নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: বয়সের তুলনায় তারা হয়ে গেছেন যুবক, রাজনীতিও করেন মূল দলের। কিন্তু কারো কারো কাছে উভয়েই এখনও ‘তরুণ’ হিসেবেই আছেন। যেই কারনে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘তরুণ’ প্রার্থী হিসেবেই ‘ধানের শীষ’ প্রত্যাশায় হঠাৎ ‘লাপাত্তা’ হয়ে গেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা কেন্দ্রীয় বিএনপির এই দুই নেতা।
যার মধ্যে একজন হচ্ছেন, আড়াইহাজার উপজেলাধীন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ।

অপরজন, রূপগঞ্জ উপজেলাধীন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু।

অনেকের মতে, বিএনপির এই দুই ‘তরুণ’ নেতা নাকি তৃণমূলের প্রাণ! যার ফলে তাদের ডাকে শীর্ষস্থানীয়সহ শত শত তৃণমূল নেতাকর্মীও নাকি তাদের ছায়াতলে চলে আসেন। যারা মামলা হামলার ভয়কে উপেক্ষা করে সরকার বিরোধী আন্দোলনে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ভাবে রাজপথে থাকতে দিয়ে থাকেন নানা নির্দেশনা।

অথচ, খোদ দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে সদ্য দু’দিন যাবত বিএনপির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে অনুষ্ঠিত হলেও মনোনয়ন প্রত্যাশী নজরুল ইসলাম আজাদ ও মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু ছিলেন ‘লাপাত্তা’ বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

তাদের অভিযোগ, ‘যেই কারনে, রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল করা তো দূরের কথা, বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানার প্রতিবাদ জানাতে বিবৃতি দেয়ার মতও আজাদ দিপুর কোন ভাষা ছিল না। অথচ, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ করছেন নিজেদের নির্বাচনী ভাবনা, পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা।’

যেখানে আজাদ আর দিপু দাবী করেছেন, ‘বিগত আন্দোলন সংগ্রামে আমি আমার নেতাকর্মীরা সক্রিয় ছিলো। আগামীতেও যদি দলের আন্দোলন সংগ্রাম আসে সেখানে নিজেদের সকল শক্তি নিয়েই আমরা মাঠে সক্রিয় থাকবো।’

কিন্তু আগামী অর্থাৎ ভবিষ্যতে আন্দোলন করতে মাঠে নামা তো পরের বিষয়, বর্তমানে দলীয় চেয়ারপার্সনের স্বার্থেই মাঠে নামতে পারেনি কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া। মূলত, তাদের মত নেতারা দলের নয়, শুধু নিজ স্বার্থেই রাজনীতি করে থাকেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দ।

তাই নিজ স্বার্থ হাসিলে যেমন নিজেকে জিয়া পরিবারের সদস্য পরিচয় দিয়ে নজরুল ইসলাম আজাদ আর পূর্ব পুরুষদের গচ্ছিত অর্থ সম্পত্তির প্রভাবে মোস্তাফিজুর রহমান দিপু দলীয় নেতাকর্মীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন, ঠিক তেমনি বিএনপির সুবিধাভোগী নেতাকর্মীরাই তাদের বলয়ে রয়েছেন আবার কেউ কেউ নতুন করে গিয়ে ভীড়ছেন।

কিন্তু জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আদর্শে বিশ^াসী প্রকৃত নেতৃবৃন্দরা নিজ নিজ অবস্থান থেকেই বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করাসহ অবৈধ সরকার হটিয়ে গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে মামলা, পুলিশী হামলার ভয়কে উপেক্ষা করে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন বলে মন্তব্য করেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here