নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার জামতলা এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আপেল মাহমুদের মাদক আস্তানায় হানা দিয়েছে পুলিশ। এসময় মাদক স¤্রাট আপেল পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

তবে, মাদক ব্যবসায়ী আপেলকে গ্রেফতার করা না গেলেও তার অভিনব কায়দার মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত ১টি সিসি ক্যামেরা, মনিটর ও কন্ট্রোলার উদ্ধার করেছে পুলিশ। মাদক ব্যবসায়ী আপেলের বাড়ীতে ব্যবহৃত সিসি ক্যামেরার মাধ্যমেই জামতলাসহ আশেপাশের এলাকায় আইনশৃংখলা বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষন করতো। সিসি ক্যামেরার বদৌলতে আইনশৃংখলা বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে আপেলের মাদক ব্যবসায় নিয়োজিত খুঁচরা ব্যবসায়ীদে সতর্ক করে থাকতো বলেও স্থাণীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ করে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে।

মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে মাদক ব্যবসায়ী আপেলের জামতলা এলাকার বাড়ীতে এ অভিযানটি পরিচালনা করেন ফতুল্লা মডেল থানার সিভিল টিমের দায়িত্বে থাকা এস.আই শাফিউল আলম ও এ এস আই গাফ্ফার, কনষ্টেবল রোকনসহ সহযোগী মজিবর রহমান, জনি, ফারুক এবং স্থাণীয় এলাকাবাসী।

এস.আই শাফিউল জানান, অভিযান পরিচালনা কালে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আপেল তার বাড়িতে থাকা সিসি ক্যামেরা মনিটরিংয়ের মাধ্যমে উপস্থিতি টের পেয়ে তার বাসার ৪ তলার ছাদে উঠে ভিতর থেকে ছাদের দরজা বন্ধ করে দিয়ে কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে একটি মনিটর, সিসি ক্যামেরা ও কন্ট্রোলার উদ্ধার করা হয়েছে। যা সে নিরাপদে মাদক ব্যবসার জন্য ব্যবহার করে আসছিল।

উদ্ধারকৃত আলামত ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মজিবুর রহমানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সূত্র জানায়, এক সময়ে মাসদাইর জামতলা এলাকায় মাদক ব্যবসার আধিপত্য বন্দুক শাহীনের নিয়ন্ত্রনে থাকলেও ডিবি পুলিশের ক্রস ফায়ারে নিহত হওয়ার পর মাদক ব্যবসা নিজের একক নিয়ন্ত্রনে আনে আপেল। সে তার আস্তানার চারিদিকে সিসি ক্যামেরা এমনকি পুলিশের কথিত সোর্সদের ম্যানেজের মাধ্যমে গতিবিধি পর্যবেক্ষন করে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে দীর্ঘদীন ধরে। কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে অভিনব কৌশলে বিপুল পরিমান ইয়াবার চালান নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ করাচ্ছে এবং ফতুল্লার তালিকাভূক্ত মাদক ব্যবায়ী হাজ্বী রিপন, বন্দরের সাহাবুদ্দিন ওরফে ডাকাত সাহাবুদ্দিন, আপেলের সেকেন্ড ইন কমান্ড রোবায়েত,অক্টোঅফিসের আলামিন, আকাশ, রাজুসহ (বর্তমানে কারাগারে) অর্ধ শতাধিক মাদক কারবারীদের কাছে সরবরাহ করে আসছে মাদকদ্রব্য।

সূত্রে জানা যায়, ক্ষমতাসীন দলের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে ফতুল্লার জামতলা এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আপেল মাহামুদ। পুরো জামতলা এলাকার সিংহভাগ এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার ফলে আইনশৃংখলা বাহিনীর অভিযান পরিচালনার আগেই আপেল টের পেয়ে যাচ্ছে। এ সময় আপেলের সেলসম্যানদের আইনশৃংখলা বাহিনীর অভিযানের বার্তা পৌছানের মাধ্যমে ধরাছোয়ার বাইরে থাকে তার লোকজন। স্থাণীয় প্রশাসন এর মধ্যে একাধিক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করলেও বরাবরের মতই ধরাছোয়ার বাইরে রয়েছে আপেল। অবশ্য স্থাণীয় পুলিশ প্রশাসন মাদক ব্যবসায়ী আপেলকে পলাতক আসামি দেখিয়ে একাধিক মাদক মামলা দায়ের করছে। তবুও নিয়ন্ত্রনে আসেনি তার মাদক ব্যবসা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একাধিক সেলসম্যানের মাধ্যমে প্রতিদিন কয়েক লক্ষাধিক টাকার মাদক বিক্রি করে আসছে। অনেকটা নিরাপদ বিধায় মাদক সেবীরা জামতলা আপেলের স্পট থেকে মাদক সরবরাহ করছে। যা কিনা প্রকাশ্যে সরেজমিনে খোঁজখবর নিলেই এর সত্যতা পাওয়া যাবে।

এবিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি কামাল উদ্দিন জানান, মাদকের বিষয়ে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। মাদক ব্যবসায়ীর পরিচয় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবেই। একজন মাদক ব্যবসায়ী যত বড় প্রভাবশালী হউক না কেন তাদেরকে কোন ভাবেই ছাড় দেয়া হবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here