নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক এরা। ব্যানার সাঁটিয়ে সেই বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন করেছেন শোক সভা। যেখানে লেখা আছে ‘শোকাবহ আগষ্ট, শোকার্ত বাংলাদেশ’।
কিন্তু সেই শোক সভায় যখন একদিকে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে বক্তব্য রাখছিলেন নেতৃবৃন্দরা, ঠিক তখনই হাতে মুঠোফোন নিয়ে প্রোগ্রাম দেখায় ব্যস্ত সময় পার করেন সভার আয়োজক মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা। যা দেখে তাৎক্ষনিক কেউ কিছু বরতে না পারলেও সভা শেষে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থাকা একাধিক নেতা।

সোমবার (১৪ আগষ্ট) বিকেলে শহরের ২নং রেলগেটস্থ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মহানগর আওয়ামীলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় এমনই দৃশ্যের দেখা মিলে।

দেখাগেছে, সাংসদ শামীম ওসমানের প্রতি বিষেদাগার করে বক্তব্য দিতে গিয়ে যখন চোখের পানি ফেলছিলেন মহানগর যুব মহিলালীগের প্রথম কমিটির আহবায়ক নুরুন্নাহার, তখন পাশেই সভাপতির চেয়ারে বসে মুঠোফোন চাপতে থাকেন মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও একই আলোচনার সভার সভাপতিত্বকারী আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন।

শুধু যে আনোয়ার হোসেনই মুঠোফোন হাতে ব্যস্ত ছিলেন তা নয়, যেই সন্ধ্যার জন্য সম্প্রতি দরদ উতলে উঠেছিল মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মাহমুদা মালার, এখন সেই সন্ধ্যাই বক্তব্য দিতে দিতে চোখের জল মুছতে থাকলেও তাতে ভারাক্রান্ত না হয়ে পাশে বসা আরেক নেত্রীকে ফেসবুক দেখাতে ব্যস্ত থাকেন মালা।

যা দেখে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেক নেতাকর্মীকে কানাঘুষা করতে দেখা যায়।

বাদ যায়নি কিন্তু মালার বস্ মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও আলোচনা সভার সঞ্চালক এড. খোকন সাহাও। দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম আরাফাত যখন মাইক্রোফোন হাতে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন মুঠোফোনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। একই সময় মালাও ফেসবুকে ব্যস্ত ছিলেন।

জাতির পিতার স্মরণে অনুষ্ঠিত শোক সভায় শোকার্ত ভাবে থাকার পরিবর্তে খোদ শীর্ষ নেতাদেরই এমন আচরন দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন একাধিক নেতা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেই ফেলেন, ‘ভাই এটাই হচ্ছে মহানগর আওয়ামীলীগের শোকার্ত নেতাদের বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করার নমুনা!’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here