নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: ৪৯ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আলম সোহরাওয়ার্দী রুবেল ও ইয়াবা ক্রেতা সাবিনা আক্তার রুনু (২৫) কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে এনেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবি।
শুক্রবার (৯ মার্চ) নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আশেক ইমামের আদালতে আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড প্রার্থণা করলে আদালত সোহরাওয়ার্দীর ৫ দিন এবং রুনুর ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এরআগে গত ৮ মার্চ রাতে এএসআই আলম সোহরাওয়ার্দী রুবেল ও ইয়াবা ক্রেতা সাবিনা আক্তার রুনুসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বন্দর থানায় মাদক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করে ডিবির এসআই মো: মাসুদ রানা।

যার মধ্যে কুমিল্লা থেকে ইয়াবা আনায়নকারী আব্দুর রহমানসহ একজন ড্রাইভার পলাতক রয়েছেন।

মামলার বাদী ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: মাসুদ রানা নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে জানান, ‘কুমিল্লা থেকে আব্দুর রহমান নামে বড় মাদক ব্যবসায়ী গত ৭ মার্চ রাতে এএসআই আলম সোহরাওয়ার্দীর রুবেলের কাছে বিক্রির উদ্দেশ্যে ৪৯ হাজার পিস ইয়াবা নিয়ে এসেছিল। এরপর এই ইয়াবা ক্রয়ের জন্য বন্দর থানাধীন রূপালী আবাসিক এলাকায় রুবেলের বাসায় ৫ লাখ টাকা নিয়ে আসে একই এলাকার চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী আরিফের স্ত্রী সাবিনা আক্তার রুনু। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বন্দরে সোহরাওয়ার্দীর ফ্ল্যাট বাসায় অভিযান চালিয়ে বিছানার উপর বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে থাকা ৪৯ হাজার পিস ইয়াবাসহ সেখানে অবস্থানরত সোহরাওয়ার্দী এবং লুনার প্রদানকৃত ৫ লাখ টাকাসহ দুইজনকেই গ্রেফতার করা হয়।’

তবে এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ী আব্দুর রহমানসহ আরেকজন গাড়ী চালক পালিয়ে যায় বলে আরও জানান, এসআই মাসুদ রানা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক মো: গিয়াস উদ্দিন নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে জানান, ‘মাদকসহ গ্রেফতার এএসআই সোহরাওয়ার্দী ও রুনুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে শুক্রবার আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালত শুনানী শেষে সোহরাওয়ার্দীর ৫ ও রুনুর ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।’

উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ দিবাগত রাতে বন্দর রূপালী আবাসিক এলাকার ফ্ল্যাট বাসা থেকে ৪৯ হাজার পিস ইয়াবাসহ ডিবির হাতে গ্রেফতার হন সদর মডেল থানার তৎকালীন এএসআই আলম সোহরাওয়ার্দী রুবেল ও একই এলাকার ভাড়াটিয়া মুন্সীগঞ্জ জেলার দুর্ধর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আরিফ আলমের স্ত্রী সাবিনা আক্তার রুনু। এরপর নারায়ণগঞ্জ পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, এএসআই সোহরাওয়ার্দী মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার পাশাপাশি নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। সদর মডেল থানায় চাকুরীকালীন সময়ে তাকে রাতের বেলায় ডিউটি দেয়া হলে তিনি কাজে ফাঁকি দিয়ে অন্যত্র চলে যেতেন। এই ঘটনায় থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক জিডিও হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

ইতিপূর্বে তিনি বন্দর থানায় চাকুরীরত অবস্থায় এমন অনেক অনৈতিক কাজের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপের মুখে পড়লেও পরবর্তীতে তাদের ম্যানেজ করে সদর মডেল থানায় এসে যোগদান করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here