নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায়ের পর এবার দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও নারায়ণগঞ্জে এসে জয়গান করে গেলেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শিল্পপতি শাহ আলমের।
আর আগামী নির্বাচনে শাহ আলমের মনোনয়ন নিশ্চিতে রীতিমত চাটুকারিতার কাজটি সেরেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ।

যা নিয়ে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির তৃণমূলের মাঝে সমালোচনার ঝড় বইছে। তাদের মতে, যেই শাহ আলম তার রাজনৈতিক জীবনে আদৌ রাজপথেই নামেন নি, সেই শাহ আলমকে কিভাবে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিভাবক হিসেবে ঘোষণা দেন যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, তা বোধগম্য নয়।

বিগত দিনে বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামের সময় যেই শাহ আলম রাজপথের পরিবর্তে এসি রুমে বসে আয়েশী জীবন কাটিয়েছেন, সেই শাহ আলমকে আগামী একাদশ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে পরিচিতি করিয়ে দিয়ে নজরুল ইসলাম আজাদ নিজেকে তার চাটুকার হিসেবে জাহির করেছেন বলে মন্তব্য করেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দরা। আড়াইহাজার থেকে উড়ে এসে যিনি এখন ফতুল্লার রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছেন।

জানাগেছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে ফতুল্লার সোবহান মঞ্জিলে সিদ্ধিরগঞ্জের বিএনপি থানা সম্মানে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রত্যাশী শিল্পপতি শাহ আলম আয়োজিত ঈদ পূনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তবে শুধু অনুষ্ঠানে যোগ দেয়াই নয়, শাহ আলমের প্রদত্ত বান্ডিলের মানও রাখেন রুহুল কবির রিজভী। মনভরে জয়গান করেন শিল্পপতির।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আলহাজ্ব মো. শাহ আলম দেশের একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। তিনি দলের প্রতি অনুগত হয়ে কাজ করছেন। কিছু ব্যবসায়ী আছেন যারা দলের সুসময়ে আসে আর দু:সময়ে চলে যায়। কিন্তু আলহাজ্ব মো. শাহ আলম বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে দলকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করছেন। আমি যখনই জেলে গেছি তিনি আমার সাথে সবসময় যোগাযোগ রেখেছেন, আমাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।’

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের যোগ্য অভিভাবক আলহাজ্ব মো. শাহ আলম। তিনি অত্যান্ত উদারপন্থী মানুষ, কারণ তার সুপারিশেই গিয়াস উদ্দিন সাহেব বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হয়েছেন।’

রিজভী বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ নানা কারণে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। রাজধানীর পাশের এ জেলার প্রতি সবার নজর থাকে। আপনারা দেখেছেন বিগত দিনে কিভাবে ভোট ডাকাতি করে বিএনপিকে হারানো হয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে শাহ আলম ভোটে এগিয়ে থাকলেও তাকে কৌশলে কারচুপির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ হারিয়ে দিয়েছে। শাহ আলমের মত শিল্পপতি অনেক নেতা বিগত দিনে ও এখনো বিএনপি থেকে অনেক নিয়েছে। কিন্তু শাহআলম কিছু নেয়নি। বরং বিএনপিকে দিয়েছে। দলের দুঃসময়ে যখন শিল্পপতিরা বিগত দিনের সুবিধা গ্রহণকে অস্বীকার করে দলকে তোয়াক্কা করে না তখন শাহ আলমদের মত নেতারা দলের পাশে আছেন। সে কারণে তিনি অবশ্যই মূল্যায়নের যোগ্য। ওনার মত নেতার এমপি হওয়া দলের স্বার্থে প্রয়োজন।’

আর উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ বলেছেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের নির্বাচন করবেন আলহাজ্ব মো. শাহ আলম।’

এরআগে, সম্প্রতি শাহ আলমের উদ্যোগেই ফতুল্লা থানা বিএনপির নেতাকর্মীদের সম্মানে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনীতে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায় আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী হিসেবে শিল্পপতি শাহ আলমের নাম ঘোষণা করেন। যা নিয়ে তৃণমুলে চরম সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here