নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: শ্রাবণের অবিরাম বর্ষণে জলাবদ্ধ নগরীতে চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছে জনসাধারন। প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি সর্বত্রই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার কারনে এ যেন মরার উপড় খারার ঘাঁ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) সকাল থেকে শ্রাবণের অবিরাম বৃষ্টির কারনে অনেকটাই অচল হয়ে পরেছে নগর জীবন। অতি বৃষ্টির কারনে নগরীতে দেখা দিয়েছে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। শহরের রাস্তায়গুলোর ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশার কারনে চরম আকার ধারন করেছে। আবহাওয়া অফিসের সূত্র মতে এই বৃষ্টিপাত আরও দুই এক দিন থাকার সম্ভবনা রয়েছে বলে জানা যায়।

এদিকে বৃষ্টির কারনে বিপর্যস্ত হয়ে পরেছে নগরী সবচেয়ে বড় বাজার দিগুবাবু বাজার এর কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা।

তারা জানান, টানা বৃষ্টির কারনে দূর-দুরান্ত থেকে তাদের কাঁচামাল আনতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া বৃষ্টির কারনে কাঁচামাল কিনতে আসতে পারছেনা ক্রেতা সাধারনরা। বেঁচা-কেনা অন্যান্য দিনের তুলনায় কম রয়েছে। বৃষ্টির কারনে সবচেয়ে বেশী ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্কুল-কলেজ এর ছাত্র-ছাত্রীরা। যাতায়াতে তাদেরকে ছাতা অথবা রেইনকোর্ট ব্যবহার করতে হচ্ছে। বৃষ্টিতে ভিজে অনেকে আক্রান্ত হচ্ছেন ঠান্ডাজনিত রোগে।

আর রিক্সাচালকরা এই বৃষ্টির মধ্যেই নিজেদের জীবন ও জীবিকার তাগিতে ভিজে ভিজে চালাচ্ছেন রিক্সা। তাদের নেই কোন অসুস্থ্য হওয়ার ভয়। একটাই চিন্তা তাদের টাকা রোজগার করতে হবে তা না হলে সংসার নামের চাকা তো আর ঘুরবে না তাদের। অনাহারে আর অর্ধাহারে থাকতে হবে স্ত্রী সন্তানদের।

দীর্ঘদিন নগরীতে রিক্সা চালাচ্ছেন সোবাহান মিয়া (৩৮)। তার বাড়ি জয়পুরহাট জেলায়। পরিবার নিয়ে ফতুল্লার ভোলাইল এলাকায় থাকেন। কথা হয় তার সাথে। কোন অসুবিদা হয়না এই বৃষ্টির মধ্যে রিক্সা চালাতে? এমন প্রশ্নের উত্তরে সোবাহান মিয়া অকপটে বলে উঠেন স্যার গরীবের রোদ আর বৃষ্টি বলে কোন কথা নেই,তাদের কাছে দুটোই সমান। যত বৃষ্টিই হোক না কেন টাকা না পেলে তার পরিবার যে অনাহারে থাকবে। শুধুমাত্র পেটের ক্ষুধায় তাদের এই বৃষ্টি উপেক্ষা করে চালাতে হয় রিক্সা নামক গাড়িটি এমনটাই জানালেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here