নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পরেও নগরীর ফুটপাতে হকার বসাকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সাংসদ আলহাজ¦ এ কে এম শামীম গরীবের পাশে থাকার ক্ষেত্রে অনড় অবস্থানে থাকলেও বসতে না দেয়ার ক্ষেত্রে অত:পর সেই কঠোর অবস্থান থেকে পিছু হটেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী।
বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারী) বিকেল ৫ টা থেকে বঙ্গবন্ধু সড়ক ব্যতীত অন্যান্য সড়কের ফুটপাতে হকাররা আবারো বসে ব্যবসা শুরু করেছে।

এতে করে শেষতক গরীবের বন্ধু শামীম ওসমানেরই প্রাথমিক জয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন মহল।

তাদের মতে, ‘গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে হকার উচ্ছেদ অভিযান শুরু হওয়ার পর আন্দোলনরত হকাররা যখন নগরমাতা আইভীর নিকট স্মারকলিপি নিয়ে গিয়েছিলেন, তখনই মেয়র চাইলে শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধু সড়ক ব্যতীত নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অন্য সড়কে বসার অনুমতি দিতে পারতেন। কিন্তু তখন তিনি সেটা না করে নগরীর কোন ফুটপাতেই হকারদের বসতে না দেয়ার ক্ষেত্রে কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করে নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন।’

‘কিন্তু তখন যদি নিজের অবস্থান থেকে ইউটার্ন নিয়ে আইভী বঙ্গবন্ধু সড়ক ব্যতীত নগরীর অন্যত্র ফুটপাতে হকারদের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বসতে দেয়ার সুযোগ দিতেন, তাহলে গত ১৬ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জে এমন সংঘর্ষের সৃষ্টি হতো না। আর শামীম ওসমানকেও হকারদের দাবীর প্রেক্ষিতে এতটা কঠোর হতে হতো না।’

সচেতন মহলের মতে, ‘শেষতক নগরমাতা আইভী ফুটপাতে বসতে তো হকারদের অনুমতি দিলেনই, মধ্যিখানে গোটা দেশবাসীর কাছে আবারো নারায়ণগঞ্জকে কলুষিত করেছেন। যা কারোই কাম্য ছিল না। কারন, আইভী যেমন জনস্বার্থে ফুটপাত হকারমুক্ত রাখতে অনড় অবস্থানে ছিলেন, তেমনি শামীম ওসমানও বিবেকের তাড়নায় গরীব মানুষের আর্তনাদে এতটা কঠোর হয়েছিলেন। যার ফলে শামীম ওসমান হকারদের ফুটপাতে বসার নির্দেশ দিতে বাধ্য হন।’

কিন্তু মেয়র ফুটপাতে কোনক্রমেই হকার বসতে না দেয়ার ক্ষেত্রে আন্দোলনে হকারদের পক্ষ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ চার আসনের সাংসদ শামীম ওসমান গত ১৫ জানুয়ারী ২৪ ঘন্টার সময় বেঁধে দিয়ে বলেন, ১৬ জানুয়ারী বিকেল সাড়ে চারটা থেকে নগরীর ফুটপাতে হকার বসবে। এটা আমার নির্দেশ। এর প্রেক্ষিতে পরদিন নগরীর ফুটপাতে হকার বসার চেষ্টা করলে প্রতিবাদে মেয়র আইভী সিটি কর্পোরেশন থেকে পায়ে হেটে চাষাড়া এলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধেঁ যায়।

এতে মেয়র আইভী ও বেশ কয়েকজন সাংবাদিকসহ সহ প্রায় শতাধিক লোক আহত হয়। এ ঘটনার পর থেকে মেয়র আইভী ও সাংসদ শামীম ওসমান পৃথকভাবে সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেন। নারায়ণগঞ্জ উত্তপ্ত হয়ে উঠে।

পরবর্তীতে ১৭ জানুয়ারী দুপুরে নগর ভবনে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের যৌথ বৈঠক শেষে নগরীর প্রধান সড়ক বঙ্গবন্ধু সড়ক ব্যতীত অন্যান্য কয়েকটি সড়কে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হকারদের বসার অনুমতি দেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী।

সভায় সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি হিসেবে মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি হিসেবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জসীম উদ্দিন হায়দার ও জেলা পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধি হিসেবে অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো: ফারুক হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার রাত দশটায় এ সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেন জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক।

তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু সড়ক ব্যতীত সিরাজউদ্দৌলা সড়ক, নবাব সলিমুল্লাহ সড়ক, চেম্বাররোড, খানপুর হাসপাতাল সম্মূখ সড়কে সাময়িক সময়ের জন্য হকার বসতে পারবে এমনই এক সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতিদিন বিকেল পাচঁটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত হকাররা বেচাকেনা করতে পারবে।

এসপি আরো জানান, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর সাথে মিটিং করে হকারদের বসার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ভাবে আলোচনা হয়। তবে সাময়িক সময়ের জন্য হকারদের শীতের কাপড় বেচাকেনার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মেয়র আইভী সিদ্ধান্ত দেন নগরীরর প্রধান সড়ক বঙ্গবন্ধু সড়ক ব্যতীত অন্যসড়কে হকার বসলে সিটি কর্পোরেশনের কোন আপত্তি নেই।

এরপর, বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ হকার্স সংগ্রাম পরিষদ সভাপতি মো: আসাদুল ইসলাম, সিপিবি জেলা সভাপতি কমরেড হাফিজুল ইসলাম ও মহানগর হকার্সলীগ সভাপতি আব্দুর রহিম মুন্সীকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে তলব করে জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া নাসিক, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১৯ জানুয়ারী বিকেল ৫ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সড়ক ব্যাতীত চেম্বার রোড, কালিবাজার সিরাউদ্দৌলা সড়ক, সলিমুল্লাহ সড়ক, খানপুর হাসপাতালের সামনে সড়কে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত হকারদের বসতে দেয়ার সম্মতির কথা জানান।

এব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ হকার্স সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি মো: আসাদুল ইসলাম আসাদ বলেন, ‘যেহেতু নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি মহোদয় ফোন করে বিদেশ থেকে আসার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সড়ক ব্যাতীত অন্য সড়কে হকারদের বসার অনুরোধ জানিয়েছেন, তাই তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমরা বৃহস্পতিবার থেকে অন্যত্র ফুটপাতে হকারদের বসতে বলেছি। দু’দিন পর এমপি সাহেব দেশে ফিরে আমাদের বসার ব্যাপারে সমাধান করার আশ^াস দিয়েছেন।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here