নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসন থেকে বিএনপি’র তিন হেভীওয়েট প্রার্থী মনোনয়ন পাওয়ায় তাদের মাঝ থেকে একজন বেছে নেয়াটা বিশাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে বিএনপি’র সামনে। তাছাড়া একজন নির্ধারণের পর বাকী দুজনের তাকে মেনে নেয়া নিয়েও রয়েছে সংশয়। তাই আসন্ন নির্বাচনে রূপগঞ্জে প্রার্থী নির্ধারণ করতে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে বিএনপি’র নীতি নির্ধারকদের।

সূত্রে প্রকাশ, এবারের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসন থেকে বিএনপি’র মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান। নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র ডাকসাইটে তিন নেতা একই আসন থেকে প্রার্থী হওয়ায় বিপাকে পরেছে বিএনপি। তাছাড়া ব্যাক্তিগত ইমেজে তিনজনই বেশ উঁচু মাপের হওয়ায় তাদের অনুসারীদের মাঝেও মত ও পথের রয়েছে বিস্তর ব্যবধান। আর সে ব্যবধান একক প্রার্থী ঘোষনার পরে কতটা দুর করা সম্ভব হবে তা নিয়েও ভাবতে হচ্ছে বিএনপিকে।

নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র সবচেয়ে হাই প্রোফাইল নেতা এড. তৈমূর আলম খন্দকারের পৈত্রিক নিবাস রূপঞ্জের রূপসীতে। স্থানীয়ভাবে বংশ পরম্পরায় জনপ্রিয় খন্দকার পরিবারের সদস্য তৈমূর আলম এ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী হওয়ায় রূপঞ্জের মানুষ বেশ উচ্ছসিত। তাছাড়া বিগত সময়ে সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে সাহসিকতার সাথে পুলিশের হামলা মামলাকে উপেক্ষা করে রাজপথে লড়াই সংগ্রাম করার কারনেরও তৈমূরের তৈরী হয়ে বিশাল গ্রহনযোগ্যতা। আর তাই এ আসনে বিএনপি’র সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য প্রার্থী হচ্ছেন এড. তৈমূর আলম খন্দকার।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার অত্যান্ত সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান মোস্তাফিুর রহমান ভূইয়া দিপু এবারের নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থ হওয়ায় মনোনয়নের প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে সুদর্শণ দিপু ভূইয়ার রয়েছে বিশাল জনপ্রিয়তা। তাছাড়া স্থানীয় নেতাকর্মীদের সুখে দু:খে সব সময় পাশে ছিলেন তিনি, বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে মামলা হামলায় বিপর্যস্ত নেতাকর্মীদের সহযোগীতা করেছেন নিরন্তর। আর তাই এ আসনে দিপু ভূইয়ার মনোনয়ন তৃনমূল নেতাকর্মীদের প্রাণের দাবীতে পরিনত হয়েছে।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামানও এ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী হয়েছেন। বিগত ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে নির্বাচন করে আওয়ামীলীগের প্রার্থী গোলাম দস্তগীর গাজীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। এবারেও তিনি প্রার্থী হওয়ায় তার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চাইছে বিএনপি। তাছাড়া কেন্দ্রীয় বিএনপিতে জোড় লবিং থাকায় ইতিপূর্বেও নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করেছেন কাজী মনির। তাই আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাজী মনিরও শক্ত প্রতিযোগী হয়ে দাড়িয়েছেন বাকী দুইজনের জন্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here