নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জবাসীকে ডিএনডি’র জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দিতে অনশনের ঘোষনা দিলেও সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে কাজ শুরু হতে যাওয়ার ফলে আর অনশনে বসতে হয়নি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমানকে।
কিন্তু তার পরিবর্তে এবার জলাবদ্ধতায় অতিষ্ঠ এক ডিএনডিবাসী শেখ খায়রুল আলম ডিএনডি’র জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবীতে নারায়ণগঞ্জ শহীদ মিনারে অনশনে বসেছেন।

বুধবার (২৩ আগষ্ট) সকালে তিনি অনশন শুরু করেন এবং সরকারী দফতরের আশ^াস না পাওয়া পর্যন্ত এই অনশন চালিয়ে যাবেন বলে জানান।

ডিএনডি’র অভ্যন্তরে জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবীতে অনশনরত শেখ খায়রুল আলম বলেন, আমি একজন সাধারন পোল্ট্রি ব্যাবসায়ী। বর্তমানে আমার র্ফাম পুরোটাই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে আমি আমার মুরগীগুলো বসতবাড়িতে এনে রেখেছি। আমাদের এলাকায় কোমর পর্যন্ত পানি, লুঙ্গি ছাড়া বাড়ি থেকে বের হওয়া যায়না, আবার নৌকা কিনবো, সেই সামর্থও নেই। আমার এই কর্মসূচিতে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের অংশ নেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সকালে হঠাৎ তারা বলেন যে, তারা লিংক রোডের সাইনবোর্ড এলাকায় রাস্তা অবরোধ করবেন। তখন আমি এতে দ্বিমত পোষন করে বলি, এতে সাধারন মানুষই ভোগান্তির শিকার হবে। আমি শান্তিপূর্ন আন্দোলনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চাই।

খায়রুল আলমকে জলাবদ্ধতার প্রসঙ্গে কোন সরকারি উর্ধতন কর্মকর্ত অথবা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সাথে যোগাযোগ করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত বছর ডিসেম্বওে এই ডিএনডির কাজ ধরবে বলে জানতে পরেছিলাম কিন্তু এখন পর্যন্ত কাজ শুরু করতে পরেনি। বিভিন্ন সময়ে আমরা শুকনা থেকে বিভিন্ন নেতাকর্মীদের এসে আন্দলোন করে আবার শুকনায় ফিরে যেতে দেখেছি,পানিতে ডুবে মরি আমরা ডিএনডি’র অভ্যন্তরের জনগন। বর্তমানে আমরা যে জলাবদ্ধতার মধ্যে বসবাস করছি তার থেকে পরিত্রাণ পেতে হবে, আমাদের এলাকায় বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ ও খাল দখলের জন্যই মূলত এই জলাবদ্ধতা। সামনে কোরবানী ঈদ, আর আমাদের এলাকায় এমন কোন শুকনা জায়গা নেই যেখানে আমরা পশু কোরবানী করতে পারব। তাই আমি ঈদের আগেই এই পানি নিস্কাশনের জন্য সরকারকে জরুরী ভিত্তিতে কার্যকরী পদক্ষ্যেপ গ্রহনের দাবী জানাই। অন্যথায় আমার অনশন চলতেই থাকবে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ আগষ্ট বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএনডিবাসীর স্বার্থে আমরন অনশনের ঘোষণা দিয়েছিলেন শামীম ওসমান।

তিনি বলেছিলেন, ডিএনডি’র মানুষ খুব কষ্টে আছে। প্রতিটা দিন তারা পানির সাথে জীবনযুদ্ধ করছে। এই বিষয়টা নিয়ে আমাকে দৌঁড়াদৌঁড়ি করতে হচ্ছে। আমি মন্ত্রী পরিষদে জানিয়ে দিয়েছি, আগামী ২/১ দিনের মধ্যে যাতে আমাকে জানিয়ে দেয়া হয় কবে থেকে ডিএনডি প্রকল্পের কাজ হাতে নেয়া হবে। নইলে আমি সাইবোর্ড এলাকায় জাতির পিতা ও প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্কর্যের নিচে অনশনে বসবো। কারা এই কাজটি করতে দেরি করছে, কেন করছে আমি জানিনা। এতোগুলো মানুষকে কষ্টে রেখে কার লাভ হচ্ছে। এক বছর আগে একনেকে ডিএনডি প্রকল্প অনুমোদন হলেও এখনো কেন কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে তার জবাব দিতে হবে।

প্রসঙ্গত, বিগত ২০১৫ সালে পরিকল্পনা মন্ত্রীকে নিয়ে ডিএনডি এলাকা পরিদর্শন করেন স্থানীয় সাংসদ শামীম ওসমান। তারা স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রতিশ্রুতিও শোনান। পরের বছর ডিএনডি সেচ প্রকল্প এলাকায় নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ৫৫৮ কোটি ২০ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয় সরকার।

কিন্তু প্রকল্প অনুমোদন পাওয়ার পর ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতি চোখে পড়েনি। বরং আরও একাধিক স্থানে নিষ্কাশন পাম্প বিকল হয়ে পড়েছে। ফলে কয়েক দফা বৃষ্টিতেই ডিএনডির নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বসত বাড়ী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ স্কুল-কলেজে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

তবে জানাগেছে আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতেই ডিএনডির জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনীর তত্ত্ববধানে কাজ শুরু হতে যাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here