নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: বিএনপি’র রাজনীতি করেও গত প্রায় এক যুগে একটিও রাজনৈতিক মামলার আসামী না হওয়ার অবিশ্বাস্য রেকর্ডের অধিকারী নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি শিল্পপতি শাহ আলমের টাকার কাছে আবারো বিক্রি হয়ে গেলো কেন্দ্রীয় বিএনপি-এমনটাই মনে করছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূল।
তাদের মতে, সারা বছর রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম না করেও শুধুমাত্র নির্বাচন ঘনিয়ে এলে ও কমিটি গঠনের সময় গর্ত থেকে বের হন শাহ আলম এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে ম্যানেজ করে নির্বাচনের মনোনয়ন ও কমিটিতে বড় পদ ঠিকই আদায় করে নেন। যার প্রতিফলন দেখা গেছে সদ্য শাহ আলমের বাসায় কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমন ও আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে শাহ আলমকে সবুজ সংকেত প্রদানের মাধ্যমে।

নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূল সূত্রে জানা যায়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রায় দেড় বছর বাকী থাকলেও বড় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা ইতিমধ্যেই নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। ব্যতিক্রম নেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নির্বাচন প্রত্যাশীরাও। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে দলীয় প্রতীক ধানের শীষের মনোনয়ন লাভের আশায় মাঠে নেমে পরেছেন দুই হেভিওয়েট নেতা কেন্দ্রীয় বিএনপি’র কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক এমপি মো: গিয়াসউদ্দিন ও জেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি মো: শাহ আলম।

দীর্ঘদিন নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতার আলোকে গিয়াসউদ্দিন যেমন মনোনয়নের ব্যাপারে আশাবাদী, তেমনি শিল্পপতি শাহ আলমের টাকার কাছে সে অভিজ্ঞতা কতটুকু টেকে সেটাও চিন্তায় ফেলে দেয় সকলকে। তবে এই সরকারের অধীনে বিএনপি আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাবে কিনা, সেটা এখনও পরিস্কার না হলেও অতি সম্প্রতি শাহ আলমের বাসায় কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতি এবং শাহ আলমের পক্ষে কথা বলায় মনোনয়ন প্রতিযোগিতা নতুন মাত্রা লাভ করেছে।

সূত্রমতে আরো জানা যায়, ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি’র রাজনীতিতে অভিষেক ঘটে ফতুল্লার বিশিষ্ট শিল্পপতি মো: শাহ আলমের। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামীলীগ প্রার্থী সারাহ বেগম কবরীর কাছে পরাজিত হন। তবে তিনি সর্বত্র নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র শীর্ষ নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

গত প্রায় এক যুগ ক্ষমতাহীন দলটির ক্রান্তিকালে নেতাকর্মীরা হামলা মামলায় জর্জরিত হয়ে পরলেও শাহ আলমের গায়ে এর আচড়টিও পরেনি। প্রায় এক যুগ বিরোধী দলের রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেও কোন মামলার শিকার না হওয়ার মতো অবিশ্বাস্য গল্পের স্রষ্টা হচ্ছেন শাহ আলম। এই দীর্ঘ সময়ে জাতীয় বা দলীয় কোন কর্মসূচিতে মাঠে তাকে দেখা না গেলেও কমিটি গঠনের বেলায় বড় পদেই অধিষ্ঠিত হন তিনি।

২০০৯ সালে আংশিক গঠিত নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র কমিটিতে ছিলেন সিনিয়র সহ সভাপতি আর নব গঠিত জেলা কমিটিতে পেয়েছেন সহ সভাপতি পদ। অবশ্য এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র এক প্রভাবশালী নেতা অফ দ্যা রেকর্ডে বলেছিলেন, দলের যেমন ত্যাগী নেতার দরকার আছে, তেমনি টাকারও প্রয়োজন আছে। সেই নেতার কথার সূত্র মতেই ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রকৃয়া এগুচ্ছে মনে করে তৃণমূলের শংকা, রাজনীতির সাথে টাকার প্রতিযোগিতায় যদি আবারো টাকার জয় হয়ে যায়, তবে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে আগামী নির্বাচনে বিএনপি’র দলীয় প্রতিক ধানের শীষের শিকে শাহ আলমের ভাগ্যেই ছিড়তে পারে।

আর তাই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রাপ্তিতে মো: গিয়াসউদ্দিনের সবচেয়ে বড় বাঁধা এখন শাহ আলমের টাকা!

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here