নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নির্যাতন বদ্ধের দাবিতে নগরীতে মানববন্ধন করেছে নারায়নগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের নেতৃবৃন্দ।
সোমবার (১৮ সেপ্টম্বর) বিকাল ৫টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনের সামনে অনুষ্ঠিত হয় এ মানববন্ধন।

নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি এড. জিয়াউল ইসলাম কাজলের সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন, কমিউনিষ্ট পার্টির জেলার সমন্বয়ক কমরেড বিমল কান্তি দাস, কমরেড হাফিজুর রহমান, গণসংহতির জেলার সমন্বয়ক কমরেড তরিকুল সুজন, আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টির সাধারন সম্পাদক এড. আওলাদ হোসেন, নাগরিক কমিটির সভাপতি এড. এবি সিদ্দিক, সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি এড. মাহবুবুর রহমান মাসুম,সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা রফিউর রাব্বি।

বক্তব্যে তরিকুল সুজন বলেন, কেউ কেউ মনে করছেন এটা একটি ধর্মীয় সমস্যা। মিয়ানমার বলছে এরা সংখ্যালঘু। রোহিঙ্গারা আজ নির্যাতিত। জাতিসংঘ আর চীন বলছে বাংলাদেশকে আশ্রয় দিতে। এই নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের নিয়ে আমাদের দেশে কেউ কেউ রাজনীতি করছে। আমাদের দাবি নিপীড়নের শিকার যেসব রোহিঙ্গারা এদেশে আসছে সরকারের প্রতি আমাদের দাবি থাকবে অবশ্যই যেন তাদের নিবন্ধন করা হয়।

এবি সিদ্দিক বলেন, সূচি সরকার মনে করেন মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মাটিতে কোন মানুষ থাকবে না, থাকবে শুধু পোড়া মাটি। এড.মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, রাখাইন রাজ্যের পাশে আছে আজ দেশের ১৬কোটি মানুষ। এতোবড় ন্যাক্কারজনক ঘটনার পরও আমাদের মায়ানমার থেকে চাল আমদানি করা হচ্ছে। এটা খুবই লজ্জার বিষয়। এটা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। এখন উচিত রাজনৈতিক দলগুলো একত্রে কাজ করা। মনে রাখবেন চীন রাশিয়া আমাদের পক্ষে নাই। চীন রাশিয়া এদেশে ঘাটি বানাতে চাইছে।

আব্দুর রহমান বলেন, রাখাইন রাজ্যের খনিজ সম্পদগুলো দখলে নিতেই যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া আর ভারত চেষ্টা করছে। বিশ্ভের সকল মানুষের কাছে প্রত্যাশা করবো যেন নির্যাতিত এসব রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে ফেরত নেয়া হয়।

রফিউর রাব্বি বলেন, আমরা ভয়াবহ একটি অবস্থার মধ্যে আছি। এই অবস্থা ধারন করার কতটুকু ক্ষমতা আমাদের রয়েছে আমাদের তা জানা নেই। মায়ানমার একটি বর্বর রাষ্ট্র। আমাদের ভূখন্ডে তারা ইয়বিা ব্যবসা করছে। দেশে ৩০ লক্ষ ইয়াবা সেবী রয়েছে। ৫৯হাজার ২’শ ৭৫কোটি টাকার ইয়াবার চালান মায়ানমার থেকে এদেশে আসছে। আর বর্ডার ঐরাকায় রয়েছে একাধিক ইয়াবা কারখানা। আজ বিশ্ব বলছে এটা মায়ানমারের আভ্যন্তরীন বিষয়। রাশিয়া, চীন, ভারত তাদের পক্ষ নিয়েছে। ভারত পরোক্ষ ভাবে তাদের সমর্থন করছে। ১৯৭১সালের যুদ্ধ ভারত শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার জন্যই সবকিছু করেছে। আরও যদি ১৪/১৫ লক্ষ রোহিঙ্গা এদেশে আসে তাহলে যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক কারো পক্ষে এটা সামলানো সম্ভব হবে না। আমরা অভিলম্বে রোহিঙ্গাদের কুটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এনব রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরত পাঠানোর জোর দাবি জানাচ্ছি সরকারের কাছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here