নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: শ্রম আইন লঙ্ঘন করে সপ্তাহে ৭ দিনই শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জের ডন চেম্বার ফার্নিচার ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। শ্রম আইনে সাপ্তাহিক ছুটির বিধান থাকলেও তা মোটেও তোয়াক্কা করছেন না এ সকল ফার্নিচার ব্যবসায়ীরা। ফলে এই মার্কেটের প্রায় ১০০ দোকানের ৩০০/৪০০ শ্রমিক সাপ্তাহিক ছুৃটির অভাবে স্বাভাবিক জীবন ক্রমেই হারাতে বসেছেন। তাই এ বিষয়ে সুষ্ঠ সমাধানের আশায় তারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সরেজমিনে ডন চেম্বারের ফার্নিচার মার্কেটে গিয়ে মিলেছে অভিযোগের সত্যতা। মার্কেটের প্রায় প্রতিটি দোকানই সপ্তাহে সাতদিন খোলা রাখা হয়। শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের প্রায় সব মার্কেট বন্ধ থাকলেও এই মার্কেট সেদিনও খোলা থাকে।
এ সময় এই মার্কেটের শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, আমরা কোন মানুষের কাতারেই পরি না। আমাদের কোন নিজস্ব জীবন বলতে কিছু নেই। সপ্তাহে সাতদিন আর মাসে ত্রিশ দিনই আমাদের সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়। পরিবার পরিজনকে দেওয়ার মতো সময় আমাদের হয় না। শুধু কলুর বলদের মতো খেটেই মরি। সাপ্তাহিক ছুটির দাবী করলে চাকুরী ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি আসে। এই মার্কেটের খাজা বাবা ফার্নিচারের শ্রমিক বাসু দেব, ন্যাশনাল ফার্নিচারের শ্রমিক মাহবুব, চাঁদপুর ফার্নিচারের শ্রমিক হানিফ, খাজা ফার্নিচারের ম্যানেজার সোহাগ, শ্রমিক লিটনসহ অন্যান্য শ্রমিকরা আরো জানায়, চাকুরী হারানোর ভয়ে আমরা কোন প্রতিবাদ করতে সাহস পাই না। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কাজ করলে আমাদের বাড়তি কোন টাকাও দেয় না। এমনকি কোন ওভার টাইমের নিয়মও নেই। তাই বড় কষ্টে আছে এই মার্কেটের শ্রমিকরা। আমরা সপ্তাহে অন্তত একদিন ছুটি চাই। যাতে করে সারা সপ্তাহ কাজের পর পরিবার পরিজন নিয়ে একটু নিরিবিলিতে সময় কাটাতে পারি।
এব্যাপারে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শণ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ জেলার উপ মহা পরিদর্শক আসাদুজ্জামান এ বিষয়ে নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে বলেন, এ পর্যন্ত কোন শ্রমিক আমাদের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেনি। তারপরও আমি সংশ্লিষ্ট পরিদর্শককে ডন চেম্বার মার্কেটে পাঠাবো বিষয়টি তদন্তের জন্য।
আর শ্রম আইন লঙ্ঘন করে সপ্তাহে সাত দিনই দোকান খোলা রেখে শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানোর বিষয়ে আল আমিন ফার্নিচারের মালিক শুক্কুর মিয়া ও চাঁদপুর ফার্নিচারের মালিক সৈয়দ মিয়া নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে বলেন, মার্কেটের সবাই খোলা রাখে, তাই আমরাও খোলা রাখি। সবাই বন্ধ রাখলে আমরাও সপ্তাহে একদিন বন্ধ রাখবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here