নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেতে বর্তমান সাংসদ একেএম শামীম ওসমানের বিরোধী শিবিরে অক্সিজেন যোগাচ্ছেন শ্রমিক নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ- নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের সাম্প্রতিক কর্মকান্ডে এমনটাই মনে করে রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা।
ডা: সেলিনা হায়াত আইভী, আবদুল হাই কিংবা আনোয়ার হোসেনের মতো শামীম বিরোধী নেতাদের সাথে পলাশের আকষ্মিক সখ্যতার কারনেই এমন ধারনার জন্ম হয়েছে বলে জানা গেছে। এবং শামীম ওসমানের মতো হেভিওয়েট নেতাকে টপকে পলাশ দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির আশায় শামীম বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ করার প্রাণান্তকর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন বলের মন্তব্য তাদের।

ঘটনা সূত্রে প্রকাশ, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতৃত্বের মাঝে চলমান দ্বন্দকে কাজে লাগিয়ে শামীম বিরোধী শিবিরে লবিং গ্রুপিং করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়নের সুযোগটি কাজে লাগাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন শ্রমিকলীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের চলমান এই বিরোধের সুষ্ঠ সমাধানের বদলে এই দ্বন্দকে জিইয়ে রাখতে চান শুরু থেকেই শামীম ওসমান বিরোধী শিবিরে অবস্থান করা পলাশ। চলমান দ্বন্দে নতুন করে শামীম বিরোধী শিবিরে যোগ দেওয়া নেতাদের মাঝে যোগসূত্র স্থাপন করে পলাশ এর ফায়দা লুটতে চাচ্ছেন বলে মনে করে তৃণমূল। আর তাই শামীম বিরোধী শিবিরকে শক্তিশালী করতে তাতে অক্সিজেনের জোগান দিয়ে চলমান সংকটকে আরো ঘনিভূত করার পায়তারা চালাচ্ছেন এই সুযোগ সন্ধানী শ্রমিক নেতা-এমনটাই দাবী তৃণমূলের।

তৃণমূলের মতে, বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জন্ম নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ওসমান পরিবারের আবাসস্থল বায়তুল আমানে। সেই থেকে আজও পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন এই পরিবারের উত্তরসূরীরা। খান সাহেব ওসমান আলী থেকে শুরু করে শামীম ওসমান পর্যন্ত তিন প্রজন্মের নেতৃত্বগুণে আওয়ামীলীগ আজ নারায়ণগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত। দলের দু:সময়ে এই পরিবারই নেতাকর্মীদের মাথার উপর ছায়া দিয়ে রেখেছিলো। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রেখে এখন পর্যন্ত ধরে রেখেছে সে ঐতিহ্য।

সূত্র জানায়, ১৯৯৬ সালে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন শামীম ওসমান। ছাত্র রাজনীতি থেকে দলের হয়ে রাজপথে লড়াই সংগ্রামের স্বীকৃতি স্বরূপ লাভ করেন এই কৃতিত্ব। প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হয়েই প্রায় ২৬’শ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেন ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জে। আর এর পর থেকেই দলের মধ্যেই সৃষ্টি হয়ে যায় তার প্রতিদ্বন্দি। যারা শামীম ওসমানের কারনে শিল্পাঞ্চল খ্যাত এই দুটি এলাকা থেকে ফায়দা তুলতে পারছিলো না, তারাই বিভিন্ন মেরু থেকে এসে শামীম বিরোধী শিবির তৈরী করে এই দূর্গে ফাটলের চেষ্টায় লিপ্ত হয়। কিন্তু সুযোগ সন্ধানীদের সকল অপচেষ্টাকেই পিছনে ফেলে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলে শামীম ওসমানের বিজয় রথ। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কণ্যা প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে দাড়িয়ে ওসমান পরিবারের পক্ষে কথা বলেন এবং তিনি নিজে এই পরিবারের দায়িত্ব নেন।

নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের তৃণমূল মনে করে, তৎকালীণ নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দিতার জন্য চুনকা কণ্যা ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর নারায়ণগঞ্জে আসার পর থেকেই শামীম বিরোধীরা আবারো চাঙ্গা হয়ে উঠে এবং চুনকা-সামসুজ্জোহা বিরোধকে নতুন করে আইভী-শামীম দ্বন্দে রূপ দিয়ে তারা স্পষ্টতই দুই মেরুতে বিভক্ত করে ফেলেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগকে। এবং বিভক্তির রূপকারদের মধ্যে অন্যতম একজন হচ্ছেন শ্রমিকলীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের শূন্য আসনে এমপি নির্বাচিত হন শামীম ওসমানের বড় ভাই সেলিম ওসমান। এবং নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি এই বিরোধী শিবির ভেঙ্গে প্রায় সবাইকে নিয়ে আবারও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ শুরু করার চেষ্টা করতে থাকেন। এমনকি ছোট ভাই শামীম ওসমানের ঘোর বিরোধী সিটি মেয়র আইভীর সাথেও এক মঞ্চে বসে চেষ্টা করছেন ঐক্য ফিরিয়ে আনতে। এবং মোটামুটি সফলও হচ্ছিলেন। কিন্তু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় আবারও স্বরূপে ফিরতে শুরু করেছে সেই বিরোধীতাকারীরা। এদের সাথে নতুন যোগ দেয় শামীম ওসমানের আসস্থাভাজন অনেক শীর্ষ নেতাও। ফলে শুরু থেকে এই বিরোধকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা হাসিলে ব্যস্ত নেতারা সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছেন শামীম বিরোধী শিবিরকে আরো দীর্ঘ করতে এবং বিরোধীতাকারীদের ঐক্যবদ্ধ করে সমস্যাকে আরো প্রকট আকারে রূপ দিতে। বিশেষ করে সবচেয়ে মরিয়া অবস্থানে আছেন শ্রমিক নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ। কারন শামীম ওসমানকে বিতর্কিত করতে পারলে লাভ তারই বেশী, শামীম ওসমানের আসনে নিজের দলীয় মনোনয়ন অনেকটা নিশ্চিত করা যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here