নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ আদালতে শামীম ওসমানের শক্তি প্রদর্শণে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে সাধারণ আইনজীবীদের মাঝে। সেই সাথে আসন্ন আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের আগে বহিরাগতদের দিয়ে এ ধরনের শো ডাউনের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টির পাঁয়তারাকে নারায়ণগঞ্জ আদালত পাড়ার রাজনীতির জন্য অশনি সংকেত হিসেবে মনে করছেন আইনজীবীরা। সেই সাথে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সে জন্য যথাযত কতৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী তাদের।

বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারী) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজামের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের একটি বিশাল মিছিল আদালত পাড়ায় প্রবেশ করে আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীর পক্ষে শ্লোগান দিয়ে শোডাউন করে। এই মিছিল থেকে আগামী বার নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্যাণেল গঠনে এমপি শামীম ওসমানের পছন্দের প্রার্থী এড. হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও এড. মহসিন মিয়ার পক্ষে শ্লোগান দেওয়া হয়। যদিও এখনও পর্যন্ত নির্বাচনের প্রার্থী ঘোষনা করেনি আওয়ামীলীগ।

নারায়ণগঞ্জ আদালতের আইনজীবীরা এ শোডাউন আইনের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন এবং বিরোধী শিবিরকে ভয় দেখানোর কৌশল মনে করে। সেই সাথে বহিরাগতদের দিয়ে এ ধরনের প্রচারনার নামে পেশী শক্তির প্রদর্শণকে নির্বাচনের আগে প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীদের প্রতি হুমকি হিসেবে বিবেচনা সাধারণ আইনজীবীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নারায়ণগঞ্জ আদালতের জনৈক আইনজীবী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, আদালত একটি পবিত্র জায়গা। এভাবে বহিরাগতরা এসে শক্তির প্রদর্শণ করলে এর পবিত্রতা ক্ষুন্ন হয়। আমরা আদালতের ভিতরে এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মকান্ড কখনোই আশা করি না। তাছাড়া এই ঘটনায় আমার মতো সাধারণ আইনজীবীরা আগামী নির্বাচনে ভোটাধীকার প্রয়োগ নিয়েও আতঙ্কিত হয়ে পরেছি।

আর এর তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় আদালত চত্বরে প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে আদালতের বিএনপি পন্থী আইনজীবীরা। প্রতিবাদ সমাবেশে বিএনপি’র আইনজীবীরা আদালত প্রাঙ্গণে এ ধরনের রাজনৈতিক শোডাউনকে আদালতের পরিবেশ পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করেন এবং আসন্ন নির্বাচনকে প্রভাবিত করার ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতি নির্বাচনের নির্বাচন কমিশনার এড. মাহবুবুর রহমান মাসুম নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে বলেন, প্রার্থীরা তাদের মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ না করা পর্যন্ত আমরা আচরন বিধি আরোপ করতে পারি না। তবে কেউ যদি অভিযোগ করে তবে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো। প্রতিটি প্রার্থীরই দায়িত্বশীল আচরন আমরা আশা করি। একটি সুষ্ঠ নির্বাচনে স্বার্থে সকলেরই নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখা বাঞ্ছনীয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here