নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: ঘুষ গ্রহণ মামলায় নারায়ণগঞ্জের বন্দর পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের আলোচিত প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে অন্তবর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৩১ মে) দুপুর সাড়ে ১২ টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত সৈয়দ এনায়েত হোসেন শ্যামল কান্তির জামিন মঞ্জুর করেন।

বিষয়রটির সত্যতা নিশ্চিত করে শ্যামল কান্তির আইনজীবী এড. সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, ঘুষ গ্রহণ মামলায় শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত অন্তবর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন আদালত।

গত ২৪ মে ঘুষ গ্রহণ মামলায় শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট অশোক কুমার দত্তের আদালত। এরপর বিকেলে শ্যামল কান্তি একই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে তা নাকচ করে দিয়ে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত।

একই স্কুলের ইংরেজী শিক্ষক মোর্শেদা বেগমের দায়েরকৃত ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের মামলা আমলে নিয়ে শিক্ষক শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত।

মামলার বাদী মোর্শেদা বেগমের অভিযোগ, চাকরী এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার কথা বলে তার কছে থেকে এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েও শ্যামল কান্তি তা করে দেননি। টাকা ফেরত চাইলে তা দিতেও অস্বীকার করেছেন শ্যামল কান্তি।

আর গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির পর আদালতে উপস্থিত শিক্ষক শ্যামল কান্তি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছিলেন, ‘একটি প্রভাবশালী চক্রের দ্বারা আমি লাঞ্ছিত হওয়ার পর ওই মহলই আমাকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করতে এই শিক্ষিকাকে দিয়ে মামলা করিয়েছে। যে সময় ঘুষ নেওয়ার কথা মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে সে সময় স্কুলের শীতকালীন ছুটি ছিল। ছুটির দিনে আমি কেন স্কুলে যাব এবং তিনি কিভাবে স্কুলে এসে আমাকে ঘুষ দিলেন।’

তিনি বলেন, ‘প্রভাবশালী মহলকে খুশি করতেই পুলিশ আমার বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছে। এই আদালতেও আমি ন্যায়বিচার পেলাম না ওই প্রভাবশালীদের কারণেই।’

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৩ মে ওই স্কুলে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমানের নির্দেশে শারীরিক নির্যাতন ও কান ধরে উঠ-বস করানোর ঘটনায় সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
ওই ঘটনার পর বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ শ্যামলকে চাকরী থেকে বরখাস্ত করে।

বিভিন্ন মহল থেকে সে সময় স্থানীয় সাংসদ সেলিম ওসমানকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হলেও তিনি সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, শিক্ষককে নয়, নাস্তিককে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু পরে হাইকোর্টের নির্দেশে বিচার বিভাগীয় তদন্ত হলেও ইসলাম ধর্ম বা আল্লাহকে নিয়ে শ্যামল কান্তির কটূক্তি করার কোনো সত্যতা মেলেনি। বরং তাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় সাংসদ সেলিম ওসমানের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয় তদন্ত প্রতিবেদনে।

এদিকে কান ধরে উঠ-বসের ঘটনার দুই মাসের মাথায় ১৪ জুলাই ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, শিক্ষার্থীকে মারধর ও শিক্ষক মোর্শেদাকে এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে তিনটি মামলার আবেদন নারায়ণগঞ্জের আদালতে জমা পড়ে।

প্রাথমিক শুনানী করে আদালত প্রথম দুটি মামলার আবেদন খারিজ করে দিলেও মোর্শেদা বেগমের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে বন্দর থানা পুলিশকে তদন্ত করতে নির্দেশ দেয়।

সেই তদন্ত শেষে বন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হারুন অর রশিদ গত ১৭ এপ্রিল শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অবশ্য শ্যামল কান্তি বরাবরই ওই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
সেই অভিযোগপত্র আমলে নিয়েই আদালত বুধবার আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির আদেশ দেয়।  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here