নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম পাশে নির্মিত বিআইডব্লিউটিএ’র ওয়াকওয়ের আশেপাশে ময়লা ফেলে নদীসহ সামগ্রিক পরিবেশের দূষণ ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন।
বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) সকালে বিআইডব্লিউটিএ’র সভাকক্ষে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে এই মত বিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

নাসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এফ এম এহতেশামূল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মত বিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন নাসিক ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস, ১৩, ১৪ ও ১৫ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলর শারমিন হাবিব বিন্নি, নাসিক নগর পরিকল্পনাবিদ মো: মঈনুল ইসলাম, বিআইডব্লিউটিএ’র সহকারী পরিচালক শাহ আলম মিয়া, নির্বাহী প্রকৌশলী আহমদ সাঈদ, উপ-পরিচালক শহিদ উল্লাহ, যুগ্ম পরিচালক গুলজার আলী, নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ থানার উপ পরিদর্শক সাদিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার বাড়ি ও কারখানার মালিকগন।


সভায় সমস্যা সমাধানে সর্বসম্মতিক্রমে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়। এর মধ্যে প্রথম ধাপটি প্রথম দিনই বাস্তবায়িত করে ফেলেছে বন্দর ঘাটের দক্ষিণ পাশে বিআইডব্লিউটিএ’র খালি জায়গায় ময়লা ফেলার একটি নির্দিষ্ট জায়গা করে দেয়ার মাধ্যমে। এ জায়গাটিতে বর্তমানে একটি চায়ের দোকান থাকলেও বৃহস্পতিবারের মধ্যেই তা খালি করে ফেলার নির্দেশ দিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়াও তা মনিটরিংয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় এবং লিফলেট ও ব্যানারের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে সচেতনতা তৈরী করার কাজ হাতে নেয়া হয়। তারপরও যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসে তবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সিইও এ এফ এম এহতেশামূল হক বলেন, আমরা আপাতত কঠিন পথে যেতে চাচ্ছি না। প্রথমেই জেল জরিমানার বিষয়ে না গিয়ে আগে জনসচেতনতা তৈরী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে পারি। ময়লা ফেলার যে নির্দিষ্ট স্থানটি নির্ধারণ হয়েছে সেখানে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়া হবে এবং সেখানে লেখার পাশাপাশি চিহ্ন দিয়েও বোঝানো হবে এখানে ময়লা না ফেলতে। এতে যারা লেখাপড়া জানে তারা সাইনবোর্ডের লেখা পড়ে নিবে এবং যারা পারে না তারা চিহ্ন দেখে অনুৎসাহিত হবে। তাছাড়া বিষয়টি মনিটরিংয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে। তারা লিফলেট নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বাড়িতে যাবেন এবং সবাইকে এর কুফল সম্পর্কে অবহিত করবেন। এছাড়াও সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এলাকাটির সৌন্দর্য বর্ধনের সকল ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখানকার প্রতিটি বাড়িওয়ালাকেও দায়িত্ব নিতে হবে তার বাড়ির সামনের স্থানটি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থাও গ্রহন করা হবে কিন্তু পরিবেশ কিছুতেই দূষণ করতে দেয়া হবে না।

আর এই কাজে বিআইডব্লিউটিএ ও নৌ পুলিশসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন নাসিক প্রধান নির্বাহী এ এফ এম এহতেশামূল হক।

এ সময় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ^াস অভিযোগ করে বলেন, আশেপাশের কয়েকটি টুইষ্টিং ফ্যাক্টরী ও রিভারভিউ, ফারজানা টাওয়ারসহ কয়েকটি ভবনে অবস্থিত গার্মেন্টস বর্জ্যই বেশী ফেলা হচ্ছে ওয়াকওয়ের পাশে নদীতে। তাছাড়া অনেক দূরের বাড়িঘর থেকেও বস্তা ভরে ময়লা এনে এখানে ফেলা হচ্ছে। তাছাড়া সুয়ারেজের পানিও ওভারফ্লো হয়েও পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। আগে এগুলো প্রতিরোধ করতে হবে।

১৩, ১৪ ও ১৫ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলর শারমিন হাবিব বিন্নি বলেন, ওয়াকওয়ের একটি স্থানে বেশ অনেকটা জায়গা নিয়ে রেলিংটি নির্মান করায় এখন এটি ওয়াকওয়ে থেকে প্রায় এক ফুট সরে গেছে। ফলে রাতে অনেক মানুষ এখানে পরে আহত হচ্ছে। তাই বিষয়টি পরিদর্শনে গিয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা আবশ্যক।

এরপর সভা শেষে সকলকে নিয়ে সরেজমিনে শীতলক্ষ্যার পাড়ে ওয়াকওয়ে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা মিলে ভিন্ন দৃশ্যের। সবাই দেখতে পান নাসিকের এক পরিচ্ছন্নতা কর্মী সোহেল লাল অন্যত্র থেকে বস্তায় ভরে বর্জ্য নিয়ে এসে ওয়াকওয়ের পাশে নদীতে ফেলছে।

তখন সোহেল লালকে তাৎক্ষনিক আনসার দিয়ে আটক করা হলে জানাযায় স্থানীয় একটি তৈরী পোষাক কারখানার ময়লা সে টাকার বিনিময়ে নদীতে এনে ফেলছে। পরবর্তীতে সেই কারখানার লোক ডেকে এনে জািরমানা আদায়ের পর আটককৃত নাসিকের পরিচ্ছন্নতা কর্মী সোহেল লালকে ছেড়ে দেয়া হয়।

তারপর বন্দর ঘাট থেকে ওয়াকওয়ে ধরে যে সকল দোকানদার আছে, তাদের সকলকে ডেকে এখানে আর ময়লা না ফেলতে সতর্ক করে দেয়া হয় এবং ঘাটের দক্ষিণ পাশে বিআইডব্লিউটিএ’র খালি জায়গায় ময়লা ফেলার একটি নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করা হয়। এ জায়গাটিতে বর্তমানে একটি চায়ের দোকান থাকলেও বৃহস্পতিবারের মধ্যেই তা খালি করে ফেলার নির্দেশ দিয়ে দেওয়া হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here