নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: স্কুল শিক্ষিকাকে নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব ও সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী আব্দুল মজিদ খন্দকারকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করলে এদিন কোন মামলার শুনানী অনুষ্ঠিত না হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারকের নির্দেশে মজিদ খন্দকারকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ কোর্ট ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ আলী নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে জানান, ‘নারায়ণগঞ্জ বারের সদস্য বিজ্ঞ আইনজীবী গোলাম ফারুক মিন্টু মারা যাওয়ার কারনে মঙ্গলবার সকল আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। ফলে শিক্ষক লাঞ্ছনার দায়ের গ্রেফতার এড. মজিদ খন্দকারকে বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের নির্দেশে আদালতের গারদ খানা থেকেই সরাসরি কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।’

এরআগে গত ১২ ফেব্রুয়ারী রাতে সদর উপজেলার হাজীগঞ্জ এলাকায় স্কুল শিক্ষিকা শাহীনুর পারভীনকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় অভিযুক্ত জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব ও আইনজীবী আব্দুল মজিদ খন্দকারকে গ্রেফতার করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।

জানাগেছে, গত ১১ ফেব্রুয়ারী রাতে স্কুল শিক্ষিকা শাহীনুর পারভীনের বাসায় গিয়ে তাকে আইনজীবী আব্দুল মজিদ খন্দকার ও তার স্ত্রী তাদের নাতিকে প্রাইভেট পড়ানোর প্রস্তাব দেন। কিন্তু সেই প্রস্তাব শিক্ষিকা প্রত্যাখান করায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্বস্ত্রীক অভিযুক্ত জাপা নেতা শিক্ষিকাকে মারধরসহ জুতাপেটা করেন।

এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় শাহীনুর পারভীনকে নারায়ণগঞ্জ খানপুর ৩শ’ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: তাহমিনা নাজনীন জানান, শাহীনুর পারভীনকে যখন হাসপাতালে আনা হয় তখন তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। বিশেষ করে তাঁর গলায় আঘাতের চিহ্ন বেশি ছিল।

পরবর্তীতে চিকিৎসা শেষে ১২ ফেব্রুয়ারী সকালে শিক্ষিকা শাহীনুর পারভীনকে বাড়িতে আনা হয়। তারপর ঐদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নির্যাতিতার বাবা সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় অভিযুক্ত জাপা নোতা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।

এরপর দুপুরে শিক্ষিকার বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) শরফুদ্দীন।
পরবর্তীতে সন্ধ্যায় নিজ বাসা থেকে মজিদ খন্দকারকে গ্রেফতার করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। কিন্তু তার স্ত্রী পলাতক রয়ে যায়।

জানাগেছে, নির্যাতনের শিকার শাহীনুর পারভীন স্থানীয় প্যাসিফিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে এক যুগেরও বেশী সময় ধরে শিক্ষকতা করছেন। তিনি শহরের হাজীগঞ্জ এলাকার জেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার ও আইনজীবী মো: নুরুল হুদার বাড়িতে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন।

এ ব্যাপারে নির্যাতিত শিক্ষিকা শাহীনুর পারভীন শানু তাঁর অভিযোগে জানায়, গত ১১ ফেব্রুয়ারী রাত দশটায় আব্দুল মজিদ খন্দকার তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বাসায় এসে তাদের নাতিকে বাসায় গিয়ে পড়ানোর প্রস্তাব দেন। কিন্তু দীর্ঘ ছয় মাস যাবত কিডনী জনিত রোগে অসুস্থতার কারণে তিনি পড়াতে রাজি হননি। আর এ কারনেই অভিযুক্ত আইনজীবী ও তার স্ত্রী তাকে মৌখিকভাবে হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে নাবালক ছেলে মেয়ে ও স্বজনদের সামনেই তাকে মারধর করতে থাকেন। এমনকি পায়ের জুতা খুলে তাকে জুতাপেটাও করেন।

শাহীনুরের বাবা সাইফুল ইসলাম জানান, থানায় মামলা করেছি। তবে আব্দুল মজিদ খন্দকার একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও আইনজীবী। এ মামলার আদৌ কোনো সুরাহা হবে কিনা জানি না। তাই আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আইনগত সহায়তা চাইছি। যাতে অভিযুক্ত আইনজীবী ও তার স্ত্রীর বিচার হয়।

এ ব্যাপারে বাড়ির মালিক ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার এডভোকেট নুরুল হুদা বলেন, আমার অনুমতি ছাড়া আমার বাড়িতে ঢুকে আমার ভাড়াটিয়া গায়ে হাত তোলা ও জুতাপেটা করে দন্ডনীয় সামাজিক অপরাধ করেছেন মজিদ খন্দকার। তার উচিত ছিল আগে আমার সঙ্গে কথা বলা। কিন্তু একজন আইনজীবী এ রকম বেআইনী কাজ করে অপরাধ করেছেন। আমরা স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটির পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি।

তবে জাতীয় পার্টির অভিযুক্ত নেতা এড. আব্দুল মজিদ খন্দকার শিক্ষিকাকে নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার নাতিকে বাসায় এসে তাকে পড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু সে না করে দেয় এবং সে আমার স্ত্রীর সাথে অশালীন আচরন করেন। এ নিয়ে আমার স্ত্রীর সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়েছে। কিন্তু মারধরের কোন ঘটনা ঘটেনি।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here