নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: মায়ের সাথে অনৈতিক কর্মকান্ড দেখে ফেলায় দুই শিশুকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন ঘাতক পরকীয়া প্রেমিক রাশেদুল ইসলাম মোমেন।
শনিবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালতের খাস কামড়ায় ১৬৪ ধারায় মোমেনের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

মোমেনের জবানবন্দি প্রদানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন, কোর্ট ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ আলী।

এরআগে, গত ২২ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পরকীয়া প্রেমের জের ধরে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র হৃদয় (৯)কে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার মূল হোতা রাশেদুল ইসলাম মোমেনকে ময়মনসিংহের নান্দাইল থানার মেরাকোনা গ্রামে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে ডিবি ও আড়াইহাজার থানা পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হৃদয় হত্যার সঙ্গে মোমেন জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছিল পুলিশ।

চাঞ্চল্যকর এই শিশু হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আবুল কাশেম জানান, হত্যাকান্ডের পর মামলার মূল আসামী রাশেদুল ইসলাম মোমেন পালিয়ে যায়। পরে ময়মনসিংহ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

উল্লেখ্য, আড়াইহাজার উপজেলার উচিৎপুরা ইউনিয়নের বাড়ৈপাড়া গ্রামের বাহরাইন প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী শেফালী আক্তারের সঙ্গে তার বৈমাত্রেয় ভাই রাশেদুল ইসলাম মোমেনের দীর্ঘদিন যাবৎ পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। প্রতিরাতেই প্রেমিক রাশেদুল ইসলাম মোমেন ভাবী শেফালী আক্তারের ঘরেই রাত্রি যাপন করত। এ ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে এ নিয়ে এলাকায় বেশ কয়েকবার শালিস বসে বিচার আচার হয়। কিন্তু তারপরও গোপনে তারা তাদের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখে। এক পর্যায়ে তাদের দুজনের অনৈতিক কর্মকান্ড শেফালী আক্তারের ছেলেরা দেখে ফেললে শেফালী আক্তার ও তার প্রেমিক রাশেদুল ইসলাম মোমেন শিশু হৃদয় ও জিহাদকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

সেই পরিকল্পনা মতো ১২ এপ্রিল রাত সাড়ে তিনটার সময় শিশু হৃদয় ও জিহাদকে কাঁথায় পেঁচিয়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। মুহুর্তের মধ্যে ঝলসে যায় নিষ্পাপ দুই শিশুর দেহ। শিশুদের চিৎকারে বাড়িল লোকজন এসে হৃদয়ের সারা শরীর পোড়া নিথর দেহ ও ছোট ভাই জিহাদের অর্ধ পোড়া অবস্থায় কাতরাতে দেখতে পান। সেখান থেকে আহত জিহাদকে উদ্ধার করে প্রথমে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হয়।

নিহত হৃদয় ৩৫নং বাড়ৈইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর ছাত্র এবং আহত ছোট ভাই জিহাদ প্রথম শ্রেণীর ছাত্র। ১৩ এপ্রিল এ ব্যাপারে নিহত হৃদয়ের দাদা বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় শেফালী আক্তার ও রাশেদুল ইসলাম মোমেনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘাতক মা শেফালী আক্তার ঢাকার কেরানীগঞ্জের ইসলামপুর এলাকার সুন্দর আলীর কন্যা।

তারপূর্বে, গত ১৪ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিট্রেট ২য় আদালতের বিচারক মেহেদী হাসানের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন মা শেফালী। স্বীকারোক্তিতে মা শেফালী আক্তার শিশুদের হত্যার জন্য তার পরকীয়া প্রেমিক মোমেনকে দায়ী করেছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here