নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: সন্ত্রাসী হামলা ও উচ্ছেদ থেকে রক্ষা পাওয়ার আবেদন জানিয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও নিউ লক্ষ¥ী নারায়ণ কটন মিলস্ এর নিউট্রল চেয়ারম্যান রাব্বী মিয়ার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন মিলটির শেয়ার হোল্ডাররা ।
মঙ্গলবার (২৯ আগষ্ট) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ স্মারকলীপি প্রদান অনুষ্ঠিত হয়।

স্মারকলিপিতে নিউ লক্ষ¥ী নারায়ণ কটন মিলস্ এর শেয়ার হোল্ডাররা উল্লেখ করেন, যারা এখনও মিলটির অভ্যন্তরের আবাসিক এলাকায় বসবাস করছে, তারা লোক মুখে শুনতে পেয়েছে ঈদের বন্ধে তাদের বাসা বড়িতে আক্রমন চালানো হবে এবং জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হবে। সাবেক পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সামসুদ্দিন প্রধানের পরিবারের সদস্যরা এবং নীট কনসার্ণ গ্রুপের পালিত সন্ত্রাসীরা এখন সকাল বিকাল মহড়া দিচ্ছে এবং হুমকি প্রদান করে বলছে, ‘ঈদের বন্ধ পর্যন্ত বাসায় থাকতে পারবি, তারপরে কোথায় যাবি, ঠিক করে রাখিস’। সেই সাথে যারা প্রতিরোধ করবে তাদেও উপর হামলা করা ও মিথ্যা মামলা দায়েরর হুশিয়ারীও দিচ্ছে তারা। এমতাবস্থায় গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতবিহীন মানবেতর জীবন যাপন করছে মিলটির ভিতরে বসবাসকারীরা, আর তাই জেলা প্রশাসক এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশে মিলটির নিউট্রল চেয়ারম্যান রাব্বী মিয়ার সহযোগীতা সকলে প্রত্যাশা করছে।

এ সময় জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া তাদেরকে প্রয়োজনীয় সকল সহযোগীতা প্রদানের আশ^াস দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিউ লক্ষ¥ী নারায়ণ কটন মিলস্ এর শেয়ার হোল্ডার মো: আমলেক, বরেন্দ্র চন্দ্র দে, জীবনলাল, অনিল চক্রবর্তী প্রমূখ।

প্রসঙ্গত, নিউ লক্ষ¥ী নারায়ণ কটন মিলস্টি এক সময় সরকারী ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হতো। সরকারী ব্যবস্থায় মিলটি উৎপাদনে থাকাবস্থায় লোকসানের মুখে পরলে ২০০০ সালের এক প্রজ্ঞাপণের মাধ্যমে শ্রমিক কর্মচারীদের মধ্যে শেয়ার মালিকানায় হস্তান্তর করে সরকার। সেই সুবাদে আজো পর্যন্ত আমরা মিলের আবাসিক এলাকায় বসবাস করছে বেশ কয়েকটি পরিবার।

২০১১ সালে মিলটির পরিচালনা পর্ষদ নীট কনসার্ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন মোল্লাকে একজন বিনিয়োগকারী হিসেবে নিয়ে আসে এবং জয়নাল আবেদীন মোল্লা মিলটিকে উৎপাদনমূখী করবে জানিয়ে অনুমতি চায় শ্রমিক কর্মচারীদের কাছ থেকে। উৎপাদনমূখী মিলটিতে বহিরাগত বিনিয়োগকারী উৎপাদনের নামে শুরু করে লুটপাট। জোরপূর্বক অনেক শেয়ার হোল্ডারদের বাড়ি থেকে বের করে দেয় আর যারা অনুমতি প্রদান করেনি, তাদের বাড়ির গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় ২০১২ সালের জুন মাসে। কোন টেন্ডার ছাড়াই মিলের মেশিনারিজ ও বিভিন্ন আসবাবপত্র অবাধে লুটে নেয়। এসব অন্যায় কাজে বাঁধা দিয়ে বহুবার অস্ত্রেও মহরা চালানো হয়েছে শ্রমিক কর্মচারীদের উপর। আর নিরিহ শেযারহোল্ডারদের পরিবারের নামে দায়ের করা হয় মিথ্যা মামলা।

একটা সময়ে গিয়ে যে শেয়ারহোল্ডাররা অনুমতি দিয়েছিলেন, তারা পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ ত্যাগ করেন এবং নিজেদের মালিকার বিষয়ে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। সে মামলা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের কোম্পানী আদালতে চলমান আছে।

এরই ধারাবাহিকতায় যারা অনুমতি প্রদান থেকে বিরত ছিল, তারাও মামলা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের কোম্পানী আদালতে মামলা দায়ের করে। সে মামলায় পরিচালনা পর্ষদকে বিলুপ্ত ঘোষনা করে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসককে নিউট্রল চেয়ারম্যান করা হয়। সেই থেকে কোম্পানীর চেয়ারম্যান নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here