নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ দলের যারা বিভিন্ন আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহারে ‘বিশেষ অনুরোধ’ জানিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
কিন্তু নেত্রীর বিশেষ অনুরোধ রাখেনি, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত।

রবিবার (৯ ডিসেম্বর) মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষদিনেও তিনি তার মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেননি।

এরআগে, গত ৮ ডিসেম্বর শনিবার দুপুরে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ গণমাধ্যমে একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছিলেন।

বিজ্ঞপ্তিতে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষর দেয়া চিঠিতে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আপনার কাছে আমার বিশেষ অনুরোধ, ঐক্যবদ্ধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে আপনার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে মহাজোটকে বিজয়ী করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করবেন। আপনার ত্যাগ, শ্রম ও আন্তরিকতা সবকিছুই আমার বিবেচনায় আছে।’

চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের বলেছেন, ‘বিএনপি– জামায়াতের হিং¯্র থাবা থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করে বাংলাদেশকে টেকসই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে আমরা সমমনা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের প্রাণপ্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জয়লাভ করে আবারও বাংলাদেশের জনগণের সেবা করার সুযোগ পাবে। সেই বিজয়ের অংশীদার হবেন আপনিও। আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, আওয়ামী লীগ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে নৌকা মার্কাকে পরাজিত করার সাংগঠনিক শক্তি আর কারও নেই।’

‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আশা করি, আগামী নির্বাচনে আপনার নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগ ও মহাজোট মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে আপনার সকল সাংগঠনিক দক্ষতা, শক্তি ও সামর্থ্য আওয়ামী লীগের বিজয়কে সুনিশ্চিত করবে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশের গত এক দশকের অর্জিত উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে সংগঠনের একজন আদর্শবান, ত্যাগী ও বিশ্বস্ত নেতা হিসেবে সর্বস্তরের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা ও সার্বিক কর্মকান্ডে আপনার স্বতঃস্ফূর্ত ও সক্রিয় অংশগ্রহণ একান্তভাবে প্রত্যাশা করছি।’

প্রসঙ্গত, একাদশ সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে নৌকা প্রত্যাশায় প্রায় দেড় ডজন প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পত্র দাখিল করলেও মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে লাঙ্গলের প্রার্থী জাতীয় পার্টির এমপি লিয়াকত হোসেন খোকাকে আসনটি ছাড় দেয় আওয়ামীলীগ। পরবর্তীতে নৌকার মনোনয়ন সংগ্রহকারী অন্যান্য প্রার্থীরা মহাজোটের প্রার্থীর পক্ষেই থাকলেও মহাজোটের বিদ্রোহী হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য কায়সার হাসনাত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here