নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ ৫ আসন সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বলেন, ‘দিনক্ষণ বুঝি না, ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করতে না পারলে কারখানার দরজায় তালা দেয়া হবে।’

মঙ্গলবার (২০ জুন) বিকেলে জেলা প্রশাসন এবং জেলা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ঈদ-উল-ফিতর পূর্ববর্তী জেলা আঞ্চলিক ক্রাইসিস প্রতিরোধ কমিটির সভায় এ কথা বলেন সেলিম ওসমান।

সেলিম ওসমান আরো বলেন. যত দোষ সব নন্দ ঘোষ, সব দোষ বিকেএমই’র । ডিসি সাহেব ২৪টি কারখানার নাম বলতে চাওয়াতে বাধা দিয়েছি কারণ আমাদের মনিটরিং আছে। নামধারী কিছু গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী আছে যারা চুরি করা বিদ্যুৎ-গ্যাস লাইন সংযোগে শুধুমাত্র ট্রেড লাইসেন্সের বিনিময়ে অমুক গার্মেন্টস অমুক নীট ওয়ার্সের নামে এক্সপোর্ট পর্যন্ত করে যাচ্ছে শুধু মাত্র কালো টাকা দেশের বাইরে পাঠানোর জন্য। আমদের শনাক্ত করা এসব গার্মেন্টসগুলো বার বার আমাদের বিব্রতকর অবস্থার সম্মুখিন করছে। তাদের কাছে আগুন নিবারনে বালুর বালতি বা পানির বালতি পর্যন্ত নেই। কলকারখানা কি লাইসেন্সধারীটা, নাকি লাইসেন্স ছাড়াটা ? কোন কোন প্রতিষ্ঠানে সমস্যা হলেই আপনারা লোক পাঠিয়ে আমাকে ফোন করা শুরু করেন। দর্জির দোকানতো আর গার্মেন্টস হতে পারে না। বিকেএমইএ মেম্বার সনাক্তে অচিরেই লাইসেন্সের চিপ লাগিয়ে দেয়া হবে। তাছাড়া সিটি কর্পোরেশনেরও দেখা উচিত আমি যাকে ট্রেড লাইসেন্স দিচ্ছি সে গার্মেন্টস/নীটওয়্যার নামটা ব্যবহার করতে পারে কি না তাদের সেই সামর্থ আছে কিনা। প্রায় ৪ শত কোটি টাকা আমরা বিতরণ করেছি যেন বেতন পরিশোধে কোন মালিক টাল বাহানা না করতে পারে।

‘দিনক্ষণ বুঝি না, ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করতে না পারলে গার্মেন্টেসের দরজায় তালা দেয়া হবে। হয় বেতনের সঙ্গে বোনাস নয় বোনাসের সঙ্গে অর্ধেক বেতন। ’

তিনি আরো বলেন, ‘এমন অনেক পরিবার আছে যারা চাইতেও পারে না। এখানে আমরা প্রত্যেকে নিজের পরিবারের সদস্য মনে করি আশেপাশের দু:স্থ পরিবারের একটি সদস্যকে দায়িত্ব গ্রহন করি। এই ঈদে নারায়ণগঞ্জে একটি পরিবারও যেন ক্ষুদার্ত না থাকে।’

তিনি আরো বলেন, ‘রাস্তা-ঘাট সমস্যা হলে আমরা এক্সপোর্ট বন্ধ করে পর্যায়ক্রমে শ্রমিকদের ছুটি আমি দিতে পারবো না। এই ছুটির বিষয়টি উদ্যোক্তা শ্রমিকের উভয়ের বোঝাপড়ার মধ্যে হবে। শতকরা ৭০ ভাগ শ্রমিক বাস রিজার্ভ করে ঈদের আগে বাড়িতে যায়। এক রুটের গাড়ি অন্য রুটে যাওয়াতে কোন সমস্য যেন না হয় সে দিকে প্রশাসন একটু লক্ষ্য রাখবেন। শহরের যানজট নিরসনে সিটি কর্পোরেশনকেও প্রতিটি রিক্সায় চিপ লাগিয়ে দিতে পারেন। দেশ যেহেতু ডিজিটাল হচ্ছে তাদেরকেও ডিজিটালের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। যদি তাদের আর্থিক কোন সমস্যা থাকে তাহলে তারা কোন একটি কোম্পানির কাছ থেকে স্পন্সার নিতে পারেন। ঈদের আগে ছিনতাই, মলম পার্টি থেকে নিরাপত্তা প্রদানসহ ঈদে শহর খালি হওয়াতে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা নির্মূলে শতভাগ খেয়াল রেখে রাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে হবে।’

জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া বলেন, বিশেষ করে ঈদের কয়েকটা দিন যানজট নিরশনে মেঘনা ব্রীজে ম্যানুয়ালী টোল গ্রহন করলে খুব ভাল হয়। এসময় তিনি জন নিরাপত্তা রক্ষা ও জন দুর্ভোগ নির্মূলে প্রশাসন কর্মকত-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধিসহ সকলকে সহযোগীতার আহ্বান জানান। এছাড়া শ্রমিকদের যাতে কোন প্রকারে উস্কে দেয়া না হয় এ বিষয়ে সকলের প্রতি আহবান জানান তিনি।

ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি কাউসার আহম্মেদ পলাশ বলেন, ‘এরকমও দেখা গেছে ঈদের আগের দিন রাতে অর্থাৎ চাঁদ রাতে বেতন বোনাস প্রদানে সারা রাত পার করে ঈদের নামাজ পড়ে বাসায় ঘুমোতে হয়েছে। এরকম যেন আর না ঘটে সে জন্য আপনাদের পূর্ণ সহযোগীতা কামনা করছি।’

রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা বাবলী, সিভিল সার্জন ডা. এহছানুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সরোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান, র‌্যাব ১১ এর ক্যাম্প ইনচার্জ ইকবাল হোসেন, বিকেএমইএ’র সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, সহসভাপতি (অর্থ) জিএম ফারুক, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠানসমূহের উপ মহাপরিদর্শক আসাদুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাসনিম জেবিন বিনতে শেখে, বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমি হাবিব,গার্মেন্ট শ্রমিক নেতা গোলাম কাদির, সেলিম মাহমুদ, ইকবাল হোসেন প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here