নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: রাজনীতিবিদ থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য, সর্বক্ষেত্রেই ‘সফলতা’ পেয়ে এসেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ আলহাজ¦ একেএম শামীম ওসমান। যিনি সর্বশেষ সম্প্রতি ডিএনডি বাঁধের অভ্যন্তরের প্রায় ২০ লাখ মানুষকে অভিশাপ মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশী ‘সফলতা ’ অর্জন করেন।
কিন্তু সর্বক্ষেত্রে তার ‘সফলতা’ অর্জন সম্ভব হলেও কেবল তার ছোট বোন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর কারনে এখনো শামীম ওসমানের ‘সফলতায়’ কিছুটা অপূর্ণতা রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

কেননা, রাজনৈতিক নানা ইস্যুতে জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন, সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহাসহ শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতাদের শামীম ওসমানের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েনেরে কারনে ক্ষমতাসীন দলে বিভাজনের সৃষ্টি হয়।

কিন্তু মান অভিমান ভুলে সদ্য শামীম ওসমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আওয়ামীলীগের এই শীর্ষ নেতারা তার সাথে একত্রিত হয়ে ডিএনডি বাঁধের উন্নয়ণ প্রকল্পের লক্ষ্যে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেয়ায় নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগে নতুন করে ঐক্যের পথ সুগম হতে চলেছে। যেই কারনে রাজনীতি থেকে জাতীয় সংসদ, সর্বক্ষেত্রেই ‘সফলতার’ মুখ দেখতে পারছেন শামীম ওসমান।

তবে তার এই ‘সফলতা’ সেদিনই পূর্ণতা পাবে, যেদিন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী শামীম ওসমানের সাথে নারায়ণগঞ্জবাসীর স্বার্থে একত্রিত হবেন বলে দাবী করেছেন রাজনীতিবিদরা।

কেননা, বিগত ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনের সময় মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দীতার মধ্য দিয়ে শামীম ওসমান ও আইভীর মধ্যকার দ্বান্দের সূত্রপাত ঘটেছিল। তারমধ্যে অনেক কিছুই ঘটে গেলেও গত বছর ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সিটির দ্বিতীয় বারের নির্বাচনের প্রাক্কালে মেয়র পদ প্রার্থী আইভীকে দলীয় মনোনয়ন প্রদান করে আওয়ামীলীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শামীম ওসমান, আইভীসহ নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের গণভবনে তলব করে অতীত অভিমান ভুলে আইভীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

কিন্তু শেখ হাসিনা মিলিয়ে দেয়ার পর ভাই হিসেবে শামীম ওসমান নির্বাচনের প্রাক্কালে বড় আশা করে ছোট বোন আইভীর জন্য ‘নৌকা’ প্রতীক সম্বলিত দু’টি শাড়ী উপহার পাঠানোসহ নির্বাচনে বিজয়ী হলে আইভীর কাছ থেকে আইসক্রীম খাওয়ার বায়না রাখলেও মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর আইভী শামীম ওসমানকে ধন্যবাদও জানায়নি।

তারপরেও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে নগরীতে আয়োজিত স্মরণকালের সর্ববৃহৎ শোক র‌্যালীতে আইভীর উপস্থিতির মাধ্যমে ভাই বোনের মাঝে যে আর কোন বিভেদ নেই তার প্রমাণ দেখানোর আশ^াস দিয়েছিলেন শামীম ওসমান।

কিন্তু গত ১২ আগষ্ট অনুষ্ঠিত সর্ববৃহৎ সেই শোক র‌্যালীতে আইভী আসেনি। পরবর্তীতে অত্যন্ত ভারক্রান্ত হৃদয়ে শামীম ওসমান বলতে বাধ্য হন, ‘আমি অনেক আশাবাদী ছিলাম যে, অত্যন্ত পক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্মরণে ছোট বোন আইভী, আব্দুল হাই, আনোয়ার হোসেন, খোকন সাহা শোক র‌্যালীতে উপস্থিত থাকবেন। কিন্তু কোন ব্যস্ততার কারনে হয়তো বা তারা উপস্থিত হতে পারেনি। তবে আমার বিশ^াস আগামীতে যেকোন অনুষ্ঠানে আইভীসহ সকলেই ঐক্যবদ্ধ ভাবে দলীয় কর্মসূচীতে উপস্থিত থাকবেন।

যার প্রেক্ষিতে অবশেষে সকল মান অভিমান ভুলে শামীম ওসমানের আহ্বানে গত ১৫ অক্টোবর সিদ্ধিরগঞ্জে অনুষ্ঠিত ‘ডিএনডি বাঁধের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরুর প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কৃতজ্ঞতা জানানোর’ সমাবেশে একমঞ্চে একত্রিত হন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই, সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহিদ বাদল, মহানগর আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন ও সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা।

অথচ, এই ডিএনডির উন্নয়ণ কাজে যেই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতা সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন, সেই সিটি মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না।

যার ফলে রাজনীতিবিদরা মনে করেন, শামীম ওসমানের ‘সফলতায়’ এখন আইভীই কেবল অপূর্ণতা। তবে তৃণমূলসহ জনসাধারন প্রত্যাশা করেন, নারায়ণগঞ্জবাসীর স্বার্থে আইভী শীঘ্রই শামীম ওসমানের সাথে ভাই বোনের সম্পর্কের মত একত্রিত হবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here