নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ পূর্ণ্যস্নান আগামী ২৪ ও ২৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সুষ্ঠুভাবে স্নান উৎসব সম্পন্ন করতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও লাঙ্গলবন্দ স্নান উদযাপন পরিষদ সহ হিন্দু নেতৃবৃন্দের সাথে মত বিনিময় ও প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় গত কয়েক বছরে স্নান উৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন ভাবে সম্পন্ন করতে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগীতা সহ সার্বিক সহযোগীতা এবং জেলা প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রদানের জন্য উদযাপন পরিষদ ও হিন্দু নেতৃবৃন্দদের পক্ষ থেকে তাদেরকে ধন্যবাদ সহ কৃতজ্ঞা প্রকাশ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসব শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ও হিন্দু নেতৃবৃন্দের সাথে প্রস্তুতি সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রস্তুতি সভায় ২০১৭ সালের স্নান উৎসবে সকল প্রকারের আয়োজন ঠিক রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সেই সাথে আরো উন্নত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কিনা এ ব্যাপারে স্নান উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দদের কাছে পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার পরিষদের নেতৃবৃন্দ নিজেদের মধ্যে আলোচনার পর লিখিত আকারে জেলা প্রশাসকের কাছে তাদের চুড়ান্ত পরামর্শ প্রদান করবেন। সেই মোতাবেক পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সভায় শান্তিপূর্ণ ভাবে স্নান উৎসব পালনের জন্য লাঙ্গলবন্দ এলাকায় রাস্তার দুপাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, কচুরি পানা পরিস্কার, প্রশাসনের নিরাপত্তায় ওয়ার্চ টাওয়ার, পয়নি:স্কাশন ব্যবস্থা, চেঞ্জিং রুম সহ প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। থাকবে কয়েক স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সেই সাথে নিয়োগ করা হবে আনসার বাহিনী নারী সেচ্ছাসেবী। থাকবে ফায়ার সার্ভিসের নিরাপত্তা কর্মী, অ্যাম্বুলেন্স, কমিউনিটি ক্লিনিক, নৌ-টহল সহ জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থা। লাঙ্গলবন্দ স্নান এলাকার ৩ কিলোমিটার জুড়ে নিরাপত্তায় স্থাপন করা হবে সিসি টিভি ক্যামেরা।

সভায় এমপি সেলিম ওসমান বলেন, লাঙ্গলবন্দ এলাকার উন্নয়নে সরকারের মেগা প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। বিভিন্ন কারনে সেই কাজ আমরা শুরু করতে পারিনি। তবে ইতোমধ্যে লাঙ্গলবন্দে ৭টি উন্নত মানের ঘাট নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু উৎসবের সময়ের স্বল্পতার কারণে এই মুহুর্তে কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ এখন কাজ শুরু করলে উৎসবের সময় পূন্যার্থীদের দুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে। তাই স্নান উৎসবের শেষে আমরা ওই এলাকার উন্নয়নের কাজ শুরু করবো। পর্যায়ক্রমে লাঙ্গলবন্দ একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রের মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে বলে আমরা আশাবাদী। আমি সকলের কাছে অনুরোধ রাখতে গত কয়েক বছরের ন্যায় হিন্দু নেতৃবৃন্দ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় এলাকাবাসী সকলে সম্মিলিতভাবে স্নান উৎসবকে শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগীতা করবেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ রাব্বী মিয়া’র সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মতিয়ার রহমান, জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো: মোখলেছুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রধাণ নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নজরুল ইসলাম, জেলা সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ডা: গাজী মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, বন্দর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা পিন্টু বেপারী, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, জেলা চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হক নিপু, হিন্দু ধর্ম কল্যাণ ট্রাষ্টের ট্রাষ্ট্রি পরিতোষ কান্তি সাহা, মোগড়াাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ করিম বাবু, মহার্তীত লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসব উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক সরোজ কুমার সাহা, নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপণ পরিষদের সভাপতি শংকর কুমার সাহা,মহানগর পূজা উদযাপণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখণ সরকার শিপন, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি কমান্ডার গোপিনাথ দাস, কমলেশ সাহা, সাংবাদিক উত্তম সাহা, রিপন ভাওয়াল, বিমল দাস, সুশীল দাস, তপন ঘোপ সাধু, শংকর কুমার, শ্যামল বিশ্বাস, শিশির ঘোষ অমর, রিপন দাস, নিমাই দে, কৃষ্ণ আর্চায, পরেশ চৌধুরী প্রমুখ ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here