নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আওয়ামীলীগের পার্টি অফিসের মত পবিত্র স্থানে বসে সাংসদ শামীম ওসমানকে নিয়ে কটুক্তিকারীদের কড়া হুঁশিয়ারী দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দরা। তারা বলেন, জামাত-শিবিরের টাকা খেয়ে আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে বসে শামীম ওসমানকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করবেন তা আমরা মেনে নিবো। আগামীতে আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে বসে শামীম ওসমানকে নিয়ে কেউ বিরূপ মন্তব্য করলে তাকে নারায়ণগঞ্জ ছাড়া করারও হুঁশিয়ারী দেন নেতৃবৃন্দরা।

শুক্রবার (২৫ আগষ্ট) শহরের ২নং রেল গেইটস্থ আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে জেলা ছাত্রলীগের আয়োজনে শোকাবহ আগস্টের আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দরা এই হুঁশিয়ারী দেন।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ সাফায়েত আলম সানীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুজনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ্ নিজাম।

বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হক নিপু, মহানগর স্বেচ্ছা সেবকলীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন।

শাহ্ নিজাম তার বক্তব্যে বলেন, ‘কর্মী বিহীন কিছু নেতা বন্ধ ঘরে বসে সাংসদ শামীম ওসমানকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে হাইব্রীড আওয়ামীলীগাররা। আগামী নির্বাচনের আগে বিরোধীরা আওয়ামীলীগের উপর আঘাত আনতে ঘাপটি মেরে বসে আছে। তাই স্বাধীনতা বিরোধীদের রুঁখতে যখন সাংসদ শামীম ওসমান ঐক্যের ডাক দিয়েছেন ঠিক তখনই কর্মীবিহীন নেতারা নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।’

মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে উদ্দেশ্য করে শাহ নিজাম বলেন, ‘আপনাকে সাংসদ শামীম ওসমান ও সাংসদ সেলিম ওসমান গুরু বলেন। আর আপনার সামনে বসে ওসমান পরিবার নিয়ে কটুক্তি করলেও আপনি কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।’

শাহ নিজাম বলেন, ‘কার্যালয়ে বসে আমাদের দল আওয়ামীলীগ ও আমাদেন নেতা শামীম ওসমানের ক্ষতি হবে এমন বক্তব্য দিবেন না। আর আগামীতে এই কার্যালয়ে বসে কোন প্রকার উস্কানী মূলক বক্তব্য দিলে তখন অঘটন ঘটলে তার জন্য দায়ী থাকবেন আপনারা। যে মহিলার জন্য আপনার মাতামাতি করছেন তাদের অতীত কি? বর্তমান কি তা কি আপনারা জানেন। কেন তাদের নিয়ে মাতামাতি করছেন। যারা খারাপ তাদের কেন দলে আনতে চাইছেন। আমাদের কোন আগাছার প্রয়োজন নেই।’

মিডিয়া কর্মীদের উদ্দেশ্যে শাহ নিজাম বলেন, ‘টানবাজারের রিতার ডাকেও কয়েকশ মহিলা রাস্তায় নেমে আসবো। তাই বলে সে কোন নেত্রী না। তার সাউটাই পুরো আলাদা। অতএব, আপনারা পত্রিকায় রিতার মত কারো ছবি ছাপিয়ে পত্রিকার মান নষ্ট করবেন না।’

এহসানুল হক নিপু বলেন, ‘আগস্ট মাস শোকের মাসের পাশাপাশি ষড়যন্ত্রের মাসও। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট এবং ২০১৭ সালের আগস্টেও আওয়ামীলীগ নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। আর এই ষড়যন্ত্র চলছে নারায়ণগঞ্জেও। জামাত-বিএনপি টাকা খেয়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগকে ধংস করতে হাইব্রীডরা সাংসদ শামীম ওসমানকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। যারা ষড়যন্ত্র করছে এবং যারা করাচ্ছে তাদের এখনই সাবধান হতে বলছি। নয়তো আমরা অশান্ত হয়ে গেলে আপনারা নারায়ণগঞ্জে থাকতে পারবেন না। নারায়ণগঞ্জের পবিত্র মাটিতে আপনারা পা রাখতে পারবেন না।’

জুয়েল হোসেন বলেন, ‘একজন বাজে মহিলা আমাদের নিয়ে এই পবিত্র পার্টি অফিসে বসে বিরূপ মন্তব্য করছে। ঐ মহিলার পূর্বের পরিচয় আমরা সকলেই জানি। যারা এর পিছনে ইন্ধন দিচ্ছে তাদেরকে আমরা চিনি। শেষ বারের মত শতর্ক করে দিচ্ছি। নয়তো নারায়ণগঞ্জের জনসাধরণ আপনাদের বিরুদ্ধে অবস্থা নিবে।’

সাফায়েত আলম সানী বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ও খন্দকার মোস্তাক একাট্টা হয়ে সর্বকালের বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করেছে। সেই মোস্তাকের প্রেতাত্মারা এখন নারায়ণগঞ্জে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। দুই টাকার মূল্য নেই এমন কিছু হাইব্রীড নেতা সাংসদ শামীম ওসমানকে নিয়ে কটুক্তি করছেন।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here