নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: লাখো পুণ্যার্থীর সমাগমে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলায় অবস্থিত সনাতন ধর্মালম্বীদের মহাতীর্থস্থান লাঙ্গলবন্দে শুরু হচ্ছে পুণ্যস্নান উৎসব।
শনিবার (২৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০ টায় মহাষ্টমী তিথি শুরু হয়ে শেষ হবে রবিবার (২৫ মার্চ) সকাল ৭ টা ৫২ মিনিটে।

দু’দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত স্নানোৎসবে লাঙ্গবন্দের ১৩ টি ঘাটে (অন্নপূর্ণা ঘাট, রাজঘাট, শংকর সাধুর ঘাট, মাকরী শান্তি ঘাট, গান্ধীঘাট বা মহাশ্মশান ঘাট, বরদেশ্বরী ঘাট, জয়কালী ঘাট, রক্ষাকালী ঘাট, পাষাণকালী ঘাট, প্রেমতলা ঘাট, চর শ্রীরামপুর ঘাট, দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ী ঘাট, কালীগঞ্জ ঘাট) পাপমোচনের আশায় সনাতন ধর্মালম্বীরা ‘হে মহাভাগব্রহ্মপুত্র, হেলৌহিত্য আমার পাপ হরণ কর’ এই মন্ত্র উচ্চারণ করে নদীতে ডুব দিবেন।

আর এই অষ্টমী স্নানোৎসবে যোগ দিতে শুক্রবারই (২৩ মার্চ) ভারত, নেপালসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন দূরাঞ্চল থেকে পুণ্যার্থীরা এসে সমবেত হতে থাকে। লাঙ্গলবন্দ এলাকায় স্থাপিত বিভিন্ন মন্দির ও দাতব্য সংস্থার নির্মিত সেবা ক্যাম্পে অবস্থান করেন পুণ্যার্থীরা। আবার অনেকে ভীড় এড়াতে অষ্টমী তিথি শুরু হওয়ার সাথে সাথেই পুণ্যস্নান সেরে ফেলার লক্ষ্যে শনিবার ভোর থেকেই লাঙ্গবন্দের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন বলে জানাযায়। এককথায়, প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও দেশ-বিদেশের প্রায় লাখো পুণ্যার্থীর সমাগমে সনাতন ধর্মালম্বীদের এক মিলনমেলায় পরিনত হবে মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ।

জানাগেছে, চৈত্রের শুক্লাষ্টমীতে জগতের সকল পবিত্র স্থানের পুণ্য ব্রহ্মপুত্রে মিলিত হয়। আর সেই নদীর জল স্পর্শ মাত্রই সকলের পাপ মোচন হওয়ার বিশ^াসেই প্রতিবছর অষ্টমী তিথিতে আদি ব্রহ্মপুত্রের এই লাঙ্গলবন্দ স্নানোৎসবে আসেন সনাতন ধর্মালম্বীরা। মূলত, ত্রেতাযুগ থেকে সনাতন ধর্মালম্বীদের কাছে লাঙ্গলবন্দ মহার্তীথ স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

এদিকে, মহাতীর্থ স্থান আদি ব্রহ্মপুত্রের এই লাঙ্গলবন্দ স্নানোৎসবকে ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও পুলিশ প্রশাসন।

আগত পুন্যার্থীদের স্নান ঘাটগুলোতে কাপড় পাল্টানো, বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং শৌচাগারের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান, বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিন্টু বেপারী।

তিনি আরো জানান, ‘স্নানোৎসব চলাকালীন সময় পুলিশ প্রশাসনের হাতে আটক যেকোন অপরাধীকে তাৎক্ষনিক সাজা প্রদানে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হবে।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা: এনামুল হক জানান, ‘পূণ্যার্থীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে শুক্রবার থেকেই ১০ শয্যা বিশিষ্ট অস্থায়ী হাসপাতালসহ ৫টি মেডিকেল টিম সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করছে। পাশাপাশি স্ট্যান্ডবাই ১০টি এ্যাম্বুলেন্স রাখা হয়েছে।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো: মঈনুল হক জানান, ‘স্নানোৎসব কে ঘিরে যেকোন ধরনের অরাজকতা রোধে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। লাঙ্গলবন্দের বিভিন্ন প্রবেশদ্বারে ১০ টি পুলিশ চেকপোস্ট বসানোর পাশাপাশি প্রত্যেকটি স্নান ঘাটে সিসি টিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তায় আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রায় দেড় হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছে।’

অপরদিকে, স্নানোৎসব কে ঘিরে শুক্রবার (২৩ মার্চ) দুপুরে লাঙ্গলবন্দ এলাকায় বিভিন্ন স্পটে স্থাপিত বিভিন্ন সেবা সংঘের ক্যাম্প পরিদর্শন করেন, মহাতীর্থ লাঙ্গবন্দ স্নানোৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক সরোজ কুমার সাহা, নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শংকর সাহা, জাগো হিন্দু পরিষদের সহ-সভাপতি অজয় সূত্রধরসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here