নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতি মানেই হচ্ছে আইভী শামীম ওসমান! যার প্রভাব পড়েছে দলের অঙ্গসংগঠন গুলোতেও। যেমনটি হয়েছে নারায়ণগঞ্জ যুবলীগের ক্ষেত্রে। জেলা ও শহর কমিটির নেতৃত্বে থাকা নেতারা দু’টি গ্রুপে বিভক্ত থাকায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে যুবলীগের নেতাকর্মীরা। যার ফলে এখন দলীয় কর্মসূচী পালনেও শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দদের মাঝে বিভক্তি স্পষ্ট ভাবে দেখা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও শহর যুবলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই দীর্ঘদিন যাবত। সম্মেলনের পর বর্তমান জেলা কমিটির মেয়াদ পার করেছে প্রায় ১০ বছর। আর নারায়ণগঞ্জ এখন মহানগর হলেও শহর কমিটি হিসেবেই চলছে সাংগঠনিক কার্যক্রম।

বিগত ২০০৬ সালের অক্টোবরে বিএনপির নেতৃত্বে চার দলীয় জোট সরকার আমলে জেলা যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জেলা যুবলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন আব্দুল কাদির ও সাধারন সম্পাদক হন অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল। তখন সভাপতির পদে প্রতিদ্বন্দীতা করেন সিনিয়র সহ-সভাপতি জাকিরুল আলম হেলাল।

৪ দলীয় জোট সরকার আমলে দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখলেও এখন যুবলীগ প্রায় নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে এমন অভিমত তৃণমূল নেতাকর্মীদের। নেতৃত্বে থাকা নেতারা যেন হারিয়ে গেছে অনেক আগেই। জেলা ও শহর যুবলীগ কমিটিতেই রয়েছে নেতৃত্বে থাকা নেতাদের বিরোধ ও বিভক্তি।

জেলা সভাপতি দক্ষিন মেরুর সিটি মেয়র আইভীর ভগ্নিপতি আর সাধারন সম্পাদক শামীম ওসমানের বন্ধু হওয়ায় কমিটি গঠন হলেও দুই মেরুর দুই জনের নেতৃত্বের কারনে সূচনালগ্ন থেকেই বিভক্ত ছিল জেলা কমিটি।

তবে শুধু জেলাই নয়, শহর কমিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু শামীম ওসমানের অনুসারী আর সাধারন সম্পাদক আলী আহাম্মদ রেজা উজ্জল আইভীর ভাই হওয়ায় এরাও কোনদিন একসাথে কোন কর্মসূচী পালন করতে পারেনি।

আর এই বিরোধের ফলে জেলা যুবলীগের প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক জহিরুল ইসলাম ভূইয়া পারভেজ গুম হলেও জেলা যুবলীগের কোন ভূমিকা ছিল না। যেই কারনে গুম হওয়ার তিন বছরেও অদ্যবধি পারভেজের কোন সন্ধান মিলেনি।

এদিকে, বিগত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর অদ্যবধি নারায়ণগঞ্জের ৭টি সাংগঠনিক থানা এলাকার কমিটি নিয়ে কোন সমাবেশ করতে পারেনি জেলা যুবলীগ। যেই কারনে নেতৃত্ব সংকটে ভুগছে থানা যুবলীগের নেতৃবৃন্দরা।

গত বছর জেলা আওয়ামীলীগের আংশিক কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান এড. আবু হাসনাত শহিল বাদল। যিনি জেলা যুবলীগেরও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এখনো দায়িত্বে রয়েছেন। জেলা যুবলীগের সক্রিয় নেতা শাহ নিজামও মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এবং জেলা যুবলীগে বহাল জাকিরুল আলম হেলাল মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়ে যাওয়ায় দিন দিন নেতৃত্বশূণ্য হয়ে পড়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগ। আর জেলা যুবলীগের মত শহর যুবলীগও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।

তবে বিশ^স্ত সূত্রে জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর যুবলীগের শীঘ্রই নতুন কমিটি ঘোষণা হতে যাচ্ছে। যেখানে নিজ বলয়ের নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে আনতে লবিং করছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ আলহাজ¦ একেএম শামীম ওসমান।

যুবলীগের কমিটিতে তাদের নিজস্ব বলয়ের লোককে ভাল পদে অধিষ্ঠিত করতে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর কাছে ইতিমধ্যে ফোন করে কয়েক দফা তদবির করেছেন তারা।

সূত্রমতে জানাগেছে, নেতাকর্মীদের প্রতিক্ষায় থাকা নতুন কমিটিতে জেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবে এহসানুল হোসেন নিপু, মহানগর যুবলীগের সভাপতি হিসেবে বর্তমান শহর কমিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু, ছাত্রলীগ জেলা সভাপতি সাফায়েত আলম সানীসহ আরো অনেকেই রয়েছেন শামীম ওসমানের পছন্দের তালিকায়।

আর যুবলীগের শীর্ষ পদে বর্তমান শহর কমিটির সাধারন সম্পাদক আলী আহাম্মদ রেজা উজ্জল, আবু সুফিয়ানসহ কয়েকজনকে অধিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আইভী বলে জানাযায়।

তাই শীঘ্রই নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর যুবলীগের নতুন কমিটি গঠনের দাবী জানিয়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here