নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: রাজনীতিবিদ হউক আর জনপ্রতিনিধি, উভয় ক্ষেত্রেই উভয়ে যেমন সহকর্মী, তেমনি প্রভাবশালী। যার মধ্যে একজন হচ্ছেন ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক ও বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ এম শওকত আলী।

অপরজন, ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মনিরুল আলম সেন্টু।

তবে দু’জনেই দুই দলের রাজনীতিবিদ তথা দুই ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি হলেও উভয়েই একই সাংসদ শামীম ওসমানের অনুসারী।

যেই কারনে, শওকত আলী অনেকটা প্রত্যাশা নিয়েই মনিরুল আলম সেন্টুকে দল বদল করে বিএনপি থেকে আওয়ামীলীগের যোগদানের প্রস্তাব দেন। কিন্তু তাৎক্ষনিক সেন্টু শওকত আলীর প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে কোন মন্তব্য না করলেও ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগ ও বিএনপির তৃণমূলে রীতিমত কানাঘুষা শুরু হয়ে গেছে, ‘সেন্টু কি সত্যিই শওকত আলীর প্রস্তাবে সাড়া দিবেন, নাকি রাজনৈতিক রসিকতা ভেবে চিন্তা ভাবনা করবেন?।’

কেননা, ডিএনডি বাঁধের উন্নয়ণ প্রকল্পের কাজ উদ্বোধনের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানানোর লক্ষ্যে গত ১৫ অক্টোবর সিদ্ধিরগঞ্জে থানা আওয়ামীলীগ আয়োজিত সমাবেশে পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম, প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম হিরু বীর প্রতিক এর উপস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ¦ মজিবুর রহমানের হাতে ফুলের ‘নৌকা’ তুলে দিয়ে বিএনপি থেকে কয়েকশত নেতাকর্মী নিয়ে আওয়ামীলীগে যোগ দিয়েছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক পৌর প্রশাসক ও বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা আলহাজ¦ আব্দুল মতিন প্রধান।

এরপর গত ১৯ অক্টোবর কুতুবপুর ইউনিয়নাধীন দেলপাড়া মাঠে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগ আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম হিরু বীর প্রতিক এর উপস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই ও ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ সাইফুল্লাহ বাদলের হাতে ফুলের ‘নৌকা’ তুলে দিয়ে কয়েকশত নেতাকর্মী নিয়ে বিএনপি থেকে আওয়ামীলীগে যোগদান করেন কুতুবপুর ইউনিয়ন ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও বিএনপি নেতা রোকন উদ্দিন ও কামাল হোসেন পাটোয়ারী।

যার প্রেক্ষিতে উক্ত সমাবেশে বক্তব্য কালে সাংসদ শামীম ওসমানের জয়গাণ করে মঞ্চে উপবিষ্ট অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম হিরু বীর প্রতিক, বিশেষ অতিথি ঢাকা-৪ আসনের জাতীয় পার্টির সাংসদ আবু হোসেন বাবলা, সংরক্ষিত আসনের নারী এমপি সানজিদা খানমসহ জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের বাহ্ব্ াকুঁড়িয়ে চলে যাচ্ছিলেন মনিরুল আলম সেন্টু, ঠিক তখনই অনুষ্ঠানের সঞ্চালকের দায়িত্বে থাকা ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এম শওকত আলী সেন্টুকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘চেয়ারম্যান সাহেব আপনি তো সারাদিন আমাদের সাথেই থাকেন। তাহলে আর দেরী কেন, অতি শীঘ্রই আমাদের দলে এসে যোগদান করেন।’

তখন শওকত আলীর প্রস্তাবের তাৎক্ষনিক কোন উত্তর না দিয়ে নীরবে চলে যান সেন্টু, বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শী জনৈক আওয়ামীলীগ নেতা।

তবে এব্যাপারে মতামত জানতে ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ¦ মনিরুল আলম সেন্টুর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here