নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: অতীতের মান অভিমান ভুলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ক্ষমতাসীন দলের হেভীওয়েট সাংসদ শামীম ওসমানের কাছেই ফিরে যাচ্ছেন তার ঘনিষ্ট কয়েকজন নেতা বলে একটি পক্ষ দাবী করলেও এব্যাপারে নাকি খোদ সেই অভিমানী ঘনিষ্টজনরাই জানেন না!
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন, সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা ও আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. আনিসুর রহমানের দাবী সাংসদ শামীম ওসমানের সাথে মনমালিল্যের কোন ঘটনা ঘটেনি, সকলেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগের রাজনীতি করেন, তাই কারো বলয়ে ফিরে যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না।

“নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানের কাছেই আবার ফিরতে যাচ্ছেন মান অভিমানে দূরে সরে যাওয়া কয়েকজন নেতা। শামীম ওসমানের বন্ধু হিসেবে পরিচিত ওইসব নেতারা ইতোমধ্যে নানা কারণে দূরে সরে গেলেও আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁদের দেখা যাবে একই কাঁতারে। ইতোমধ্যে ওই প্রক্রিয়াতে বন্ধু আনিসুর রহমান দিপুর সঙ্গে সম্পর্ক নমনীয় হয়েছে বলে জানা গেছে। বিনিময়ে জেলা বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি পদে থাকতে চান আনিসুর রহমান দিপু। আর সবচেয়ে নাখোশ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহাও বাগে আসতে শুরু করেছেন। ভিতরে ভিতরে সকলের মধ্যে সকলের কথাবার্তা চলছে। যে কোন সময় তাদের একসাথে আবার দেখা যাবে। যেখানে থাকবেন গুরু আনোয়ার হোসেনও।”

স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন সংবাদের বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে শামীম ওসমান বা আনোয়ার হোসেনের বলয় বলতে কিছু নেই। আমরা সকলেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে রাজনীতি করি। আমরা শেখ হাসিনার রাজনীতি করি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি বর্তমানে ঢাকার বাইরে আছি। আর যেই সংবাদ মাধ্যমে যারাই এমন দাবী করেছেন, সেটি বিভ্রান্তকর। রাজনীতিতে মতানৈক্য থাকতেই পারে। শামীম ওসমান আমার রাজনৈতিক শিষ্য, তাই অভিমান ভুলে কারো কাছে ফিরে যাওয়ার প্রশ্ন উঠে না।’

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. আনিসুর রহমান দিপু বলেন, ‘১৯৮৯ সালে আমি আইনজীবী সমিতিতে যুক্ত হই। এরপর আওয়ামী পন্থী আইনজীবীদের এক প্ল্যাাটফর্মে আনতে আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এড. সাহারা খাতুন এমপির নেতৃত্বে আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। তারপর ৯১ সালে আমি উক্ত সংগঠনের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হই।’

তিনি আরো বলেন, ‘কয়েক বছর পূর্বে ভাষা সৈনিক গাজীউল হকের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ নামে আরেকটি সংগঠন করা হয়। এরপর আওয়ামী পন্থী আইনজীবীদের দু’টি সংগঠনের কারনে সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বার নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব পড়ায় দু’টি কমিটির ৫২ জন নেতৃবৃন্দকে আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তলব করে কমিটি দু’টিই বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। যেখানে সেদিন ৫২ জনের সাথে আমিও ছিলাম। এরপর শেখ হাসিনার নির্দেশে দলের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের জন্য বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ নামে একটি সংগঠনের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। যার আহবায়ক হন আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য এড. ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, যুগ্ম আহবায়ক আওয়ামীলীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য এড. সাহারা খাতুন এমপি, সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান এড. আব্দুল বাসেত মজুমদার, সদস্য সচিব ব্যারিষ্টার ফজলে নূর তাপস এমপি। ’

এড. আনিসুর রহমান দিপু বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে একটি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যার সদস্য করা হয়েছে আমাকে। এছাড়াও গত বছর সুপ্রিম কোর্টসহ বিভিন্ন জেলায় বার নির্বাচনে আওয়ামী পন্থী প্যানেল গঠনের লক্ষ্যে নির্বাচনী মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য হিসেবেও আমি দায়িত্ব পালন করেছি।’

তাই সাংসদ শামীম ওসমানের সাথে মিলে যাওয়ার বিনিময়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতির পদ চাওয়া ‘¯্রফে গুজব’ ছাড়া কিছুই নয় বলে দাবী করেন, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. আনিসুর রহমান দিপু।

তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিক বন্ধু যারা শামীম ওসমানের সাথে মিলে যাওয়ার বিনিময়ে আমাকে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের জেলা সভাপতি বানাতে চায়, তা দু:খজনক, বিভ্রান্তকর ও হতাশাজনক। শামীম ওসমানের সাথে আমার মনমালিন্য হওয়ার মত কোন ঘটনা আদৌ ঘটেনি। আর বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি হওয়ার ইচ্ছেও আমার নেই। শামীম ওসমানের সাথে আমার সম্পর্ক আছে, তাই অভিমান করা কিংবা কোন সংগঠনের পদের বিনিময়ে একসাথে মিলে যাওয়ার প্রশ্ন উঠে না। তাই আমি সাংবাদিক ভাইদের বলবো, কারো পক্ষে হউক বা বিপক্ষে, যেকোন সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তির বক্তব্য নেয়া উচিত। যা সাংবাদিকতার নীতিমালাতেই বিদ্যমান রয়েছে।’

আর একই প্রসঙ্গে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের কিছু অনলাইন আর লোকাল পত্রিকা আমাদের রাজনীতিবিদদের মাঝে শুধু ঝগড়া লাগাতে চায়। আমরা কার সাথে মিলে যাবো সেটা আমরা না জানলেও কিছু অনলাইন পত্রিকা জানে। এতদিন ঈদে পত্রিকা গুলো বন্ধ ছিল, ভালই ছিলাম।’

প্রসঙ্গত, মাস দু’এক পূর্বে মহানগর যুব মহিলালীগের নতুন কমিটি নিয়ে সাংসদ শামীম ওসমানের সাথে মতবিরোধের সৃষ্টি হয় মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন ও সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহার। কিন্তু এরপরও গত ১২ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে নগরীতে আহূত স্মরণকালের সর্ববৃহৎ শোক র‌্যালীতে শামীম ওসমান প্রত্যাশা করেছিলেন আনোয়ার হোসেন, খোকন সাহা, আইভী, এড. আনিসুর রহমান দিপুসহ অনেকেই সেই শোক র‌্যালীতে উপস্থিত থাকবেন। কিন্তু তাদের কেউই র‌্যালীতে অংশ নেননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here