নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন মাসদাইরের গার্মেন্টস কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেন শুভ্র হত্যার ‘সুবিচার’ চেয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের পরিবার।

বুধবার (১ নভেম্বর) দুপুরে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত শুভ্র’র পিতা শাহাদাত হোসেন অশ্রুসজল কন্ঠে বলেন, শুভ্র এমবিএ পাশ করে প্লামী ফ্যাশন নামে একটি গার্মেন্টসে মার্চেন্ডাইজার পদে চাকরী করতো। এ বছর ১৫ আগষ্ট বিকাল চারটার দিকে দানেশ সাহার ছেলে জীবন মোবাইল ফোনে কল করে মাসদাইরের আদর্শ স্কুল সংলগ্ন মায়ের আচল নামক একটি নির্মাণাধীণ বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে জীবন ও তার অপর বন্ধু নাজমুল, সঞ্জয়, মিলন, বশির, সমীর, কাওসারসহ অজ্ঞাতনামা আরো দুই তিনজন শুভ্রকে মাথার পিছনে ও সামনে আঘাত করে ও শ^াসরোধ করে হত্যা করে। ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে শুভ্র’র মৃতদেহ ঐদিন রাত নয়টার দিকে খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ফেলে পালিয়ে যায়। হাসপাতালের সিসি ক্যামেরায় ধরা পরে বশির ও সমীর লাশ হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে যাচ্ছে। পরের দিন পুলিশ আসামী জীবনকে আটক করে এবং জীবনের কাছে শুভ্র’র মোবাইল ও মানিব্যাগ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে তখন মামলা করতে গেলে ফতুল্লা থানা পুলিশ মামলা নিতে রাজি হয় না। ঘটনার সাতদিন পর পোষ্ট মর্টেম রিপোর্ট হাতে পেয়ে পুলিশ মামলা নেয়। বর্তমানে চারজন আসামী পুলিশের কাছে আটক আছে এবং বাকীরা পলাতক।

ছেলের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন বাবা শাহাদাত হোসেন শিকদার। মামলাটি বর্তমানে সিআইডি’র তদন্তে রয়েছে কিন্তু কোন অগ্রগতি হচ্ছে না দাবী করে শাহাদাত বলেন, পিতার কাঁধে পুত্রের লাশ যে কত কষ্টদায়ক, তা ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ বুঝবে না। আমি এক পুত্রহারা পিতা ছেলে হত্যার বিচারের জন্য এখন সবার দ্বারে দ্বারে ঘুরছি, কিন্তু কোথাও কোন সুবিচার পাচ্ছি না। আসামীদের দুইবার রিমান্ডে নেয়া হলেও তাদের কাছ থেকে কোন তথ্য বের করতে পারেনি তারা। এখন আমরা পরিবারের লোকজন ‘অধিক শোকে পাথর’ হয়ে গেছি। তাই সন্তান হত্যার সুষ্ঠ বিচার পাওয়ার আশায় সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, মামলাটি যথাযথ আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করে আসামীদের বিচারের কাঠগড়ায় সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন নিহত শুভ্র’র মা শাহনাজ শিকদার, স্ত্রী শাকিলা আকতার, দাদা আওলাদ হোসেন শিকদারসহ পরিবারের সদস্যরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here