নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় গত ১ এপ্রিল নিহত হয়েছিলেন ফতুল্লা থানাধীন কাশীপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের আদর্শনগর এলাকার শরীফ মাদবর। হত্যার ঘটনার পর শরীফের বাবা আলাল মাদবর বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এপর্যন্ত ৯জন এজাহার ভুক্তসহ মোট ১৭জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যাদের মধ্যে তিনজন এই হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করেছেন।

কিন্তু এই হত্যাকান্ড নিয়ে রয়েছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। যা এই প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, শরীফের ঘাতক শাকিল ও লালনের নেতৃত্বে পরিচালিত হওয়া কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। তবে শাকিল ও লালন ছাড়াও আদর্শনগর এলাকায় আরেকটি গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিতো সোহাগ নামে এক কিশোর। এলাকার আধিপত্য নিয়ে এই দুই গ্যাংয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

শরীফ ছিল শাকিল ও লালনের ছোট কালের বন্ধু । অপর দিকে সোহাগ ছিল শরীফের ফুপাতো ভাই। গত ছয় মাস আগেও শাকিল গ্যাংয়ের সাথে সোহাগ গ্যাংয়ের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সংঘর্ষে শাকিল গ্যাংয়ের কয়েজন আহত হয়েছিল। ঐ ঘটনার পরই শরীফের সাথেও শাকিল গ্যাংয়ের বিরোধ সৃষ্টি হয়। সংর্ঘের পর তা মিমাংশা করে দিয়েছিলেন কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. সাইফুল্লাহ বাদল। মিমাংশায় বাদল শাকিল গ্যাংয়ের পক্ষে থাকলেও প্রতিশোধ নিয়ে মরিয়া হয়ে উঠে শাকিল।

বিভিন্ন সময় সোহাগের উপর হামলার পরিকল্পনা করেও ব্যর্থ হয় শাকিল। পরে গত ১ এপ্রিল সকালে তর্ক বিতর্কের এক পর্যায়ে সোহাগ গ্যায়েংর হামলায় আহত হয় শাকিল গ্যাংয়ের সদস্য রাজু। খবর পেয়ে ছুটে আসে লালনের নেতৃত্বে শাকিল গ্যাংয়ের সদস্যরা। তৎক্ষনিক সোহাগ নিজে বাঁচার জন্য শরীফকে ফোন দেয়। ফোন পেয়ে শরীফ নিচে এসে লাললকে বাধা দিলে তাৎক্ষনিক ছুড়ি দিয়ে আঘাত করে লিমন আরেক সন্ত্রাসী। সেই লিমকেই গ্রেফতার করেছিল র‌্যাব-১১। এতেই মৃত্যু হয় শরীফের। কোন গ্যাংয়ের সাথে সম্পর্ক না থাকলেও নিজের ফুপাতো ভাই সোহাগের জন্য খুন হতে হয় নিরহ শরীফকে। এদিকে, শরীফ হত্যার পর শাকিল গ্যাংয়ের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে গেছে নতুন গ্যাং তৈরী করে এলাকায় লুটপাট ও সন্ত্রাসীদের রাম রাজত্ব কয়েক করার অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার জাহাঙ্গীর ওরফে কালা জাহাঙ্গীর ও সালাউদ্দিন নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

জাহাঙ্গীর ও সালাউদ্দিন আগে শাকিল গ্যাংয়ের শেল্টার দাতা হলেও গ্যাং বড় হয়ে যাওয়ায় জাহাঙ্গীর ও সালাউদ্দিনকে আউট করে দেয়। এরপর দীর্ঘদিন নিশ্চুপ থাকার পর শরীফ হত্যার পর ফের সক্রিয় হয়ে উঠে কালা জাহাঙ্গীর। এরই মধ্যে শাকিল গ্যাংয়ের সদস্যদের বাড়িতে টাকা ও স্বর্ণ লুট করেছে জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে আদর্শ নগরের নয়া কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। এমনকি লুট করা টাকাতার ভাগাভাগি নিয়েও জাহাঙ্গীরের বোন জামাতা মোহাম্মদ আলীর সাথে। ইতিমধ্যে জাহাঙ্গীরের এলাকার নীরহ লোকদের পিটিয়ে আহত করে নিজের আধিপত্য ফিরে পেতে কাজ করছেন। জাহাঙ্গীর ফতুল্লা যুবদলের ক্যাডার।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সাড়াদেশে নাশকতা শুরু হলে কাশীপুর ভোলাই এলাকায় গাড়িতে আগুন দিয়েছিল এই জাহাঙ্গীর। ঐ সময়ে একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছিল জাহাঙ্গীরকে। তৎকালীন ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করার চেষ্টা করলেও পরিচয় বের করতে না পারায় তা সম্ভব হয়নি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার বিরোধী গোপন বৈঠক করা কালে জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতারের অভিযান চালিয়েছিল ফতুল্লা থানা পুলিশ। ঐ সময় আত্মগোপনে চলে গিয়েছিল জাহাঙ্গীর।

এরপর এলাকায় ফিরে আসলেও দীর্ঘদিন ছিলেন নিশ্চুপ। কিন্তু শরীফ হত্যার পর ফের নিজের আধিপত্য ফিরে পেতে নয়া গ্যাং তৈরী করে জাহাঙ্গীর। এরই মধ্যে শরীফের বাবার সরলতার সুযোগ নিয়ে তার সাথে থেকে নিজের স্বার্থ হাসিল করছে জাহাঙ্গীর। শাকিলের গ্যাংয়ের সদস্য ও তার আত্মীয়দের বাড়িতে লুটপাট, এলাকার নীরহদের উপর হামলা, মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার দেয়াসহ নানা অপকর্ম করে যাচ্ছে জাহাঙ্গীর।

এব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসেন জানান, আদর্শনগর নতুন করে কোন গ্যাং তৈরী হতে দেয়া যাবে না। লুটপাটের কথা শুনেছি কিন্তু লিখিত ভাবে কেউ অভিযোগ দেয়নি। তবে লুটপাতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখ্য, সোহাগ জাহাঙ্গীরের অত্যাচারে অনেকেই এখন আদর্শনগর এলাকা ছাড়তে শুরু করেছে। পাশাপাশি জাহাঙ্গীর নিজের আধিপত্য ফিরে পেতে নয়া গ্যাং তৈরী করায় আদর্শনগরে আবারো বড় ধরণের অঘটন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here