান্তরী হওয়ার নেপথ্য কারন বলে মনে করে তৃণমূল।
তৃণমূল সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে গঠিত নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র নতুন কমিটির শীর্ষ নেতাদের অসহযোগীতা আর গৃহবন্দি মানষিকতা থেকে মুক্তি পেতে সুদুর আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। রাজপথে সরকার বিরোধী আন্দোলনের পরিবর্তে দুই চার মিনিটের ফটোসেশনে অভ্যস্ত হয়ে উঠা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. আবুল কালামের সাথে তাল মিলাতে না পেরে দেশান্তরী হতে বাধ্য হয়েছেন সংগ্রামী কামাল। তাছাড়া সংগঠনের সহ সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপু, শওকত হাশেম শকুর মতো নেতাদের বিতর্কিত কর্মকান্ডে ক্রমেই একা হয়ে পরছিলেন কামাল। সামগ্রিক দিক বিবেচনায় দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলে মনে করে তৃণমূল।

সূত্র মতে, ‘রাজপথের লড়াকু সৈনিক’ নামে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল সভাপতি এড. আবুল কালামের পাল্লায় পরে নিজেকে রাজপথ থেকে সরিয়ে গৃহবন্দি করে ফেলেছিলেন। ২০০৬ সালে বিএনপি ক্ষমতা ছাড়ার পর থেকে নারায়ণগঞ্জের রাজপথে সবচেয়ে বেশী সরব উপস্থিতি ছিলো এটিএম কামালের। বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে জীবন বাজি রেখে লড়াই করে বেশ কয়েকবার কারাবরনও করেছেন তিনি। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র নতুন কমিটি গঠন হওয়ার পর থেকেই অলৌকিক কোন যাদুর স্পর্শে রাতারাতি বদলে গেলেন তিনি। সারাদেশে যখন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ণ কর্মসূচর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে গিয়ে শীর্ষ নেতারা দলকে সংগঠিত করতে চাচ্ছে, তখন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সভাপতির বিলাসবহুল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে বক্তব্য আর বিবৃতিতে অভ্যস্ত হয়ে পরলেন সেই এটিএম কামাল।

সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালের ঘোর শত্রুও এক সময় স্বীকার করেতো কামালের সংগ্রামী অবদানের কথা। সরকারী দলের হামলা মামলাকে উপেক্ষা করে জাতীয় ও দলীয় প্রতিটি কর্মসূচিতেই রাজপথে থাকতেন এটিএম কামাল। এর জন্য পুলিশের মার খেয়েছেন বহুবার, যেতে হয়েছে কারাগারে। ৫ জানুয়ারী পরবর্তী সময়ে দেশে চলমান সরকার বিরোধী আন্দোলনে মিছিল করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘ প্রায় আট মাস জেল খেটেছেন এই এটিএম কামাল, হয়েছেন অসংখ্য মামলার আসামী। দলের সেই ক্রান্তিকালে নারায়ণগঞ্জের অনেক শীর্ষ বিএনপি নেতাকে রাজপথে পাওয়া যায়নি। এমনকি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি’র দুই সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান ও এড. আবুল কালামকেও তখন রাজপথে খুঁজে পাওয়া যায়নি। অথচ সে সময়েও রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এটিএম কামাল। ভয়ে নেতাকর্মীরা না আসায় নিজের ছেলেকে নিয়ে ব্যানার হাতে দাড়িয়ে কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে কামালকে। কিন্তু সেই কামালই একদিন অসহায় হয়ে পরেছিলেন আবুল কালাম আর পাকনা টিপুদের মাতাব্বুরির কাছে। আর তাই ত্যক্ত বিরক্ত কামালকে দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হতে হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here