নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাসমিন বিনতে জেবিন শেখের প্রত্যাহার দাবীতে জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছে এলাকাবাসী।
রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারী) সকাল ১১টায় ফতুল্লার সস্তাপুর, কোতালেরবাগ, কুতুবআইল ও ইসদাইরসহ ৪টি এলাকার জনসাধারন এ বিক্ষোভে অংশ নেয়।

বিক্ষোভকারীরা ইউএনও’র বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অসদচারণ, ফাইল আটকিয়ে ঘুষ দাবী ও দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ এনে মন্ত্রী পরিষদ সচিব, বিভাগীয় কমিশনার ও দুদকে দেয়া গণস্বাক্ষর সম্বলিত অভিযোগপত্রের একটি অনুলিপি জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাসমিন বিনতে জেবিন শেখ যোগদানের পর থেকে এলাকাবাসী চরম হয়রানীর শিকার হচ্ছে। ঘুষ ছাড়া ইউএনও তাসমিন বিনতে জেবিন শেখ কোন ফাইল ছাড়েন না। জনসাধারনের ব্যবসায়ীক ও সামাজিক বিভিন্ন কাজের ও আবেদনের যেকোন ফাইল মাসের পর মাস ঘুষের জন্য আটকিয়ে রাখেন। এছাড়া অনেক ফাইল রয়েছে চাহিদা মত ঘুষের টাকা না পেয়ে এক বছর ধরে তার অফিসে ফেলে রেখেছেন। সদরের ৫৯ জন গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাসের পর মাস সরকারী ভাতা না দিয়ে ঘুরাচ্ছেন। ফলে অনাহারে- অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের পরিবারবর্গ।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে কর্মরত নৈশপ্রহরী শ্যামল বৈদ্য নারায়ণগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা না হয়েও সরকারী চাকুরী নিয়েছেন। তথ্য গোপন রেখে স্থায়ী বাসিন্দা উল্লেখ করে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ন প্রতিষ্ঠান জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে চাকুরী করছে। একই সঙ্গে ইউএনও’র যোগশাযোশে সরকারী জমি একসোনা লীজ নিয়ে তা অন্যত্রে বিক্রি করে দিচ্ছে। এবিষয়ে ইউএনও’র কাছে অভিযোগ করা হলেও তিনি কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে একাধীক সরকারী জমি লীজ নিয়ে তা বিক্রি করে দিয়েছে।

ইউএনও তার এক আত্মীয়কে প্রতিদিন সরকারী গাড়ি দিয়ে ঢাকায় বেসরকারী একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্থানে নামিয়ে দিতে গাড়ি চালককে চাপ প্রয়োগ করেন। ফলে বাধ্য হয়ে অবৈধ আদেশ পালন করেন সরকারী গাড়ি চালক রাজকুমার।

সদর উপজেলা কমপ্লেক্সের পাশে ফতুল্লার সস্তাপুরে বিক্রি করে দেয়া দেড় শতাংশ সরকারী জমি উদ্ধার করে একটি তালিমুল কোরআন নামে একটি এমিতখানা ও মাদ্রাসার পক্ষ থেকে ইউএনও’র কাছে লিজ দাবী করা হয়। ইউএনও তাসমিন বিনতে জেবিন শেখ সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে ফতুল্লা ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের দিয়ে দুই দফা তদন্ত করিয়ে সরকারি জমি বিক্রি করে দেয়ার প্রমান পায়। এরপর এমিতখানা ও মাদ্রাসার আবেদনকারীর কাছে লিজ দেয়ার জন্য দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবী করেন ইউএনও। এতে ওই এমিতখানা ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অস্বীকৃতি জানালে তাদের আবেদন প্রায় এক বছর যাবত ফাইলবন্দি করে রেখেছেন। এভাবে একাধীক লোকের ফাইলবন্ধি আছে ইউএনওর কাছে।

এলাকাবাসী কোন সমস্যা নিয়ে ইউএনও’র সাথে দেখা করলে তিনি অসৌজন্যমূলক ও রূঢ় আচরণ করে তাড়িয়ে দেন।

কথায় কথায় উপজেলায় কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতা বন্ধ করে দেয়। নৈশ প্রহরী মাহবুবকে ইউএনও তার কোয়াটারে নিয়ে বাবুর্চির কাজ করায়। এতে রান্নায় কোন সমস্যা হলে মাহবুবের বেতন থেকে টাকা কেটে রাখেন। দীর্ঘদিন ধরে এমন নির্যাতনের মুখে থাকলেও চাকুরী হারানোর ভয়ে কোন প্রতিবাদ করেনা।

ফতুল্লায় পশু জবাইখানা (পিলখানা) না থাকলেও একটি সন্ত্রাসী বাহিনীকে বছরের পর বছর ধরে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে ইজারা দিয়ে যাচ্ছে ইউএনও। এ নিয়ে প্রায় সময় বিভিন্ন বাজারে মাংস বিক্রেতাদের সঙ্গে কথিত ইজারাদাদের বাগবিতন্ডা হয়।

উপজেলা কমপ্লেক্সের ভিতরে মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীদের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে ইউএনও’র কাছে একাধিকবার মৌখিক ভাবে জানালেও তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি।

সম্প্রতি সদর উপজেলা পরিষদ মসজিদের ইমাম ও খতিব ফয়জুল্লাহ এলাকাবাসীর কাছে একজন জনপ্রিয় ব্যক্তি। রহস্যজনক কারনে ইমাম ফয়জুল্লাহকে সেচ্চায় অব্যহতি নিয়ে আত্মগোপন করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছে ইউএনও। সেচ্ছায় অব্যাহতি পত্র ইউএনওর কাছে জমা না দিলে বড় ধরনের ক্ষতি করবে বলে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তাকে দিয়ে হুমকিও দেয়া হয়। এর প্রতিবাদে কয়েক দফা মুসল্লিরা বিক্ষোভও করেছে।

ইউএনও তাসমিন বিনতে জেবিন শেখ সদর উপজেলায় যোগদানের পর উপজেলা কমপ্লেক্সের ভিতরে এলাকাবাসীর টাকা নির্মিত তিন তলা বিশিষ্ট মসজিদের নির্মান কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়।

ইউপির জনপ্রতিনিধিরাও তার প্রতি অসুন্তুষ্ট। যেকোন কাজে ইউএনও কমিশনের নামে ঘুষ দাবী করে বসেন। ফলে ইউএনও’র ঘুষ দিয়ে চাহিদা মত উন্নয়ন কাজ করতে পারেনা জনপ্রতিনিধিরা। নানা সমস্যার কারনে জনপ্রতিনিধিরা ইউএনও’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারেননা।

উপজেলা কার্যালয়ের কাজে ব্যবহৃত চিঠির খাম ইউএনও নিজেই ক্রয় করে এনে মোটা অঙ্কের টাকার বিল পাশ করিয়ে নিয়েছেন। এনিয়ে উপজেলায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সমালোচনায় এলাকাবাসীর মধ্যে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে।

নারায়ণগঞ্জ শহরতলীতে অল্পবৃস্টি হলেই হাটু পানিতে তলিয়ে যায় গুরুত্বপূর্ন সড়ক গুলো। এবিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ইউএনও তাসমিন বিনতে জেবিন শেখের কাছে এলাকাবাসী একাধিকবার গিয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য দাবী জানালেও তিনি কোন কথাই কানে নেননি। উল্টো পূর্বের ইউএনও আফরোজা আক্তার চৌধুরীর ৬০ লাখ টাকার দুর্নীতির কথা শুনিয়েছেন। পূর্বের ইউএনওর দুর্নীতির কারণে তিনি দুর্ভোগের বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নিবেন না বলে গোঁ ধরে থাকেন। কয়েক মাস এলাকাবাসী পরিবার পরিজন নিয়ে পানিবন্দি হয়ে থাকলেও ইউএনও একটি বারের জন্যও খোঁজ খবরটি পর্যন্ত নেয়নি।

এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন নিয়ে ঘুষ বানিজ্য করেন ইউএনও। দাবীকৃত ঘুষের টাকা না পেলে নির্বাচনের প্রার্থীদের নানা ভাবে হয়রানী করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here