নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার তদন্তে গাফলতির অভিযোগ করেছে মাসদাইরে নিহত গার্মেন্টস কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেন শুভ্র’র পরিবার। আর তাই আসামীদের তিন দিনের রিমান্ড শেষে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি বা পুনরায় রিমান্ড চাওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে শুভ্র’র বাবা শাহাদাত হোসেন শিকদার। রবিবার (২৭ আগষ্ট) বিকেলে আদালত প্রাঙ্গণে এ কথা জানান তিনি।

থানা সূত্রে জানা যায়, শুভ্র হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত তিন আসামী জীবন, মনা ও নাজমূলকে বৃহস্পতিবার তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। রিমান্ড শেষে রবিবার তাদেরকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত নিহত গার্মেন্টস কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেন শুভ্র’র বাবা শাহাদাত হোসেন শিকদার বলেন, আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় টাকা দিয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করে ফেলেছে। তাই পুলিশ ঠিকমতো তদন্ত করছে না। তিনদিনের রিমান্ড শেষে আসামীদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও কিংবা পুনরায় রিমান্ডের আবেদন করলো না। এ থেকেই বুঝতে বাকী থাকেনা, পুলিশ যে প্রভাবিত হয়ে গেছে।

তিনি আরো বলেন, আমি শুরু থেকেই বলে আসছি আমার ছেলেকে খুন করা হয়েছে। তবুও মামলা নিতে দেরী করেছে। পোর্ষ্ট মর্টেম রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে শুভ্রকে শ^াসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাছাড়া গ্রেফতারকৃত জীবনের কাছ থেকে শুভ্র’র মোবাইল ও মানিব্যাগ পাওয়া গেছে। এতেই বোঝা যায় এই খুনের সাথে আসামীরা জড়িত। এদেরকে ঠিকমতো জিঞ্জাসাবাদ করলে প্রকৃত তথ্য বের হয়ে আসবে। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার উপ পরিদর্শক তুষার কান্তি দাশ নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে বলেন, রিমান্ডে আসামীদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। আমরা এখন সেগুলো যাচাই বাছাই করে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করবো।

মামলার তদন্তে গাফলতির বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা তুষার কান্তি দাশ বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না, প্রয়োজনে আপনি আমার স্যারের সাথে কথা বলেন।

এ বিষয়ে জানতে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামালউদ্দিনের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৫ আগষ্ট) রাতে মাসদাইর নিবাসী শাহাদাত হোসেন শিকদারের বড় ছেলে গার্মেন্টস কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেন শুভ’র লাশ নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় কয়েকজন যুবক। সন্দেহভাজন হিসেবে মাসদাইরের নাজমুল, জীবন ও মনাকে গ্রেফতার করে ৫৪ ধারায় আদালতে প্রেরণ করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর দেওয়া পোষ্ট মর্টেম রিপোর্টে হত্যার আলামত পাওয়ার পর নিহতের পিতা শাহাদাত হোসেন শিকদার বাদী হয়ে সাত জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো দুই তিনজনকে আসামী করে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। বৃহস্পতিবার (২৪ আগষ্ট) আদালত আসামীদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here