নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: তৃণমূলকে সুসংগঠিত করতে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক যখন দল ভারী করতে দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা, দিচ্ছিলেন সরকার বিরোধী নানা বক্তব্য, ঠিক সেই মূহুর্তে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে আওয়ামীলীগের হেভীওয়েট নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ‘ম্যাজিকে’ দল রদবদল করে এখন আওয়ামীলীগে যোগ দিতে শুরু করেছেন বিএনপির শীর্ষসহ তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

আর শুধু দলবদলই নয়, আওয়ামীলীগের এই সাংসদের সাথে একমঞ্চে বসে সরকারসহ তার বন্দনা করে মুখে ফেনা তুলছেন জেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় একাধিক জনপ্রতিনিধি ও নেতা। যা দেখে ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রীরা বাহ্ব্ াদিলেও রীতিমত ‘বিব্রত’ বোধ করছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।

আর বিএনপির নেতাকর্মীদের দল পাল্টে আওয়ামীলীগে যোগদানকে উন্নয়ণের রাজনীতিতে বিশ^াসীদের দলবদল হিসেবে দেখছেন ক্ষমতাসীন দলের এই সাংসদ শামীম ওসমানসহ দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।

যেই কারনে, ডিএনডি বাঁধের উন্নয়ণ প্রকল্পের কাজ উদ্বোধনের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানানোর লক্ষ্যে গত ১৫ অক্টোবর সিদ্ধিরগঞ্জে থানা আওয়ামীলীগ আয়োজিত সমাবেশে পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম, প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম হিরু বীর প্রতিক এর উপস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ¦ মজিবুর রহমানের হাতে ফুলের ‘নৌকা’ তুলে দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক পৌর প্রশাসক ও বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা আলহাজ¦ আব্দুল মতিন প্রধান কয়েকশত নেতাকর্মী নিয়ে বিএনপি থেকে আওয়ামীলীগে যোগ দেন।

আর একই কারনে গত ১৯ অক্টোবর কুতুবপুর ইউনিয়নাধীন দেলপাড়া মাঠে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগ আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম হিরু বীর প্রতিক এর উপস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই ও ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ সাইফুল্লাহ বাদলের হাতে ফুলের ‘নৌকা’ তুলে দিয়ে কয়েকশত নেতাকর্মী নিয়ে বিএনপি থেকে আওয়ামীলীগে যোগদান করেন কুতুবপুর ইউনিয়ন ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও বিএনপি নেতা রোকন উদ্দিন ও কামাল হোসেন পাটোয়ারী।

তবে উক্ত অনুষ্ঠানে শুধু বিএনপির নেতাকর্মীদের যোগদানই নয়, ডিএনডি বাঁধের উন্নয়ণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে স্থানীয় সাংসদ শামীম ওসমানের গুণকীর্ত্তন করে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এড. আবুল কালাম এবং ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মনিরুল আলম সেন্টু।

যার ফলে উক্ত সমাবেশ দু’টির উদ্যোক্তা সাংসদ শামীম ওসমান মঞ্চে ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘আওয়ামীলীগের উন্নয়নে রাজনীতিতে বিশ্বাসী হয়ে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার রোকন ও কামাল হোসেন পাটোয়ারীর নেতৃত্বে বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী সরকারের উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রার অংশ হিসেবে নিজেদের শরিক করতেই আওয়ামীলীগে যোগদান করেছেন। তারা দেশে আর জ্বালাও পোড়াও দেখতে চান না। তারা শান্তি ও উন্নয়নের প্রতীক জননেত্রী শেখ হাসিনার রাজনীতির ছায়াতলে আসতে চান। সুষ্ঠ রাজনীতির মাধ্যমে দেশের জনগণের উন্নয়ণে নিজেদের সামিল করতে চান।’

আর তাই এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আওয়ামীলীগের এমপি নজরুল ইসলাম হিরু বীর প্রতিক হাজার হাজার মানুষের সম্মুখে স্বীকার করতে বাধ্য হন, ‘নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের আওয়ামীলীগ আয়োজিত সমাবেশ মঞ্চে উপস্থিত করিয়ে সত্যিই আওয়ামীলীগের এমপি শামীম ওসমান চমক দেখিয়ে দিয়েছেন। বিএনপি-জামায়াতের প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বাংলাদেশের কোথাও বিএনপির নেতাদের আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে এক মঞ্চে বক্তব্য রাখতে দেখিনি। অথচ এখানে আওয়ামীলীগের সমাবেশে এসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে উন্নয়ন হচ্ছে এর জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান, কুতুবপুর ইউপি চেয়ারম্যান সহ বিএনপির বন্ধুরা যে স্বীকৃতি শামীম ওসমানকে দিয়েছে তা রীতিমত অবাক করার মত।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের উন্নয়ণকে স্বীকার করে বিএনপির এই জনপ্রতিনিধিদের মত বক্তব্য দিতে বুকের পাটা লাগে। এ জন্য আমি জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতা আজাদ বিশ্বাস ও মনিরুল আলম সেন্টুকে সাধুবাদ জানাই।’

তবে যেখানে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার বিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে সরকারের মিথ্যা মামলা ও নতজানু প্রশাসনের হামলার শিকার হচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মীরা, সেখানে জেলা বিএনপির এই শীর্ষ দুই নেতার মুখে সরকারসহ আওয়ামীলীগের এমপির বন্দনা করা এমনকি সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানাধীন বিএনপির কয়েকশত নেতাকর্মীর আওয়ামীলীগে যোগদানের ঘটনায় নানা জনের প্রশ্নবানে ‘বিব্রতকর’ অবস্থায় পড়তে হচ্ছে বলে জানান জেলা বিএনপির একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা।

এই ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মুঠোফোন রিসিভ করেননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here