প্রেস বিজ্ঞপ্তি: দেশের বিভিন্ন শহীদ মিনারে পুস্পমাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার কার্য শুরু করেন। কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবি নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে ১১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি আসনের ৫ জন প্রার্থী সমবেত হয়ে পুস্পমাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারকার্য শুরু করে।

নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী মোঃ মনিরুজ্জামান চন্দন, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী হাফিজুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী আব্দুস সালাম বাবুল, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী ইকবাল হোসেন। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রার্থী এড. মন্টু ঘোষ শহিদ মিনারে পুস্প মাল্য অর্পন করেন। পুস্পমাল্য অর্পনের পূর্বে ‘ভিশন-মুক্তিযুদ্ধ’ ৭১’ শিরোনামে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবি’র নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি কমরেড হাফিজুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন কমরেড এড. মন্টু ঘোষ, কমরেড শিবনাথ চক্রবর্তী, কমরেড দুলাল সাহা, কমরেড বিমল কান্তি দাস, কমরেড আব্দুল হাই শরীফ, কমরেড ইকবাল হোসেন, কমরেড আব্দুস সালাম বাবুল ও কমরেড মনিরুজ্জামান চন্দন।

সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্ত-নি¤œবিত্ত জনগণ যে ধরনের বাংলাদেশ নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। সেই স্বপ্ন হলো ‘ভিশন-মুক্তিযুদ্ধ ৭১’। এই ‘ভিশন-মুক্তিযুদ্ধ ৭১’ এর ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে বর্তমান সময়ের সুনির্দিষ্ট বাস্তবতায় তার নবায়নের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেয়াই আজ জাতির সামনে মৌলিক কর্তব্য। আওয়ামীলীগ ও বিএনপি এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাদের অক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। এমনকি এই দুটি দলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা দ্বি-দলীয় রাজনৈতিক কাঠামো দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।

বরং যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা ক্রমান্বয়ে আরও কর্তৃত্ববাদী ও স্বৈরাচারী হয়ে উঠেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র নির্মাণের ধারার বিপরীতে দেশে লুটপাটতন্ত্রের ধারা শক্তিশালী করেছে। বাংলাদেশে এখন মূল দ্বন্দ্ব হলো ‘এক ভাগ’ লুটপাটকারী গোষ্ঠীর সঙ্গে ‘নিরানব্বই ভাগ’ জনগনের স্বার্থের দ্বন্দ্ব। অথচ এই মৌলিক দ্বন্দ্বকে আড়াল করতে ওই ‘এক ভাগ’- এর স্বার্থরক্ষাকারী দুটি রাজনৈতিক দলের ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে দেশের জনগনের সামনে প্রধান দ্বন্দ্ব হিসেবে বজায় রাখা হয়েছে। এ দুটি রাজনৈতিক দল একে অপরের বিকল্প নয়-তারা আসলে একই পক্ষের, তথা সমাজের ‘এক ভাগ’ লুটেরা শোষকদের স্বার্থরক্ষাকারী পক্ষের দুটি প্রধান বিবাদমান গোষ্ঠী। ‘এক ভাগ’ মানুষের পকেট ভরার তথাকথিত উন্নয়নের মডেল পরিত্যাগ করে, গণতন্ত্রকে ধারন করেই ‘নিরানব্বই ভাগ’ মানুষের অংশগ্রহণে এবং তাদের স্বার্থে সমাজতন্ত্র অভিমুখীন উন্নয়ন ধারার ‘বিকল্প পথ’ অনুসরণ করা আজ অপরিহার্য কর্তব্য হয়ে উঠেছে।

জনগনকে সঙ্গে নিয়ে বর্তমানে দেশ ও জনগনের প্রধান চার বিপদ – ‘লুটপাটতন্ত্র, গণতন্ত্রহীনতা, সা¤্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা’ কে পরাস্ত করে এবং লুটপাটের ‘ব্যবস্থা বদল’ করে বিকল্প রাজনৈতিক কর্মসূচী ও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করতে সিপিবি বদ্ধপরিকর। সিপিবি’র আহ্বান – সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘কাস্তে’ মার্কায় সিপিবি’র মনোনীত প্রার্থীদের এবং ‘মই ও কোদাল’ মার্কায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের অন্য প্রার্থীদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here