নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: প্রধান প্রতিদ্বন্দী, একদিকে বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত আর অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আলহাজ¦ আজহারুল ইসলাম মান্নান।
আগীম ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে প্রধান দুই এই প্রতিদ্বন্দীর শক্তিশালী অবস্থানের কারনে শুরুতে বেকায়দায়ই পড়ে গিয়েছিলেন জাতীয় পার্টির মনোনীত মহাজোটের প্রার্থী ও বিনা ভোটে নির্বাচিত এমপি আলহাজ¦ লিয়াকত হোসেন খোকা।

আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টি মহাজোট হয়ে নারায়ণগঞ্জের সংসদীয় ৫টি আসনে সমঝোতার ভিত্তিতে নৌকা লাঙ্গলের প্রার্থী দেয়ার পর যখন দু’টি দলেরই দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীরা তাদের দলীয় প্রধানের নির্দেশে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া থেকে বিরত রয়ে যান তখন একমাত্র নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে কায়সার হাসনাত নির্বাচনের মাঠে স্বতন্ত্র হিসেবে রয়ে যাওয়ায় নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে অনেকটাই হতাশার সাগরে নিমজ্জিত হয়ে যান মহাজোটের প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকা।

সিংহ প্রতীক নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী কায়সার হাসনাত ও ধানের শীষ নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান পুরোদমে মাঠে নেমে পড়লেও ততক্ষণে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগকে বাগে আনতে জাতীয় পার্টির এমপি খোকা অনেকটাই ঘাম ঝড়ান।

এরপর সদ্য জেলা ও সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দরা বর্ধিত সভা করে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে তাঁর পক্ষে মাঠে নামার ঘোষণা দিলেও যেন জয়ের ব্যাপারে খোকার চোখেমুখে ছিল চিন্তার ভাঁজ!

কিন্তু এবার নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের আওয়ামীলীগের এমপি ও মহাজোটের প্রভাবশালী প্রার্থী আলহাজ¦ এ কে এম শামীম ওসমান ভোটের দিন নিজের আসনের পরিবর্তে সকাল থেকেই সোনারগাঁয়ে অবস্থানের ঘোষণা দেয়ায় যেন নিজের জয়ের ব্যাপারে এবার স্বস্তির নি:শ^াস ফেলেছেন খোকা!

এমনটাই মন্তব্য করেছেন মহাজোটের প্রার্থী খোকার ঘনিষ্টজনেরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খোকার রাজনৈতিক এক সহচর জানান, আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কায়সার হাসনাত আর বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি সোনারগাঁয়ে বিএনপির প্রার্থী মান্নানের জনপ্রিয়তা থাকায় মহাজোটের মনোনীত প্রার্থী হয়েও জয়ের ব্যাপারে অনেকটাই বিচলিত ছিলেন লিয়াকত হোসেন খোকা। সদ্য আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা তাঁর পাশে দাঁড়ানোর পরেও যেন চিন্তামুক্ত হতে পারছিলেন তিনি। কিন্তু বিজয় দিবসের দিন সোনারগাঁয়ে এসে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের কান্ডারী শামীম ওসমান ভোটের দিন নিজের এলাকার না থেকে সোনারগাঁয়ে অবস্থানের ঘোষণা দেয়ার পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী কায়সার হাসনাতকে মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে নামার আহ্বান জানিয়ে যাওয়ার পর যেন স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন খোকা। এরপর থেকেই বেশ খোশ মেজাজে দেখা গেছে তাঁকে।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে গত ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ মোগড়াপাড়া চৌরাস্তায় আলোচনা সভার আয়োজন করে উপজেলা আওয়ামীলীগ। যেখানে উক্ত আসনের এমপি ও মহাজোটের প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকার উপস্থিতিতেই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামীলীগের প্রার্থী ও প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান বক্তব্যকালে আগামী ৩০ ভোটের দিন সকাল থেকেই সোনারগাঁয়ে অবস্থানের ঘোষণা দেন।

সোনারগাঁয়ের স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল কায়সারকে আহ্বান জানিয়ে শামীম ওসমান বলেছেন, ‘দল মহাজোটকে এ আসন ছাড় দিয়েছে। আমি আশা করি কায়সার ১৮ তারিখের পর এক মঞ্চে লাঙ্গলের পক্ষে ভোট চাইবেন। দলের স্বার্থ পরিপন্থী কাজ করবেন না। যারা দলের স্বার্থ পরিপন্থী কাজ করবেন তাদের ছাড় দেয়া হবে না।’

আর নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানকে হুঁশিয়ার করে শামীম ওসমান বলেছেন, ‘জাতীয় সংসদ হলো আইন পাশ করার জায়গা। তাই সংসদ সদস্য হতে হলে যোগ্যতার প্রয়োজন। এরজন্য ভালো করে বাংলা ইংরেজী ভাষা জানতে হয়। কিন্তু এ আসনের বিএনপি প্রার্থীর তো সেই যোগ্যতাই নেই। আমি আপনাকে সাবধান করে দিলাম, একদম সাবধান! যদি অন্য কোন পথ চিন্তা করে থাকেন, যদি আগের মতো জ্বালাও পোড়াও করার চিন্তা করেন তাহলে কোন ছাড় হবে না। নারায়ণগঞ্জে কোন খেলা খেলবেন না। ওই টাকা কাজে লাগবে না। খো খেললে, “মা” বলার পর আর “গো” বলার সুযোগ দিব না। কারন এই লড়াই হচ্ছে স্বাধীনতার পক্ষের-বিপক্ষের লড়াই। কাউকে কোন ছাড় নাই।’

তবে মহাজোট প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকাকেও কোন রকমের ছাড় দিতে নারাজ স্বতন্ত্র প্রার্থী কায়সার হাসনাত ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান।

ইতিমধ্যেই কায়সার হাসনাত সিংহ প্রতীকে প্রচারনায় নেমে জানিয়েছেন, সোনারগাঁয়ে আওয়ামীলীগে বাঁচাতেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু কোনক্রমেই পিছু হটবেন না।

এব্যাপারে জানতে চাইলে সোনারগাঁ আসনের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, আমরা এই নির্বাচনের ভোট যুদ্ধ হিসেবে নিয়েছি। আর এই যুদ্ধে যেহেতু সোনারগাঁয়ের সেনাপতি আমি, সেহেতু যে যতই হুমকি ধামকি দেউক না কেন, যুদ্ধের মাঠ থেকে কোনমতেই পিছু হটবো না।

আর স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল কায়সার হাসনাতের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মুঠোফোন রিসিভ না করায় তাঁর অভিমত নেয়া সম্ভব হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here