নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা ৩য় সেতুর পাইলিং নির্মানের উদ্বোধনীতে এসে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে জাতীয় শ্রমিকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রম কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ¦ কাউসার আহম্মেদের আলীগঞ্জের বাসায় ক্ষণিকের জন্য অবস্থান করায় বেশ ভেবেই নিয়েছিলেন তার সমর্থকেরা যে, পলাশই আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসন থেকে ‘নৌকার’ মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন।
পলাশের বাড়ীতে মন্ত্রীর হঠাৎ আগমন নিয়ে নারায়ণগঞ্জের ক্ষমতাসীন দলে রাজনীতিও কোনকাংশে কম হয়নি। যেন পলাশ সমর্থকসহ আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয় অনেকেই ভেবে নিয়েছিলেন, পলাশকে কাদের আশীর্বাদ করে গেছেন। আর পলাশই আগামীতে নিশ্চিত ‘নৌকার’ মাঝি হচ্ছেন।

কিন্তু পলাশ সমর্থকদের সেই ধ্যানধারনা এখন পাল্টাবে বলে দাবী করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, নির্বাচনী মাঠ তৈরীতে রীতিমত এগিয়ে গেছেন সাংসদ শামীম ওসমান। যা কিনা সম্ভব হয়েছে, সম্প্রতি ফতুল্লা থানাধীন ৫টি ইউনিয়নের প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে নির্বাচনী কেন্দ্র গঠনের লক্ষ্যে কর্মী সভার মাধ্যমে।

আর এক্ষেত্রে, দাবী মোতাবেক মন্ত্রীর আশীর্বাদ পেয়েও পিছিয়ে পড়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আরেক ‘নৌকা’ প্রত্যাশী আলহাজ¦ কাউসার আহম্মেদ পলাশ বলে দাবী করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

কারন হিসেবে তারা বলেন, পলাশ নির্বাচনের পথে এগুলেও তার পূর্বেই কেন্দ্র ভিত্তিক কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়ে কর্মী সভার মাধ্যমে তৃণমূলকে সুসংগঠিত করে ফেলেছেন এমপি শামীম ওসমান। যা কিনা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে পলাশের আগে করা উচিত ছিল। কেননা, পলাশ শ্রমিক রাজনীতিতে অভ্যস্ত। সেক্ষেত্রে দলীয় তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিজের করায়ত্বে আনতে কেন্দ্র কমিটি গঠনে তারই আগে উদ্যোগ নেয়া উচিত ছিল।

কিন্তু এখন শামীম ওসমানই নির্বাচনী কেন্দ্র ভিত্তিক কমিটি গঠনের কাজ শুরু করে দেয়ায়, পুনরায় কেন্দ্র ভিত্তিক কমিটি গঠনের প্রচেষ্টা চালালে পলাশকে বেশ বেগ পোহাতে হতে পারে বলে ধারনা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের বর্তমান সাংসদ হচ্ছেন প্রভাবশালী এমপি আলহাজ¦ একেএম শামীম ওসমান। যিনি নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার টিকেট না পেলেও দশম সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় এমপি নির্বাচিত হন। এরপর আওয়ামীলীগের জন্য জীবন উৎস্বর্গকারী এই সাংসদ নিজ এলাকার উন্নয়ণে নিরলস পরিশ্রম করে যান। উক্ত আসনের সবচেয়ে প্রধান সমস্যা ডিএনডি বাসীর দূর্ভোগ লাঘবে গত বছর একনেকে প্রায় সাড়ে ৫’শ কোটি টাকার প্রকল্প পাশ করিয়েছেন। আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তার পরিবারের অবদানের কারনে শামীম ওসমানকে আওয়ামীলীগ সভাপতি তথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও নিজের সন্তানতুল্য হিসেবে আদর শাসন করে থাকেন।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় এক-তৃতীয়াংশ নেতাকর্মীই শামীম ওসমানের সমর্থনে রাজনীতি করছেন। তাই দলের স্বার্থে শামীম ওসমানের ভূমিকা বেশী হওয়ায় আগামী সংসদ নির্বাচনে তাকেই নেত্রী পুনরায় মনোনয়ন দিবেন বলে প্রত্যাশা ব্যাক্ত করেছেন স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দরা।

তবে বিগত দুই বারের ন্যায় এবারও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে ‘নৌকা’র মনোনয়ন চাওয়ার প্রত্যাশা ব্যাক্ত করেছেন জাতীয় শ্রমিকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রম কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও শ্রমিক নেতা আলহাজ¦ কাউসার আহম্মেদ পলাশ।

তিনি বলেছিলেন, ‘বিগত নবম, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আমি নৌকার মনোনয়ন চেয়েছিলাম। তাই আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনেও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন চাইবো কিন্তু দেওয়ার মালিক হচ্ছেন আল্লাহ। ’

কিন্তু তৃণমূলের দাবী, যে যাই ভাবুক আর বলুক না কেন, নির্বাচনী মাঠে মনোনয়ন নিশ্চিতের লক্ষ্যে শামীম ওসমানের কাছে পরাজিত হয়ে গেছেন পলাশ।

যেই কারনে, একটি কর্মী সভায় পলাশ ইস্যুতে তৃণমূলের প্রশ্নের প্রেক্ষিতে শামীম ওসমান দাবী করে বলেছেন, ‘আমি শামীম ওসমান চাইলে আরো ৮/১০ জনের মনোনয়নও এনে দিতে পারি। তাই আমার মনোনয়ন নিয়ে দু:শ্চিন্তা করিনা। আমার মাতৃতুল্য নেত্রী শেখ হাসিনার উপর আমার আস্থা আছে। তিনি দলের নেতাকর্মীদের চাহিদা ও সিদ্ধান্তের বাহিরে কোন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিবেন না।’

তবে এব্যাপারে আলহাজ¦ কাউসার আহম্মেদ পলাশের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here