নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: মানুষ যখন কোন রোগে আক্রান্ত হয় তখনই তাকে ছুটে যেতে হয় ডাক্তার অথবা চিকিৎসকের কাছে। কিন্তুু ওই চিকিৎসক দ্বারা রোগীরা যদি হয় ভোগান্তির শিকার হন, তাহলে তো এর চেয়ে হতাশার আর কিছুই হতে পারে না।

তেমনই একটি চিকিৎসা কেন্দ্র হচ্ছে শহরের চাষাড়ায় অবস্থিত পপুলার ডায়াগনষ্টিক সেন্টার। যেখানে প্রতি নিয়তই ডাক্তার দ্বারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন চিকিৎসা সেবা নিতে আসা সাধারন রোগীরা। আর ডাক্তারদের কারনে এখন সেখানে রোগীদের সাথে আসা স্বজনরা শিকার হচ্ছেন নার্স বয়দের অসদাচরনের শিকার বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তবে শুধু অসদাচরনই নয়, দায়িত্বে অবহেলার কারনে পপুলার ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের এই নারায়ণগঞ্জ শাখায় অনধিক রোগী মারা যাওয়ার মতও ঘটনা ঘটেছে।

সম্প্রতি শহরের চাষাড়াস্থ পপুলার ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে সন্ধ্যা ৬ টায় সরেজমিন পরিদর্শনে সেখানে রোগী ভোগান্তির সত্যতাও মিলে।

চতুর্থ তলায় গিয়ে দেখা যায়, ৪১২ নং কক্ষে রোগীদের আলট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। আর এই পরীক্ষাটি করান ডা: মিজানুর রহমান। কিন্তু গত তিন দিন ধরে তিনি হাসপাতালে অনুপস্থিত থাকায় সেখানে আলট্রাসনোগ্রাম করাতে আসা রোগীদের পড়তে হচ্ছে চরম বিড়ম্বনায়। এই ডাক্তার না থাকার কারনে বন্ধ রয়েছে আলট্রাসনোগ্রাম করানো। ফলে গর্ভবতী মায়েদের সবচেয়ে বেশী ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রোগীদের স্বজনরা।

পপুলার ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে শারীরিক পরীক্ষা সহ ডাক্তার দেখাতে আসা একাধিক রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেন, এখানে পরীক্ষা করাতে এসে আমরা খুবই ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। ডাঃ মিজানুর রহমান গত তিন দিন ধরে আসেন না। আমরা প্রতিদিন এই চার তলার সিড়ি বেয়ে রোগীদের নিয়ে আসি, তারপর দেখি ডাক্তার নাই। এটা আমাদের ভোগান্তি ছাড়া আর কি হতে পারে বলেন? এরপর অন্য রুমে পরীক্ষার জন্য পাঠালে সেখানে কর্তব্যরত নার্সদের খারাপ আচনের শিকার হতে হচ্ছে আমাদের। নার্সরা এমন সব আচরন করেন যেন তারাই এই ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের মালিক, আর তারাই এখানকার ডাক্তার।

তবে শুধু নারায়ণগঞ্জ জেলার নয়, পাশের জেলা মুন্সীগঞ্জ থেকে আসা রোগীদের মুখেও একই ধরনের অভিযোগের কথা শুনতে পাওয়া যায়।

কিন্তু অভিযোগের বিষয়ে আরো জানতে রোগী ও তাদের স্বজনদের সাথে আলাপাচারিতার সময় পপুলার ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের চতুর্থ তলার ইনচার্জ পরিচয় দানকারী মো: সোহেল রানা এক ব্যাক্তি এসে এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমার সাথে কথা বলেন, আমি আপনাকে সবকিছু বলছি।’

এ সময় সোহেল রানা এই প্রতিবেদককে আরো বলেন, ‘আমাদের এখানে রোগী ভোগান্তির কোন ধরনের অভিযোগ নাই। আপনি উপরে আসেন, সেখানে আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আছে, তাদের সাথে কথা বলুন।’

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here