নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: ২৮ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জের বক্তাবলী ইউনিয়নের বিশিষ্ট দানবীর মেজবাহুল বারীর পুত্র কানাডা প্রবাসী প্রযুক্তিবীদ ও ব্যবসায়ী ফেরদৌস বারী জন এর ৪৬ তম জন্মদিন।

১৯৭২ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জ এর উত্তর চাষাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন ফেরদৌস বারী জন। পিতা দানবীর মেজবাহুল বারী এবং মাতা ফিরোজা বেগম। পিতা ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার নদী বেষ্টিত চরাঞ্চল এলাকা বক্তাবলী ইউনিয়নের তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং বিশিষ্ট সমাজ সেবক। তুলনামূলক অনগ্রসর এই অঞ্চলের উন্নতিতে উনার অবদান কিংবদন্তিতূল্য। শিক্ষাক্ষেত্রে পশ্চাৎপদ বক্তাবলীর শিক্ষাখাতের অগ্রগতি তৎকালীন সময়ের একমাত্র হাইস্কুল কানাইনগর সোবহানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসা স্থাপন সহ অসংখ্য উন্নয়নমূলক কাজ করেন। আজো এই অঞ্চলের মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্মরন করে মহানুভব দানবীর মেজবাহুল বারীর অসামান্য অবদানের কথা।

ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত ডানপিটে ও চঞ্চল স্বভাবের ফেরদৌস বারী জনের শৈশব ও বেড়ে ওঠা উত্তর চাষাড়াতে। স্কুল জীবনে মেধাবী ছাত্র হিসেবে ১৯৮৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। তোলারাম কলেজে পড়াকালীন উত্তাল সেই সময়ে ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত হয়ে পড়েন ফেরদৌস বারী জন। তৎকালীন ছাত্র রাজনীতিতে ছিলেন এক অতি পরিচিত মুখ।

১৯৯০ সালে USA যাত্রার মাধ্যমে দেশ ছেড়ে প্রবাসে পাড়ি জমান ফেরদৌস বারী। ১৯৯৩ সালে নিউ ইয়র্কের কিংস কলেজ থেকে CIS(Computer Information System) এর উপর ডিগ্রী অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে আমেরিকার বিখ্যাত টেলিকম কোম্পানি MCI তে যোগদান করেন। ১৯৯৭ সালে তিনি MCSE(Microsoft Certified System Engineer) ডিপ্লোমা ডিগ্রী অর্জন করেন এবং আমেরিকার সর্ববৃহৎ ইন্টারনেট ফাইবার অপটিক কোম্পানিতে লেভেল ৩ সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগদান করেন। নিউ ইয়র্কে থাকাকালীন সময়ে পরবর্তীতে নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুসের সাথে এসিস্টেন্ট হিসেবেও কাজ করেন তিনি।

২০০০ সালে সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কোন প্রকার ইন্টারভিউ ছাড়াই কানাডা সরকারের আমন্ত্রনে সেদেশে পাড়ি জমান এবং এরিকসন কানাডাতে ডাটাকম সার্ভিস ম্যানেজার হিসেবে যোগদান করেন।

পরবর্তীতে চাকরি ছেড়ে কানাডাতে উদীয়মান উদ্যোক্তা হিসেবে আত্নপ্রকাশ করেন এবং প্রতিষ্ঠা করেন Prime 2000 International inc. ২০০৩ সালে মিসবাহ মটরস এবং GTA Promotional প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ব্যবসার পরিধি আরো বড় করেন সফল এই ব্যবসায়ী।

প্রবাস জীবনের শুরু থেকেই নানারকম সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ফেরদৌস বারী সমাজ সেবার উদ্দেশ্যে প্রবাসে প্রতিষ্ঠা করেন Bari Global Foundation এবং Malvern-Scarborough community network & care। কানাডা ও বাংলাদেশের মধ্যে মেলবন্ধন গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন কানাডা বাংলাদেশ পাবলিক এফেয়ার কমিটি(CBPAC) যা কিনা বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। গত ১০ই জানুয়ারী কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সংবাদ সম্মেলনে CBPAC এর পক্ষ থেকে কানাডায় বসবাসরত বঙ্গবন্ধুর খুনী, ঘাতক নূর চৌধুরীকে দেশে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানান। নারায়ণগঞ্জ এর ছেলে হিসেবে এর আর্থ সামাজিক উন্নয়নে প্রত্যক্ষভাবে ভূমিকা রাখার উদ্দেশ্যে এবং সারা দুনিয়ায় বসবাসকারী সকল নারায়ণগঞ্জবাসীকে একটি প্ল্যাটফর্মে একত্রিত করার উদ্দেশ্যে ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেন নারায়ণগঞ্জ কালচার & এডুকেশন নারায়ণগঞ্জ, এনসিই ওয়ার্ল্ডওয়াইড যা কিনা ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। বর্তমানে প্রায় ত্রিশটির ও বেশী দেশে এই সংগঠনের কান্ট্রি ডিরেক্টর এবং অসংখ্য সদস্য রয়েছেন এবং ফেসবুকে এই সংগঠনের গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। ২০১৮ সালের ১লা জানুয়ারী প্রকাশক হিসেবে উনার তত্ত্বাবধানে আত্নপ্রকাশ করে নারায়ণগঞ্জ ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল narayanganjworldwide.com যা ইতিমধ্যে অনলাইন জগতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

কলেজে থাকাকালীন ছাত্র রাজনীতিতে জড়িত হওয়া ফেরদৌস বারী পরবর্তীতে প্রবাস জীবনেও বিভিন্নভাবে প্রত্যক্ষ রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ এবং বর্তমানে কানাডা আওয়ামীলীগ এর রাজনীতিতে জড়িত আছেন জনাব ফেরদৌস বারী জন।

২০১৭ সালে টরেন্টো সিটি কাউন্সিলর নির্বাচনে অংশগ্রহনের মাধ্যমে কানাডার মূল ধারার রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং প্রবাস মহলে ব্যাপক ভাবে আলোচিত হন ফেরদৌস বারী। লিবারেল পার্টি অব কানাডার Federal liberal Vice President হিসেবে কানাডার মূলধারার রাজনীতিবিদ হিসেবে আলোচনায় আসেন তিনি।

বর্তমানে কানাডায় বসবাসকারী ফেরদৌস বারী পারিবারিক জীবনে দুই সন্তানের জনক। স্ত্রী অজিয়ন বারী এবং দুই ছেলেকে নিয়ে উনার পরিবার। ভ্রমণপ্রিয় এই মানুষটি পৃথিবীর বিশটিরও বেশী দেশে ভ্রমণ করেছেন।

২৮শে ফেব্রুয়ারি সদালাপী, সজ্জন, বন্ধুবৎসল এবং পরোপকারী এই মানুষটির জন্মদিন। জন্মদিনে জনাব ফেরদৌস বারী জনকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমরা উনার দীর্ঘায়ু কামনা করি এবং আরো অনেক দিন আমাদের মাঝে থেকে সমাজ, দেশ ও জাতির কল্যানে আরো ভালো কাজ করে যাবেন এই প্রত্যাশা করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here